চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ

চুয়েটে উপাচার্যকে ভেতরে রেখে ভবনে তালা দিলেন শিক্ষার্থীরা, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে উপাচার্য ভবনের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ভবনটির বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন তারা। সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে সকালে নিয়োগের ২১ দিন পর উপাচার্য ভবনের ফটকের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কয়েকজন শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ছিলেন। পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন।

নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের খবর পেয়ে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তারা উপাচার্যকে দুপুর ১২টার মধ্যে ভবন ছেড়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি ভবন না ছাড়ায় দুপুরের দিকে আবারও ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে গিয়ে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করছেন। এ সময় তাদেরকে ‘আমাদের দাবি, আমাদের দাবি, মানতে হবে, মানতে হবে’ এবং ‘প্রত্যাখ্যান, প্রত্যাখ্যান, নতুন ভিসি প্রত্যাখ্যান’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একজন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ছাত্রী মাহিরা তাজরীন বলেন, উপাচার্য তাদের দেওয়া তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করেছেন। তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বেরিয়ে যাওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হলেও তিনি তা মানেননি। তাই তারা আবারও তালা দিয়েছেন।

এদিকে, উপাচার্য ভবনে তালা দেওয়ার পর অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের সঙ্গে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও ভেতরে আটকা পড়েন। তাদের মধ্যে রয়েছেন চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত ও সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন।
নতুন উপাচার্যের ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় ফুল ও খাবার নিয়ে তার দপ্তরে যেতে চাওয়া ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে বাধা দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন তন্ময়ের সঙ্গে শিক্ষার্থী সাদ বিন মোস্তফার উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, তিনি সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছেন। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের শিক্ষকদের জন্য অপেক্ষা করছেন। তারা এলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে কথা বলবেন। সকাল থেকে তেমন কোনো দাপ্তরিক কাজ করেননি বলেও জানান তিনি।
ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত বলেন, তারা একসঙ্গেই উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেছেন। সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন বলেন, সরকার অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে দায়িত্ব দিয়েছে। তার দায়িত্ব পালনে ছাত্রদল সহযোগিতা করেছে। উপাচার্যকে কাজের সুযোগ দিয়ে তার কার্যক্রম মূল্যায়ন করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নতুন উপাচার্যকে প্রত্যাখ্যান করে তাদের অবস্থান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, তারা নতুন উপাচার্যকে মেনে নেননি। তার বিরুদ্ধে আন্দোলন চলবে।
বিকাল তিনটায় চুয়েট অডিটোরিয়ামে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী সমিতির সংবাদ সম্মেলনের কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে এবং সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীরা ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।