ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেনের রেলপথ নির্মাণে আইনি বাধা কাটল

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও চার লেনের রেলপথ নির্মাণে আইনি বাধা কাটল

ফন্ট সাইজ:

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান কাজ এবং এর নিচ দিয়ে চার লেন বিশিষ্ট রেলপথ নির্মাণকাজে দীর্ঘ ৭ বছর ধরে চলা আইনি জটিলতার অবসান হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আদেশের ফলে এই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনার পথে আর কোনো আইনি বাধা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যার্টনী জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবকাশকালীন চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের আদালত সরকারের পক্ষে এ আদেশ দেন। আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে এবং এর নিচে চার লেনের রেললাইন নির্মাণে সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো বাধা নেই।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে অ্যাটর্নী জেনারেল বলেন, মগবাজারের পেয়ারাবাগ অংশের জমির মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দাবি ও পাল্টা দাবি চলছিল। মূলত এর জেরেই বিগত ৭ বছর যাবত ওই অংশের উন্নয়ন কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। মোস্তাফিজুর রহমানের দাবি ছিল, ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে ২০১৯ সালে তিনি মামলা করেন এবং সে বছর ২৯শে মে তার পক্ষে রায় আসে। তখন ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত না থাকায় সরকার প্রাথমিকভাবে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও আদেশ পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে আপিল ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সরকারের পক্ষ থেকে আপিল করা হয় এবং ২০২৬ সালের ২রা সেপ্টেম্বর রেলওয়ের পক্ষে রায় ঘোষণা করা হয়। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে এ এম মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্ট বিভাগে ১৩৮৯২/২০২৬ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করলে গত ২৮শে সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে হাইকোর্ট বিভাগ স্থিতাবস্থা জারি করেন। ফলে কাজ আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে।

হাইকোর্টের ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ, রেলওয়ে মন্ত্রণালয়, ডিসি ও সেটেলমেন্ট অফিসারের পক্ষ থেকে আপিল বিভাগে সিভিল মিসলেনিয়াস পিটিশন (নম্বর ৯৯৪/২০২৬) দায়ের করা হয়। অবকাশকালীন বিচারপতির বিশেষ অনুমতি নিয়ে এদিন বিকেল ৫টার দিকে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল জনাব আসাদুফ রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ওসমান চৌধুরী। অপরপক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট মো. নুরুল আমিন।

শুনানি শেষে আদালত উন্নয়ন কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে জমির মালিকানার সপক্ষে এ এম মোস্তাফিজুর রহমানের দাবিকৃত ক্ষতিপূরণ বা ‘অ্যাওয়ার্ড মানি’ পাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আদালত নির্দেশনা প্রদান করেছেন।