সৎকন্যার মৃত্যুর পর পদত্যাগ করেছেন জার্মানির শ্রমমন্ত্রী বারবেল বাস। তিনি মধ্য-বামপন্থী দল এসপিডি’র কো-লিডার ছিলেন। সোমবার তিনি এই দুটি পদ থেকেই ইস্তফা দেন। এ খবর জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। শোক সামলে ওঠার জন্য সময় প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এছাড়া তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ বেড়ে যাওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন বাস। তার এই পদত্যাগ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
এক বিবৃতিতে বাস বলেন, ‘সৎকন্যার মৃত্যুর পর আমি বুঝতে পেরেছি যে শোক কাটিয়ে উঠতে আমার কিছুটা সময় দরকার।’ বাসের মন্ত্রণালয় জার্মানির কল্যাণমূলক ব্যবস্থার একটি বড় অংশ পরিচালনা করে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে ক্রমবর্ধমান ‘প্রকাশ্য আক্রমণের’ শিকার হতে হয়েছে। এর মধ্যে জোট সরকারের শরিক রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ ব্লকের সদস্যরাও রয়েছেন।
এসপিডি’র অপর কো-লিডার এবং ভাইস চ্যান্সেলর ও অর্থমন্ত্রী লার্স ক্লিংবাইল এই আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, শোকের দিনগুলোতে তার ওপর এমন আক্রমণ একেবারেই অনুচিত এবং অগ্রহণযোগ্য। ক্লিংবাইলের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পরিস্থিতির কারণে তিনি সোমবার তার নির্ধারিত ভারত সফর বাতিল করেছেন। বাসের পদত্যাগের ফলে চ্যান্সেলর মের্ৎসের নেতৃত্বাধীন জোট সরকার আরও চাপে পড়ল। জনমত জরিপে তারা বেশ পিছিয়ে আছে। এছাড়া গত মাসে অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক নির্বাচনে উগ্র ডানপন্থী ও উগ্র বামপন্থীদের বড় উত্থান এই জোট সরকারকে আগে থেকেই নাজুক অবস্থায় রেখেছে।
জনসংখ্যার কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের অবসরভাতা ব্যবস্থায় পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে জোট সরকার। এটি তাদের বৃহত্তর অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কার কর্মসূচির একটি মূল অংশ। তবে বিশেষজ্ঞ কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী পেনশন ব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে দেরি হওয়ায় রক্ষণশীল ব্লকের নিচুতলার নেতাদের তোপের মুখে পড়েছিলেন বাস।
সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে চ্যান্সেলর মের্ৎস কিছুটা সুর নরম করেছেন। তিনি বলেন, বাসের এই সিদ্ধান্ত সম্মান পাওয়ার যোগ্য। তার একাগ্রতা ও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য মের্ৎস তাকে ধন্যবাদ জানান।
এসপিডি জানিয়েছে, রাইনল্যান্ড-প্যালাটিনেট প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এবং দলের অন্যতম উপনেতা আলেকজান্ডার শোয়েইৎজার নতুন শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন। তবে এসপিডি’র কো-লিডার হিসেবে বাসের স্থলাভিষিক্ত কে হবেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বাস জানিয়েছেন, তিনি পার্লামেন্টে নিজের আসনটি ধরে রাখবেন।
