আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর ১০ বছরের সাজা থেকে খালাস চেয়ে আপীল করা হবে। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এই আবেদন করা হবে। বুধবার বিষয়টি মানবজমিন কে নিশ্চিত করেছেন ইনুর আইনজীবী সিফাত মাহমুদ। এরআগে, গত ৩০শে জুন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় হাসানুল হক ইনুকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। ট্রাইব্যুনাল ইনুর বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগের প্রতিটিতে তাকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। তবে আদালত জানান, এই তিনটি সাজা একসঙ্গে চলবে। অর্থাৎ, ইনুকে মোট ১০ বছর কারাগারে কাটাতে হবে।
পরে, ইনুকে ট্রাইব্যুনালের দেয়া সাজা অপর্যাপ্ত উল্লেখ করে তা বাড়িয়ে মৃত্যুদণ্ড চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করেছে প্রসিকিউশন পক্ষ।
সেসময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী তামিম সাংবাদিকদের জানান, ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন নির্দিষ্ট ৩০ দিনের মধ্যেই ইনুর সাজা বৃদ্ধির জন্য আপিল দায়ের করা হয়েছে। এই আবেদনে মোট ১১টি গ্রাউন্ড উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিভিন্ন পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগসাজশ, আন্দোলন দমন, কারফিউ জারির পরামর্শ ও হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রে ইনুর প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল। এই পর্যবেক্ষণ থাকা সত্ত্বেও ১০ বছরের সাজা পরস্পরবিরোধী (contradictory)। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনতত্ত্ব (Jurisprudence) অনুযায়ী অপরাধের গভীরতা (gravity) এবং আক্রমণের মাত্রার পাশাপাশি সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি ও সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেয়া প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, একজন বেসামরিক সুপিরিয়র কমান্ডারের বক্তব্য ও আদেশ সাধারণ নির্দেশনার চেয়েও অপরাধ সংঘটনে গভীর পরিবেশ তৈরি করে, যা আন্তর্জাতিক নজিরে প্রতিষ্ঠিত। ফলে যে সকল অভিযোগ থেকে ইনুকে খালাস দেয়া হয়েছিল, সেগুলোতেও সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়েছে।
