জ্বালানি তেলের ডিপোতে সেনা মোতায়েন

ডিসিদের চিঠি

জ্বালানি তেলের ডিপোতে সেনা মোতায়েন

ফন্ট সাইজ:

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের নিরাপত্তা, অনিয়ম রোধ ও মনিটরে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত দামে বিক্রি রোধে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। গতকাল এ নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়। এর আগে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে চিঠি দেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেয় সরকার। সরবরাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে গঠন করা হয়েছে মনিটরিং সেল।

ডিসিদের কাছে পাঠানো মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি তেলের বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধের লক্ষ্যে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত, নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি, খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধ ও পাচার রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ থেকে অনুরোধ জানানো হলো।

ডিপোগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ: জ্বালানি তেল নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের প্রধান তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। সোমবার এক বার্তায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় এ কথা জানিয়েছে। এতে জানানো হয়, জ্বালানি তেল বিপণনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন ডিপো থেকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলারদের আকস্মিক বর্ধিত চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। ফলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গায় প্রধান স্থাপনাসহ প্রধান প্রধান ডিপোগুলোতে অর্থাৎ খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জ্বালানি তেল বিপণন কোম্পানি সূত্রে জানা যায়। দেশের জ্বালানি তেলের ডিপোগুলো কেপিআইভুক্ত স্থাপনা হওয়ায় জরুরিভিত্তিতে এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ পরিপ্রেক্ষিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর উল্লিখিত স্থাপনার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে সেনাবাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন।

এমতাবস্থায়, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিপণন কোম্পানিগুলোর চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গার প্রধান স্থাপনা, খুলনা জেলার দৌলতপুর, সিরাজগঞ্জ জেলার বাঘাবাড়ি, নারায়ণগঞ্জ জেলার গোদনাইল ও ফতুল্লা, দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর এবং বরিশাল ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

বিপিসি’র কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক মনিটরিং সেল গঠন: জ্বালানি তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ, বাজারে স্বাভাবিকতা বজায় রাখা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল গঠন করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের নির্দেশনায় বিপিসি এবং তাদের অধীনস্থ বিপণন কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে এই বিশেষ পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। সোমবার এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি হয়েছে। বিপিসি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বাজারে গুজব ও চাহিদা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও নিবিড়ভাবে তদারকির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সেই বিবেচনায় কেন্দ্রীয় পর্যায়ে একটি মনিটরিং সেল এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এসব সেল সার্বক্ষণিকভাবে জ্বালানি তেলের মজুত, সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে পাঠাবে।

চট্টগ্রামে কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল: বিপিসি’র কেন্দ্রীয় মনিটরিং ও কন্ট্রোল সেল চট্টগ্রামের সল্টগোলা রোডে অবস্থিত বিপিসি’র বিএসসি ভবনে স্থাপন করা হয়েছে। এ সেলের মুখ্য সমন্বয়কারীর দায়িত্বে রয়েছেন জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের যুগ্ম সচিব এ কে এম ফজলুল হক। তার সঙ্গে বিপিসি’র বণ্টন ও বিপণন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া, বিপিসি’র নিজস্ব মনিটরিং সেলেও বণ্টন ও বিপণন বিভাগের মহাব্যবস্থাপক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

পাঁচ অঞ্চলে আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল: কেন্দ্রীয় সেলের পাশাপাশি দেশের পাঁচটি অঞ্চলে পৃথক আঞ্চলিক কন্ট্রোল সেল গঠন করা হয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, বগুড়া, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চল। ঢাকা অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল মতিঝিলে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্থাপন করা হয়েছে। এখানে বিভিন্ন বিপণন কোম্পানির সহকারী মহাব্যবস্থাপক ও ব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

একইভাবে বগুড়া অঞ্চলের কন্ট্রোল সেল উপশহরে অবস্থিত মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের আঞ্চলিক কার্যালয়ে, খুলনা অঞ্চলের সেল খালিশপুরে, সিলেট অঞ্চলের সেল শাহজালাল উপশহরে এবং বরিশাল অঞ্চলের সেল বান্দরোডে স্থাপন করা হয়েছে।

ফিলিং স্টেশনে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশি টহলের অনুরোধ বিপিসি’র: দেশে জ্বালানি তেল বিপণনকে ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ফিলিং স্টেশনগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশি টহল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শনিবার জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পাঠানো এক চিঠিতে বিপিসি’র চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুত পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক খবর প্রচারের কারণে ভোক্তাদের মধ্যে অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে ফিলিং স্টেশন ডিলাররা আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

চিঠিতে আরও বলা হয়, কিছু ভোক্তা প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কিনে অননুমোদিতভাবে মজুত করার চেষ্টা করছেন- এমন খবরও পাওয়া যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে ফিলিং স্টেশন থেকে ভোক্তা পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহ সীমিত করার বিষয়ে বিপিসি একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিপিসি জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল ক্রয়কে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও স্টেশনকর্মীদের মধ্যে অনভিপ্রেত ঘটনার সৃষ্টি হচ্ছে। কোথাও কোথাও উত্তেজনা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনাও ঘটছে। এসব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

এ কারণে দেশের সব ফিলিং স্টেশনে পুলিশি টহল জোরদার করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে। জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি ও বাজারের অস্থিরতার প্রভাব নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হওয়ায় অনেকেই অতিরিক্ত তেল কিনতে ছুটছেন। এতে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে এবং ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনিক নজরদারি ও নিরাপত্তা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

Harun Miah

৪ মাস আগে

ভারতের কাছে জ্বালানি সহায়তা চাইল বাংলাদেশ! দিল্লি না ঢাকাওয়ালারা এখন কোথায়? এই তেল হোন্ডায় ঢোকানো জায়েজ হবে কিনা -তারা বলে দিক!

মন্তব্য করুন