বিশ্বের শীর্ষ উদ্ভাবনী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ১০৬ তম

বিশ্বের শীর্ষ উদ্ভাবনী দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ ১০৬ তম

ফন্ট সাইজ:

বিশ্ব মেধাসম্পদ সংস্থার (ডব্লিউআইপিও) প্রকাশিত বৈশ্বিক উদ্ভাবন সূচকে (গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স ২০২৬) বাংলাদেশ ১৩৯টি দেশের মধ্যে ১০৬তম অবস্থানে রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণায় ঘাটতি এবং বিভিন্ন সূচকে পিছিয়ে থাকার কারণে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তালিকার নিচের দিকেই।

একটি দেশের সামগ্রিক উদ্ভাবন সক্ষমতা পরিমাপে ডব্লিউআইপিও মোট ৭৯টি সূচক ও দুটি প্রধান দিক (ইনপুট ও আউটপুট) আমলে নেয়। ইনপুট হিসেবে বিবেচনা করা হয়Ñ দেশের প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ (রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও সরকারি নীতি), মানবসম্পদ ও গবেষণা (শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মান এবং গবেষণায় সরকারি-বেসরকারি ব্যয়), অবকাঠামো (তথ্যপ্রযুক্তি সুবিধা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও লজিস্টিকস সক্ষমতা), বাজারের পরিপক্বতা (সহজে ঋণ ও বিনিয়োগ পাওয়ার সুবিধা এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল) এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ (জ্ঞানভিত্তিক কর্মী, উচ্চপ্রযুক্তি আমদানি ও করপোরেট গবেষণা)। অন্যদিকে আউটপুট হিসেবে বিবেচনা করা হয় উদ্ভাবনের বাস্তব ফলাফলÑ যেমন পেটেন্ট আবেদন, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা, উচ্চপ্রযুক্তি পণ্য রপ্তানি, ডিজিটাল সেবা এবং সৃজনশীল পণ্য ও সেবার উৎপাদন। এসবের সমন্বয়েই নির্ধারিত হয় কোনো দেশের চূড়ান্ত অবস্থান। ডব্লিউআইপিও-এর ২০২৬ সালের সূচক অনুযায়ী, বিশ্বে উদ্ভাবনে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে সুইজারল্যান্ড। ২০১১ সাল থেকে টানা প্রথম স্থানে রয়েছে দেশটি। তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সুইডেন। সামগ্রিকভাবে আমেরিকা তৃতীয় স্থান ধরে রেখেছে, যা ২০২৩ থেকে একই রয়েছে । চতুর্থ স্থানে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া এবং পঞ্চম স্থানে সিঙ্গাপুর। এরপর শীর্ষ দশে থাকা অন্য দেশগুলো যথাক্রমে যুক্তরাজ্য (ষষ্ঠ), নেদারল্যান্ডস (সপ্তম), ফিনল্যান্ড (অষ্টম), ডেনমার্ক (নবম) এবং চীন (দশম)। একাদশ থেকে পঞ্চদশ স্থানে রয়েছে যথাক্রমে জার্মানি (১১তম), জাপান (১২তম), ফ্রান্স (১৩তম), হংকং (১৪তম) এবং কানাডা (১৫তম)।

আমেরিকা সামগ্রিক তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকলেও গভীর পর্যালোচনায় দেখা যায়, ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর দেশটির অভ্যন্তরীণ কিছু সূচকে অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে তালিকায় চতুর্থ স্থানে থাকা দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে আমেরিকার উদ্ভাবনী ব্যবধান কমে এসেছে। তাছাড়া ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, আইনি ও পরিচালনগত ঝুঁকি মাপার সূচকে আমেরিকা গত বছর ছিল ২৩তম অবস্থানে, যা এ বছর নেমে ৩৬তম অবস্থানে পৌঁছেছে। উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণার লড়াইয়েও আমেরিকা কঠোর প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে। প্রযুক্তির বিকাশ সংক্রান্ত ‘ডিপ-সায়েন্স’ স্টার্টআপের ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৭৫২টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে আমেরিকা এখনো শীর্ষে থাকলেও চীন অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে। ২০২৫ সালে চীনের ডিপ-সায়েন্স স্টার্টআপের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৬৬টিতে, যা গত পাঁচ বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। চীনের এই ধারাবাহিক অগ্রগতি আমেরিকার নীতিনির্ধারকদের নতুন করে উদ্বেগে ফেলেছে। এদিকে উদ্ভাবন তালিকায় বড় ধরনের অগ্রগতি দেখিয়েছে সৌদি আরব। ব্যাপক প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানোর ফলে ২০১৯ সালে দেশটির অবস্থান যেখানে ছিল ৬৮তম, ২০২৬ সালে তা লাফিয়ে ৪২তম অবস্থানে উঠে এসেছে। একই সময়ে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার সূচকে দেশটি ১০৪তম অবস্থান থেকে ২৫তম স্থানে পৌঁছেছে।

সূত্র: দ্য ইকনোমিস্ট