প্রবাসীর লাশ নিয়ে বড়লেখায় গেলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

প্রবাসীর লাশ নিয়ে বড়লেখায় গেলেন মন্ত্রী আরিফুল হক

ফন্ট সাইজ:

একটি মৃত্যু। একটি পরিবারের কান্না। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধে দুবাইয়ের আজমান শহরে মিসাইল এসে পড়েছিল সালেহ আহমদের ওপর। এতে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন সালেহ। বাড়ি বড়লেখার গাজিটেক গ্রামে। সেখানে শোকের মাতম চলছে। এই অবস্থায় নিহত রেমিট্যান্স যোদ্ধার মরদেহ দেশে নিয়ে আসা ছিল চ্যালেঞ্জের। একে তো যুদ্ধাবস্থা। অনেক দেশের আকাশপথে এখনো উড়োজাহাজ চলাচল শুরুই করেনি। দেশে দেশে আটকা পড়েছেন হাজারো যাত্রী।

কঠিন সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে নিহত ও আহত প্রবাসী পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়। দু’মন্ত্রণালয়ের প্রচেষ্টায় ঘটনার ৮ দিনের মাথায় গতকাল সকালে প্রবাসী সালেহ আহমদের কফিনে মোড়া মরদেহ দেশের মাটিতে এসে পৌঁছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণ করেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি আনুষ্ঠানিক লাশ গ্রহণের পর সেটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি গাজিটেক গ্রামে যান। মিসাইলে মারা যাওয়া সালেহ আহমদ ওরফে আলী আহমদের মূল বাড়ি বিয়ানীবাজারে। ওখান থেকে তারা গিয়ে বড়লেখায় বাড়ি করেন। সালেহ আহমদ ৩৫ বছর ধরে বসবাস করছিলেন দুবাইয়ের আজমানে। সেখানে তিনি পানি বহনকারী লরি বা ট্রাক চালাতেন। বাড়িতে তার স্ত্রী ও তিন ছেলে রয়েছে।

ঘটনার দিন ২৮শে মার্চ বিকালে দুবাইয়ের আজমান শহরে কয়েকটি মিসাইল পড়ে। একটি মিসাইল এসে পড়ে তার গাড়ির ওপর। ঘটনাস্থলেই মারা যান সালেহ আহমদ। দুবাইয়ে থাকা তার আরও দুই ভাই রয়েছে। তারা গিয়ে তার লাশ শনাক্ত করেন। সালেহ নিহত হওয়ার পর থেকেই পরিবারে কান্নার রোল। গতকাল দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী মানবজমিনকে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন অবস্থায় প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও সুবিধা রক্ষায় সবচেয়ে বেশি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার নির্দেশেই আমরা দুবাইয়ের হাসপাতালে থাকা রেমিট্যান্স যোদ্ধা সালেহ আহমদের লাশ দেশে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করি।

যুদ্ধাকালীন সময়ে লাশ দেশে নিয়ে আসা চ্যালেঞ্জের। কেবল মাত্র প্রধানমন্ত্রীর প্রচেষ্টায় আমরা দেশের মাটিতে লাশ আনতে সক্ষম হয়েছি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই আমরা লাশ নিয়ে প্রবাসীর বাড়িতে গিয়েছি। এদিকে গতকাল সকাল ৮টা ২০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছায় সালেহ আহমদের মরদেহ। পরে তার মরদেহ বিমানের আরেকটি ফ্লাইটে করে নিয়ে আসা হয় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সকাল ১১টার দিকে আহমেদ আলীর মরদেহ গ্রহণ করেন মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বিমানবন্দরে সালেহ’র মরদেহের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী নিজেই মৌলভীবাজার জেলার বড়লেখাস্থ বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়েছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিহত আলীর মরদেহ গ্রহণ করার সময় উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নিয়ামত উল্লাহ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান, সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। লাশ গ্রহণকালে মন্ত্রী জানিয়েছেন- প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে পরিবারের সদস্যদের মতো পাশে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।

মধ্যপ্রাচ্যে এখন পর্যন্ত চারজন নিহত ও ১০ জন আহত হওয়ার তথ্য জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আহতদের সৌদি আরবের বিভিন্ন নামিদামি হাসপাতালে সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবরও রাখা হচ্ছে। লাশ গ্রহণের পর নিহতের চাচাতো ভাই কামাল আহমদসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে সরকারের তরফ থেকে আমাদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করা হয়েছে। আমাদের দাবি- আমার ভাইকে যেন শহীদের মর্যাদা দেয়া হয়।

Mohammad Yousuf

৪ মাস আগে

ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রজেউন। ছালেহ আহম্মদের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। মহান আল্লাহ পাক মরহুমকে তাঁর বরযাখ জীবনে বেহেশতের শান্তি দান করুন। এ ব্যাপারে মন্ত্রী আরিফুল হক মহোদয়ের সেবা ও কর্মতৎপরতা প্রশংসনীয়। তিনি নিজেই লাশের সাথে মরহুম প্রবাসীর বাড়িতে গেলেন। তাঁর এ সহমর্মিতা নিজের ও সরকারের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করবে। মন্ত্রী মহোদয়কে অসংখ্য ধন্যবাদ। জাজাকাল্লাহু খাইরান

মন্তব্য করুন