তারেক রহমান সরকারের মেয়াদকালের মাঝামাঝিতে সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও নীতিগত অগ্রাধিকার
ফাইল ছবি

তারেক রহমান সরকারের মেয়াদকালের মাঝামাঝিতে সম্ভাবনা, ঝুঁকি ও নীতিগত অগ্রাধিকার

ফন্ট সাইজ:

একটি সরকারের সাফল্য তার প্রথম কয়েক মাসের ঘোষণা দিয়ে বিচার করা যায় না। আবার পাঁচ বছর শেষে ফলাফলের হিসাব নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করাও বুদ্ধিমানের কাজ নয়। মেয়াদের মাঝপথই আত্মসমালোচনা, অর্জন যাচাই এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের উপযুক্ত সময়। তখন দেখা দরকার, সরকার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তার কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে, সাধারণ মানুষের জীবনে কী পরিবর্তন এসেছে এবং সামনে কোন ঝুঁকিগুলো মোকাবিলা করা জরুরি।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের ক্ষেত্রেও এই মূল্যায়ন জরুরি। সরকারের অর্জন স্বীকার করতে হবে, সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করতে হবে এবং ভবিষ্যৎ নীতির অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে তথ্যের ভিত্তিতে, রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।

প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তব ফল

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব গ্রহণের সময় সরকার অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নানা দুর্বলতার মুখোমুখি হয়। ব্যাংক খাতের অনিয়ম, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগের মন্থর গতি, সীমিত রাজস্ব আহরণ, জ্বালানি সরবরাহের সমস্যা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর নাগরিকদের প্রত্যাশাও বদলেছে। তাঁরা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের আচরণ, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং দৈনন্দিন সেবায় পরিবর্তন দেখতে চান।
নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচিতে পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড, কৃষিঋণ মওকুফ, খাদ্যসহায়তা, তরুণ উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মতো উদ্যোগ স্থান পেয়েছে। এসব কর্মসূচি মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তবে ঘোষণা, সুবিধাভোগী নির্বাচন এবং দীর্ঘস্থায়ী সুফল নিশ্চিত করা এক বিষয় নয়। কর্মসূচির সাফল্য নির্ভর করবে সহায়তা কতটা ন্যায্যভাবে পৌঁছাল, অপচয় কতটা কমল এবং মানুষের আয় ও জীবনযাত্রায় কতটা উন্নতি হলো, তার ওপর।

অর্থনীতি: সবচেয়ে বড় পরীক্ষা

বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর ২০২৬-এর Bangladesh Development Update অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি আনুমানিক ৩.৪ শতাংশে নেমেছে। ২০২৭ অর্থবছরের জন্যও একই হারে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বিনিয়োগের দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, ব্যাংক খাতের ঝুঁকি ও রাজস্ব আহরণের সীমাবদ্ধতাকে প্রতিবেদনে প্রবৃদ্ধির পথে বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ও ৭.৫ শতাংশ মূল্যস্ফীতির লক্ষ্য অর্জন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। লক্ষ্য নির্ধারণ প্রয়োজন, কিন্তু লক্ষ্য নিজে কোনো অর্জন নয়। বিনিয়োগ, উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রাজস্ব আহরণে বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জন কঠিন।
সরকারের কাছে তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিত: ২০২৮ সালের মাঝামাঝি একজন সাধারণ নাগরিক তাঁর জীবনে কী পরিবর্তন দেখতে পাবেন? তাঁর আয় কি নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয়ের সঙ্গে তাল মেলাতে পারবে? ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কি নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ ও গ্যাস পাবেন? উদ্যোক্তা কি যুক্তিসংগত শর্তে ঋণ পাবেন? সরকার কি উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষার ব্যয় মেটানোর মতো রাজস্ব সংগ্রহ করতে পারবে?
বিএনপির অর্থনৈতিক কর্মসূচির সাফল্য শেষ পর্যন্ত এসব প্রশ্নের উত্তরেই প্রতিফলিত হবে।

মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও মানুষের আয়

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, তার একটি সরাসরি মাপকাঠি হলো ক্রয়ক্ষমতা। চাল, ডাল, তেল, ওষুধ, পরিবহন ও বাসাভাড়ার ব্যয় পরিবারের আয়ের তুলনায় দ্রুত বাড়লে প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান সাধারণ মানুষের কাছে অর্থহীন হয়ে পড়ে। তাই মূল্যস্ফীতির গড় হার ছাড়াও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম, প্রকৃত মজুরি এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতার পরিবর্তন নিয়মিত প্রকাশ করা প্রয়োজন।

কর্মসংস্থানেও একই বাস্তববাদ জরুরি। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করেন। সরকারি চাকরি দিয়ে সবার কর্মসংস্থান সম্ভব নয়। প্রয়োজন বেসরকারি বিনিয়োগ, নতুন শিল্প, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর কাজ, দক্ষতা উন্নয়ন, রপ্তানিতে বৈচিত্র্য এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সহজ অর্থায়ন।
পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারের জন্য সহায়তা দিতে পারে। তবে সামাজিক সুরক্ষা এবং উৎপাদনশীল কর্মসংস্থানকে একই জিনিস ভাবলে চলবে না। প্রথমটি মানুষকে সংকটের অভিঘাত থেকে রক্ষা করে; দ্বিতীয়টি তাকে দীর্ঘমেয়াদে স্বাবলম্বী হতে সাহায্য করে। সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি হবে, সহায়তার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব আয় বাড়ছে কি না।

ব্যাংক, রাজস্ব ও জ্বালানি সংস্কার

অর্থনীতির গতি ফেরাতে ব্যাংক খাতের আস্থা পুনরুদ্ধার অপরিহার্য। খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়মের নিরপেক্ষ তদন্ত, অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধার এবং ব্যাংক পরিচালনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা না ফিরলে বিনিয়োগকারী ও উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়ন কঠিন হবে, আর আমানতকারীদের আস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
রাজস্ব বাড়ানোর জন্য শুধু করের হার বাড়ানো সমাধান নয়। করের আওতা সম্প্রসারণ, কর প্রশাসনের ডিজিটাল ব্যবস্থা, অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি পর্যালোচনা এবং করদাতার হয়রানি কমানো জরুরি। অন্যদিকে, নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ ছাড়া শিল্প উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। জ্বালানি খাতের চুক্তিতে স্বচ্ছতা, সরবরাহ ব্যবস্থার দক্ষতা, নবায়নযোগ্য শক্তিতে বিনিয়োগ এবং আমদানিনির্ভরতার ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনা প্রয়োজন।
এসব সংস্কারে সময় লাগবে। কিন্তু কোন উদ্যোগ সম্পন্ন হয়েছে, কোনটি বাস্তবায়নাধীন এবং কোনটি আটকে আছে, তার নিয়মিত হিসাব জনগণের সামনে থাকা উচিত।

সুশাসন ও রাষ্ট্র সংস্কার

অর্থনৈতিক নীতির সাফল্য শেষ পর্যন্ত প্রশাসনিক দক্ষতা ও আইনশৃঙ্খলার ওপরও নির্ভর করে। সরকারের প্রথম ছয় মাস নিয়ে সিপিডির পর্যালোচনা এবং সংবাদমাধ্যমের মূল্যায়নে অর্থনীতি, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি সরবরাহ, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক বাস্তবায়ন নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উঠে এসেছে। এসব মূল্যায়নকে সরকারের জন্য আত্মসমালোচনা ও নীতি সংশোধনের উপকরণ হিসেবে দেখা উচিত।
প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা তখনই কার্যকর হবে, যখন মন্ত্রিসভা, দলীয় সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাও একই মানদণ্ড মেনে চলবে। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল, নিয়োগে অনিয়ম কিংবা প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে হবে। অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যাবে না; আবার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অভিযোগ উপেক্ষা করাও চলবে না।
আইনের প্রয়োগ হতে হবে সবার জন্য সমান। বিরোধী দলের রাজনৈতিক অধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নির্বাচিত সরকারের দায়িত্ব। অর্থনৈতিক অর্জন জনআস্থার ঘাটতি পূরণ করতে পারে না, যদি মানুষ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা হারায়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ, প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা, বিচারব্যবস্থার স্বাধীনতা এবং নির্বাচনী ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা বেড়েছে। বিএনপির গণতন্ত্র, সুশাসন, মানবাধিকার ও জবাবদিহির প্রতিশ্রুতিকে তাই পরিমাপযোগ্য প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনে রূপ দিতে হবে। যেসব সংস্কারে সাংবিধানিক পরিবর্তন, আইন প্রণয়ন কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন, সেগুলোতে সংসদীয় আলোচনা ও সংলাপের বিকল্প নেই।

একই সঙ্গে নীতির বাস্তবায়নও যাচাই করতে হবে। কতটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো কতটি সিদ্ধান্ত সময়মতো কার্যকর হয়েছে এবং নাগরিক কী সুফল পেয়েছেন।
জনমতকে শুনতে হবে, যাচাইও করতে হবে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা ও দলীয় নেতাকর্মীদের আচরণ নিয়ে যে আলোচনা হয়, তা সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। তবে অনলাইন পোস্টকে সমগ্র জনগোষ্ঠীর মতামত ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। রাজনৈতিক পক্ষপাত, ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা ও অ্যালগরিদম সেখানে জনমতের দৃশ্যমানতাকে প্রভাবিত করে।

সরকারের উচিত অভিযোগ যাচাই, সরকারি সেবার দুর্বলতা শনাক্ত এবং দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা গড়ে তোলা। পাশাপাশি প্রতিনিধিত্বশীল জনমত জরিপ, নাগরিক অভিজ্ঞতার সমীক্ষা ও স্বাধীন গবেষণার মাধ্যমে জনসন্তুষ্টি পরিমাপ করা প্রয়োজন। সমালোচনা দমনের বিষয় নয়; এটি ভুল শনাক্ত ও সংশোধনের সুযোগ।
২০২৮ সালের জন্য তিনটি সম্ভাব্য পথ
মধ্যমেয়াদে সরকারের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পরিস্থিতি রয়েছে। প্রথমত, সংস্কার ও বাস্তবায়নের গতি বাড়লে ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরতে পারে, জ্বালানি সরবরাহ উন্নত হতে পারে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়তে পারে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমতে পারে।

দ্বিতীয়ত, সামাজিক ও প্রশাসনিক কিছু কর্মসূচিতে অগ্রগতি হলেও অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা থেকে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ধীরগতি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং বিনিয়োগের অনিশ্চয়তা নিয়ে অসন্তোষ অব্যাহত থাকবে।
তৃতীয়ত, সংস্কার বিলম্বিত হলে এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা দুর্বল হলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জনআস্থা দুটিই চাপে পড়তে পারে। তখন উন্নয়ন ব্যয়, সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য রাখা কঠিন হবে।
এগুলো নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী নয়। কোন পরিস্থিতির দিকে দেশ এগোবে, তা নির্ভর করবে সরকারের সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়নের সক্ষমতা এবং ভুল স্বীকার করে সংশোধনের সদিচ্ছার ওপর।

প্রতিশ্রুতির হিসাব ও দৃশ্যমান ফল

বিএনপির দৃষ্টিকোণ থেকে সরকারের মধ্যমেয়াদি সাফল্য মূল্যায়নের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের তুলনা। এই মূল্যায়ন সরকারের নিজস্ব প্রতিবেদনে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য উন্মুক্ত রাখতে হবে।
পাঁচটি সূচক বিশেষ গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে: পরিবারের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা, নতুন কর্মসংস্থান ও প্রকৃত মজুরি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও উৎপাদন, ব্যাংক ও রাজস্ব খাতের সংস্কার এবং আইনশৃঙ্খলা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি। প্রতিটির জন্য বর্তমান অবস্থার নির্ভরযোগ্য হিসাব, বার্ষিক লক্ষ্য, নিয়মিত অগ্রগতি প্রতিবেদন এবং স্বাধীন যাচাইয়ের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

২০২৮ সালের আগস্টে সরকারের মূল্যায়ন যেন শুধু কতটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার তালিকায় সীমাবদ্ধ না থাকে। তখন তথ্য দিয়ে বলা সম্ভব হওয়া উচিত, কত মানুষের আয় বেড়েছে, কত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ কতটা কমেছে, বিনিয়োগকারীর আস্থা কতটা ফিরেছে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা জবাবদিহিমূলক হয়েছে।
নির্বাচিত সরকারের জন্য জনসমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। সেই সমর্থন ধরে রাখার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো কার্যকর শাসন, দৃশ্যমান ফলাফল এবং ভুল হলে তা সংশোধনের সাহস। তারেক রহমান সরকারের সামনে এখন সেই পরীক্ষাই। মেয়াদের মধ্যবিন্দুতে সরকারের অবস্থান নির্ধারিত হবে প্রতিশ্রুতির পরিমাণ দিয়ে নয়, প্রতিশ্রুতি মানুষের জীবনে কতটা বাস্তব পরিবর্তন আনতে পেরেছে, তা দিয়ে।

লেখক: সরকারের সাবেক সিনিয়র সচিব