সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘সৌদি আরবে হুতিদের হামলা, শ্রমবাজার আরও ঝুঁকিতে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ওপর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় বাংলাদেশিদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে প্রায় ৪০ শতাংশ। গত ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত (সাত মাস ১০ দিন) চাকরি নিয়ে বিদেশে গেছেন চার লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ বাংলাদেশি। ২০২৫ সালের একই সময়ে বিদেশ গিয়েছিলেন ছয় লাখ ৯০ হাজার ৮০৪ জন। অর্থাৎ, ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে বৈদেশিক কর্মসংস্থান।
২০২৪ সালের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশ গিয়েছিলেন পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৯৪৩ জন। করোনা মহামারির পর চলতি বছরই সর্বনিম্ন বৈদেশিক কর্মসংস্থান হয়েছে মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। সরকারি সংস্থা জনশক্তি কর্মসংস্থান এবং প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান থেকে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবে হামলা চালানোয় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান আরও ঝুঁকিতে পড়েছে। গত দুই দিনে সৌদিতে অন্তত চার বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন হুতিদের হামলায়। হুতিদের দমনে সৌদি আরব ২০১৪ সাল থেকে ইয়েমেনে হামলা চালাচ্ছে। এতদিন যুদ্ধ ইয়েমেনে সীমাবদ্ধ ছিল। ইরানসমর্থিত হুতিরা গত মাসে সৌদিতে পাল্টা হামলা শুরু করে। দেশটির তেল খনি, পাইপলাইন, বিমানঘাঁটি এবং বেসামরিক বিমানবন্দরে হামলা হয়েছে। যুদ্ধ সৌদিতে ছড়ানোর কারণে দেশটির অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থানে।
বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দুই লাখ এক হাজার ৩৬১ বাংলাদেশি কর্মী সৌদি গেছেন। গত বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত এই সংখ্যা ছিল চার লাখ ৫০ হাজার ৯০৭। অর্থাৎ, সৌদিতে বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান ৫৫ শতাংশ কমেছে।
যুদ্ধের সরাসরি প্রভাব কর্মসংস্থানে
চলতি বছরের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে এক লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশে যান। ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে এই সংখ্যা ছিল এক লাখ ২৯১। ২০২৪ সালের জানুয়ারি এবং ফেব্রুয়ারি মাসে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ৬৮০। টানা তিন বছর মাসে গড়ে প্রায় ৮০ হাজার বাংলাদেশি চাকরি নিয়ে বিদেশ গেছেন। অর্থাৎ, স্থিতিশীল ছিল কর্মসংস্থানের পরিসংখ্যান।
২০২৪ সালের পর মালয়েশিয়া, ওমান, মালদ্বীপের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ভর করে স্থিতিশীল ছিল বাংলাদেশিদের বৈদেশিক কর্মসংস্থান। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশ গিয়েছিলেন। তিনটি বড় শ্রমবাজার বন্ধ হওয়ার পরও ২০২৫ সালে জনশক্তি রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছিল এক লাখ ২২ হাজার। কারণ, সৌদি আরবে গত বছর কর্মসংস্থান হয় সাত লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ বাংলাদেশির।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশ গেছেন পাঁচ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন। আগের বছরে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত গিয়েছিলেন আট লাখ ৫১ হাজার ৯৫ জন। অর্থাৎ, এই বছরে সার্বিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩২ শতাংশ।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের হামলার পর যুদ্ধ ছড়িয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, ইরাক ও জর্ডানে। এসব দেশে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা করে ইরান। পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে অস্থিরতা ছড়ায়। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে।
প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সমকালকে বলেছেন, বৈদেশিক কর্মসংস্থানের আগের পরিসংখ্যানের ওপর ভর করেই পাঁচ বছরে এক কোটি চাকরির সুযোগ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিএনপি জোট। কিন্তু সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই সপ্তাহের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। এই অঞ্চলে বাংলাদেশের বার্ষিক বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ৮০ শতাংশ হয়ে থাকে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে কমছে কর্মসংস্থান
সংযুক্ত আরব আমিরাত ছাড়া সব দেশেই কর্মসংস্থান কমেছে যুদ্ধের পর। আমিরাতে এ বছরের ১ মার্চ থেকে ১৯ হাজার ৮৭৪ কর্মী গেছেন। গত বছরে এই সংখ্যা ছিল আট হাজার ৭৩১। অথচ একসময় দেশটিতে বছরে দুই লাখের বেশি বাংলাদেশির কর্মসংস্থানের নজির রয়েছে।
জালজালিয়াতির অভিযোগে ২০১৬ সাল থেকে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে আমিরাত। গত বছর দেশটিতে সফরে গিয়ে তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শ্রমবাজার সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। পরে তিনি দেশটিতে থাকা বাংলাদেশিদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, জাল নথি, ভুয়া অভিজ্ঞতা ও শিক্ষা সনদে বিদেশ যাওয়ায় বাংলাদেশিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। বিদেশ গিয়ে মাথা হেঁট হয়।
আমিরাত থেকে ছুটিতে দেশে আসা বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসা বাতিলের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এই সংখ্যা গত কয়েক মাসে তিন হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানা গেছে। কী কারণে ভিসা বাতিল করা হচ্ছে, তা জানায়নি আমিরাত। চলতি মাসেই এই কর্মীরা ঢাকায় বিক্ষোভ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেছেন, আমিরাতে শ্রমবাজার পুরোপুরি খোলার চেষ্টা চলছে। ২০২৩ সাল থেকে বন্ধ রয়েছে ওমানের শ্রমবাজার। এই শ্রমবাজার খোলার প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
কুয়েতে এ বছরের ১ মার্চ থেকে বাংলাদেশি কর্মী গিয়েছেন ১৯ হাজার ৩৮৬ জন। আগের বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ২৯ হাজার ৫৬০। কাতারে এ বছরের ১ মার্চ থেকে কর্মী গিয়েছেন ৪১ হাজার ৫৭২ জন। আগের বছরে এই সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৩৪১। জর্ডানে এ বছর কর্মী গিয়েছেন ৯ হাজার ১৪৬ জন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল সাত হাজার ৩২২। ইরাকে এ বছর দুই হাজার ৫৭৫ এবং গত বছর তিন হাজার ৯৮ কর্মী গেছেন।
অন্যান্য বাজারেও সুখবর নেই
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, অন্যতম বড় শ্রমবাজার সিঙ্গাপুরেও কর্মী পাঠানো কমেছে। মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার ঘোষণা এলেও এখনও কর্মী পাঠানো শুরু হয়নি। কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রগতি নেই জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো শ্রমবাজারে। কর্মী পাঠানোয় সমঝোতা স্মারক সই হলেও অস্ট্রেলিয়া, গ্রিসের মতো দেশগুলোর শ্রমবাজার খোলেনি।
এ ছাড়া রোমানিয়া, ক্রোয়েশিয়া, পোল্যান্ডসহ ইউরোপের কয়েকটি দেশে শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। এসব দেশের ভিসা পেতে ভারতের নয়াদিল্লিতে দূতাবাসে যেতে হয় বাংলাদেশিদের। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতের ভিসা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ায় দিল্লি যেতে পারছেন না কর্মীরা। আবার ইউরোপের এই দেশগুলোতে গিয়ে কর্মস্থল ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ায় কর্মী নিয়োগ কমিয়ে দিয়েছে নিয়োগকারীরা।
ইউরোপের দেশে প্রবেশের পথ হয়ে ওঠায় কিরগিজস্তানের শ্রমবাজারও বাংলাদেশিদের জন্য প্রায় বন্ধের পথে। বৈধ চাকরি দেখিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে ঠেলে দেওয়ায় দেশটির শ্রমবাজারও নিরাপদ নয়। ২০২৪ সালের মে মাসে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বন্ধের পর সিঙ্গাপুরই মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সবচেয়ে বড় ভরসা। গত বছর ৭০ হাজার ৮৩৫ বাংলাদেশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশ সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন। চলতি বছরের ৯ মাসে এই সংখ্যা ৬১ হাজার ১৮। অর্থাৎ এই শ্রমবাজার আমাদের জন্য প্রসারিত হয়নি।
উচ্চ বেতন এবং ভালো কর্মপরিবেশের জন্য খ্যাতি রয়েছে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার। এই দুই দেশেও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অগ্রগতি হচ্ছে না। চলতি বছর জাপান গেছেন এক হাজার ৭১০ জন। দক্ষিণ কোরিয়ায় গেছেন এক হাজার ২১০ জন।
নিম্ন জন্মহারের কারণে জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় জনসংখ্যা কমছে। কর্মীর ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশ অনেক বছর ধরেই সুযোগ নেওয়ার কথা বলছে। জাপানে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এক লাখ কর্মী পাঠানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান যাচ্ছেন। তাঁর সফরেও জনশক্তি রপ্তানির বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
নুরুল হক নুর সমকালকে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিষয়টি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেই। সরকার জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইউরোপের মলদোভা, পূর্ব এশিয়ার দেশ থাইল্যান্ড, এমনকি আফ্রিকার দেশগুলোতেও বৈদেশিক কর্মসংস্থার সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
বায়রার সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ফখরুল ইসলাম বলেন, শুধু যুদ্ধ নয়, কর্মসংস্থান কমে যাওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। সৌদি আরবে যেতে এখন ‘তাকামুল’ নামে পরীক্ষা দিতে হয়। এতে পাস করতে না পারলে ভিসা দেওয়া হয় না। আবার সৌদিতে গিয়ে চাকরি, কাজ, বেতন না পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাই ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশের দেশগুলোর দিকে নজর দিতে হবে সরকারকে। দক্ষ কর্মী তৈরি করতে হবে। জনশক্তি ব্যবসায়ীরা এসব দেশে কাজ করার সুযোগ পেলে শ্রমবাজার তৈরি করা সম্ভব।
প্রথম আলো
‘সুন্দরবন রক্ষায় সমন্বিত চেষ্টা দরকার’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, উপকূলে সুপেয় পানির সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিদ্যমান পানির উৎসগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি। একই সঙ্গে সুন্দরবন রক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বন ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সুস্পষ্ট করা প্রয়োজন।
‘উপকূলে পানির সংকট ও সুন্দরবনের প্রতিবেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এ বক্তব্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার সকালে মোংলা উপজেলার ফ্রেন্ডশিপ রিজিওনাল অফিস মিলনায়তনে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে প্রথম আলো। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, স্থানীয় বাসিন্দা, গবেষক, সরকারি কর্মকর্তা, পরিবেশকর্মী, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বনজীবী, উন্নয়নকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, উপকূলের পানির সংকট ও সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকট পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
প্রথম আলোর জলবায়ু প্রকল্প ব্যবস্থাপক খলিলউল্লাহর সঞ্চালনায় আলোচনা পর্বের শুরুতে পানি ও সুন্দরবনের সংকট নিয়ে ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করেন প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ শংকর সাহা।
সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব কার
আলোচনায় অংশ নিয়ে সুন্দরবন একাডেমির চেয়ারপারসন অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তরের বৈশিষ্ট্য সব জায়গায় এক রকম নয়। কোথাও লবণাক্ততা বেশি, কোথাও আয়রন বা অন্য উপাদানের সমস্যা রয়েছে। ফলে সারা দেশের জন্য একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার না করে এ অঞ্চলের জন্য উপযোগী প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে।
তিনি বলেন, সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব কার, এর আসল অভিভাবক কে—এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে জাহাজ চলাচলের সময় তেল ছড়িয়ে পড়া, বর্জ্য ফেলা, শব্দ ও কৃত্রিম আলোর কারণে বন্য প্রাণী ও উদ্ভিদের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ে থাকে। এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর দায়িত্ব সুস্পষ্ট করা এবং কার্যকর সমন্বয় গড়ে তোলা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন, সুন্দরবনের জন্য একটা একক মন্ত্রণালয় থাকা দরকার।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের মানুষের অন্যতম বড় সমস্যা সুপেয় পানির সংকট। বিভিন্ন সময়ে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা পুকুরের পানি পরিশোধন, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণসহ নানা উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গায় এগুলোর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ হয় না। ফলে একসময় এসব ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়ে। তাই শুধু অবকাঠামো তৈরি করলেই হবে না, সেগুলো দীর্ঘদিন ব্যবহার উপযোগী রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে।
তিনি বলেন, শুধু পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না, পানি নিরাপদ কি না, সেটিও একটি জরুরি বিষয়। দীর্ঘদিনের এই সমস্যা সমাধানে স্থানীয় মানুষের সম্মিলিতভাবে দাবি তোলা প্রয়োজন, যাতে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা কার্যকর উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়। এ ছাড়া সুন্দরবনের ওপর মানুষের নির্ভরশীলতা কমাতে বিকল্প জীবিকার কথা বলা হয়। কিন্তু বিকল্প জীবিকা এমন হতে হবে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর নতুন চাপ তৈরি করবে না। সুন্দরবনে পর্যটন ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মো. কামরুজ্জামান বলেন, সংরক্ষিত বন ঘোষণা করলেই যে বন সুরক্ষিত থাকবে, তা নয়। সুন্দরবনের ধারণক্ষমতা বিবেচনা না করে পর্যটন বা অন্যান্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো ঠিক নয়।
মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি
আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সমস্যা এবং দেশের প্রকৃতি, পরিবেশ, নদী ও বন রক্ষার বিষয়গুলো প্রথম আলো গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করে। সুন্দরবন এসব কাজের একটি বিশেষ ক্ষেত্র।
মতিউর রহমান বলেন, সুন্দরবন বাংলাদেশের গর্ব। সুন্দরবন শুধু একটি বন নয়, এটি উপকূলের মানুষের সুরক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তিনি বলেন, ‘২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর সুন্দরবনের অনেক গাছপালা ভেঙে পড়েছিল। তখন সেগুলো পরিষ্কার করার একটি উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছিল। আমরা এ বিষয়ে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করেছিলাম। সেখানে বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, সুন্দরবনকে রক্ষা করতে হলে বনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে হবে, অপ্রয়োজনে সেখানে হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। আমরা তখন শিরোনাম করেছিলাম, সুন্দরবনকে কেউ বিরক্ত করবেন না। পরে সরকার ওই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলার সময় সুন্দরবন উপকূলের মানুষকে বড় ধরনের সুরক্ষা দিয়েছে। আমরা চাই, সুন্দরবন ধ্বংস না হোক। এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাক। বনটি তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে টিকে থাকুক।’
উপকূলের নিরাপদ পানির সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মতিউর রহমান বলেন, উপকূলের মানুষের পানির সংকট এবং পানিতে আর্সেনিক ও সিসার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে মানুষ পান করছে। কিন্তু সেই পানিও পরীক্ষা করে দূষিত উপাদান পাওয়া গেলে তা উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। মানুষের নিরাপদ পানির অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে এসেছি সুন্দরবন সম্পর্কে আরও জানতে, আপনাদের কথা শুনতে এবং কীভাবে এই বনকে রক্ষা করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে। স্থানীয় মানুষ, গবেষক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী, বন বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবার অভিজ্ঞতা ও মতামত আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।’
সুন্দরবন রক্ষায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ দরকার
বন বিভাগের খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বলেন, উপকূলের সুপেয় পানির সংকট ও সুন্দরবনের পরিবেশ একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। উপকূলের নারীরা অনেক কষ্ট করে দূর থেকে পানি সংগ্রহ করেন। এত কষ্টে আনা পানিও সব সময় নিরাপদ নয়। পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে তাঁদের শারীরিক সমস্যা ও স্যানিটেশন–সংক্রান্ত নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বন রক্ষা করা কঠিন কাজ। সুন্দরবন রক্ষার দায়িত্ব বন বিভাগের হলেও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এ দায়িত্ব পালন করা কঠিন। বনের আশপাশে কেউ বিষ দিয়ে মাছ ধরলে বা বন্য প্রাণী শিকার করলে স্থানীয় মানুষ তা জানতে পারেন। তাঁরা যদি প্রতিবাদ করেন এবং বন বিভাগকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করেন, তাহলে অপরাধ প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
ইমরান আহমেদ জানান, বন অপরাধ শনাক্ত করতে ড্রোন ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। তবে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বন বিভাগের জলযানের ঘাটতি রয়েছে। গত বছর ১০টি জলযান কেনার পরিকল্পনা থাকলেও তা হয়নি। সুন্দরবনে টহলের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে অনেক জায়গায় নৌকায় করে টহল দেওয়া হতো; এখন পায়ে হেঁটে টহলের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এতে হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধারের সুযোগ বেড়েছে।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে প্লাস্টিক বর্জ্যের অন্যতম উৎস হলো নৌযান ও লঞ্চে ব্যবহার করা চিপস, বিস্কুটসহ বিভিন্ন পণ্যের প্যাকেট। খুলনা থেকে কয়রা ও মোংলার দিকে চলাচলকারী নৌযানগুলোয় এসব বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বন বিভাগের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। পাশাপাশি সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সুন্দরবনের লবণাক্ততা শুধু গাছপালার ওপর প্রভাব ফেলছে না, জলজ প্রাণীর ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে। ইরাবতী ডলফিন তুলনামূলক লবণাক্ত পানির পরিবেশে থাকতে পারে। অন্যদিকে গাঙ্গেয় শুশুক মিঠাপানির পরিবেশ বেশি পছন্দ করে। লবণাক্ততা বাড়ায় এসব প্রাণীর বিচরণক্ষেত্র বদলে যেতে পারে।
ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়ক মোহাম্মদ নেহাল আজমাত মহী বলেন, উপকূলের নিরাপদ পানির সংকট, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধির সমস্যাগুলো পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। নিরাপদ পানির প্রযুক্তি স্থাপন করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সংস্কার জরুরি।
সভায় বক্তব্য দেন মোংলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অর্থিতা হাওলাদার, সহকারী পুলিশ সুপার (মোংলা সার্কেল অফিস) মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শাহীন, মোংলার জ্যেষ্ঠ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম, মোংলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পিযুষ রায় প্রমুখ।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘শাহজালালে অনিশ্চয়তায় হাজারো প্রবাসী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছুটি কাটিয়ে রোববার দুপুরে ফেরার কথা ছিল কুমিল্লার অধিবাসী সৌদি প্রবাসী রফিকুল ইসলামের। বিমানের টিকিট কাটেন আগেই। রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সময়মতো হাজির হন। এসেই শোনেন ফ্লাইট বাতিল। জানতে পারছেন না কবে ছাড়বে ফ্লাইট। দুপুরে বিমানবন্দরের বহির্গমন টার্মিনালের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা হয় রফিকুলের সঙ্গে। চোখেমুখে তার উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। বলেন, ‘হঠাৎ ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছি। আমাকে যে কোনো মূল্যে সৌদি আরব যেতে হবে। সময়মতো যেতে না পারলে সমস্যায় পড়তে হবে। পরবর্তী ফ্লাইটের সিদ্ধান্ত জানানো হলে ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমত।’ হামলার পর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়ায় ঢাকায় ফেরার অপেক্ষায় সেখানে প্রায় চার হাজার যাত্রী। কখন চালু হবে বিমানবন্দর, কখন চালু হবে ফ্লাইট সে ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় কাটছে তাদের সময়।
রাজধানী রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলায় বাংলাদেশিসহ বিপুল হতাহতের পর কুমিল্লার রফিকুলের মতো হাজারো প্রবাসীর যাত্রা আটকে গেছে। শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের অন্তত ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কর্মস্থলে ফেরার অপেক্ষায় থাকা প্রবাসীরা। অনেকেই বিকল্প পথে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করেও কিনারা করতে পারছেন না। ভারত হয়ে বিকল্প রুটের টিকিটের দাম কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ইয়েমেন লড়াইরত হুথি বিদ্রোহীরা বিশ্বের এয়ারলাইন্সগুলোকে সৌদি আরবের আকাশসীমা ব্যবহার না করার ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও বেশি জটিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ যুগান্তরকে বলেন, সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইন্সগুলো ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের এ বিষয়ে অবহিত করছে। যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইন্সের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী যাত্রার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে বিমানবন্দরে আসার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি একটি বৈশ্বিক সংকট। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে অপেক্ষা করার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। রিয়াদগামী বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স, সৌদিয়া, রিয়াদ এয়ার এবং শ্রীলংকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট রয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত থেকে রোববার পর্যন্ত ঢাকা থেকে রিয়াদগামী ১০টি ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তিন হাজার মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে রিয়াদেও আটকা প্রায় চার হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি যাত্রী। ফলে দুদিকেই প্রবাসীদের যাতায়াত কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কিং খালিদ বিমানবন্দরে বাংলাদেশ সময় ১২ অক্টোবর ভোর ৩টা পর্যন্ত সব ফ্লাইট পরিচালনা ও বিমান চলাচল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইটও পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাতিল থাকায় যাত্রীদের ভোগান্তি আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।
শাহজালাল বিমানবন্দরে গিয়ে টিকিট ও পাসপোর্ট হাতে নিয়ে রিয়াদগামী যাত্রীদের ছোটাছুটি করতে দেখা যায়। সবশেষ তথ্য জানতে যাচ্ছেন এয়ারলাইন্সগুলোর কাউন্টারে। অনেককে ফোনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। তবে সবার চোখেমুখে ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার ছাপ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বাস-মাইক্রোবাস বা ব্যক্তিগত গাড়িতে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় ছুটে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবরে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় টিকিটের তারিখ পরিবর্তন, অর্থ ফেরত কিংবা বিকল্প ফ্লাইট পাওয়া এবং এসবের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্পষ্ট ধারণা নিয়ে অনেককেই ছোটাছুটি করতে দেখা গেল।
বিকল্প পথেও অনিশ্চয়তা: চাঁদপুরের রিয়াদ হোসেন ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের টিকিট কেটেছিলেন। ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভারতের মুম্বাই হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা। কিন্তু এখন শুনছি, মুম্বাইয়ে যাদের ট্রানজিট, তাদের বোর্ডিং দেওয়া হচ্ছে না। মুম্বাই থেকে নাকি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’
কথা হয় সৌদি আরবে যাওয়ার জন্য বিমাবন্দরে আসা আরও কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে। তারা বলছিলেন, ভিসার মেয়াদ, নিয়োগকর্তার নির্ধারিত যোগদানের বেঁধে দেওয়া সময় এবং অন্যান্য প্রশাসনিক শর্তের বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে অনেক প্রবাসী পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা না করে বিকল্প রুটে টিকিট কাটছেন। অনেকেই ঢাকা-মদিনা ও ঢাকা-জেদ্দা রুটসহ বিভিন্ন বিকল্প রুটের টিকিট সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। সেগুলোর দামও হু হু করে বাড়ছে। আর ওই সব রুট নিয়েও এক ধরনের অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে বাড়তি অর্থ ব্যয় করে টিকিট সংগ্রহের পরও উদ্বেগ কাটছে না। ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় অনেকের মধ্যে ঢাকায় থাকা-খাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দূরবর্তী জেলা থেকে আসা যাত্রীদের জন্য নতুন করে বাড়ি ফেরা কিংবা ঢাকায় অবস্থান করার সিদ্ধান্ত নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের চাকরি থাকবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তার সঙ্গে এটি তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কালের কণ্ঠ
‘হুতিদের হামলায় অশান্ত সৌদি’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পর পর দুই দিন হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিরা। শনিবারের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১৩ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন।
আহতদের মধ্যে ২৪ জন বাংলাদেশি; এর মধ্যে চারজন আইসিইউতে। এক দশকের বেশি সময়ের মধে দেশটিতে এটি সবচেয়ে বড় প্রাণঘাতী হামলা। গতকাল রবিবারের হামলায় বিমানবন্দরটির টার্মিনালের একটি অংশে আগুন ধরে যায়। তবে এতে কেউ হতাহত হয়েছে কি না বা কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
দুই দফায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনায় অশান্ত হয়ে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরব। শনিবারের হামলার পরই নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতিতে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা-রিয়াদ আকাশপথের যোগাযোগ। গত শনিবার রাত থেকে গতকাল দুপুর পর্যন্ত রিয়াদগামী অন্তত সাতটি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা প্রায় তিন হাজার প্রবাসী কর্মী এবং যাত্রী চরম অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এদিকে হুতিদের শনিবারের হামলাকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে সৌদি জোট। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে তারা এ হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অন্যদিকে হুতিরা সৌদি আরবের মক্কা ও মদিনা ছাড়া অন্যান্য বিমানবন্দর ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক থাকতে বলেছে।
সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি গতকাল বলেছেন, ১০ অক্টোবরের হামলা বিমানবন্দরের যাত্রীদের টার্মিনালকে নিশানা করে চালানো হয়েছিল। এতে বেসামরিক নাগরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও যুদ্ধের প্রথাগত নিয়ম অনুযায়ী এটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধাপরাধ। গতকালের হামলার কয়েক ঘণ্টা আগে হুতিদের সশস্ত্র গোষ্ঠীটি হুঁশিয়ার করে এক বিবৃতিতে জানায়, বিমানবন্দর ব্যবহারের সতর্কবার্তাকে যেন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। দেশটির বিমানবন্দরগুলো এড়িয়ে চলতে এয়ারলাইনস, বিমানবন্দরকর্মী এবং যাত্রীদের কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনের হুতিরা। বিবৃতিতে হুতিরা বলেছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলা প্রতিহত করতে ব্যর্থ হওয়ার সব দায় সৌদি সরকারের।
ইত্তেফাক
দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম ‘ঐক্য রেখে দল শক্তিশালী করুন, বিতর্কে জড়াবেন না’। প্রতিবেদনে বলা হয়, যার যার নির্বাচনি এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিজেদের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার জন্য দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ঐক্য ধরে রেখে সংগঠনকে শক্তিশালী করারও নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। একইসঙ্গে কোনো ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে না জড়াতে এবং দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আগামী দিনগুলোতে সতর্ক থাকার জন্যও তিনি দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দেন। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এসব নির্দেশনা দেন তিনি।
সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা ও বিএনপির সংসদীয় দলের প্রধান তারেক রহমান। সংসদের পরবর্তী অধিবেশনের দিনক্ষণ ঘোষণার আগেই অনেকটা হঠাত্ করে সরকারি দলের সংসদীয় দলের এই সভা ডাকায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের কৌতূহল সৃষ্টি হয়।
সভায় অংশগ্রহণকারী বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্যের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সভায় জানানো হয়—চলতি ত্রয়োদশ সংসদের পরবর্তী অধিবেশন আগামী ৮ নভেম্বর শুরু হতে পারে। অধিবেশনের আগে আবারও সংসদীয় দলের সভা ডাকা হবে। সভায় দলের অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আসন্ন দুর্গাপূজা, মাদক নিয়ন্ত্রণ, সংবিধান সংশোধন ও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে যারা বক্তব্য রেখেছেন তাদের কেউ কেউ নিজেদের নানা অসুবিধা ও সীমাবদ্ধতার কথাও দলীয় ও সরকারপ্রধানের কাছে তুলে ধরেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করতে যাচ্ছে আজ সোমবার। এ উপলক্ষ্যে ইসি আজ ‘কমিশন সভা’ ডেকেছে। এই নির্বাচন নিয়েও সংসদীয় দলের সভায় আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলীয় এমপিদের নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন, এই নির্বাচনে কোনোভাবে যাতে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিটি স্থানে দলের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধীপক্ষ যাতে পরিবেশ নষ্ট কিংবা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে না পারে, সেবিষয়েও সতর্ক থাকার জন্য দলের এমপিদের পরামর্শ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সভায় তারেক রহমান বলেছেন, যে কোনো মূল্যে দেশের প্রতিটি এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। কোনো গুপ্ত ও পলাতক শক্তি যাতে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটাতে না পারে, সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। আসন্ন দুর্গাপূজায় কোনো মহল যাতে কোনো ধরনের অপরাধ করতে না পারে, সেজন্য দেশের প্রতিটি স্থানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদেরও সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন তিনি।
বৈঠক শেষে ঢাকা-১৮ আসনের বিএনপি দলীয় এমপি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ‘সভায় মূলত দলকে সুসংগঠিত করার এবং ঐক্য বজায় রাখার ওপর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দলের ঐক্য ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী এটাও বলেছেন, ঐক্য ধরে রেখে দলকে শক্তিশালী রাখতে পারলে কোনো ষড়যন্ত্রই সফল হতে পারবে না। এছাড়া, মাদক রোধে সকল এমপি যেন সোচ্চার ভূমিকা রাখেন সেই নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।’
নয়া দিগন্ত
‘দুই বছরে ২৩ মৃত্যুদণ্ডের কার্যকর হয়নি একটিও’—এটি দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, আগামী ১৪ অক্টোবর পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দুই বছর পূর্ণ হচ্ছে। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার সামনে রেখে পুনর্গঠিত এই ট্রাইব্যুনালে এ পর্যন্ত সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এসব রায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কার্যকর হয়নি একটিও মৃত্যুদণ্ড।
ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার পাশাপাশি দণ্ডিত আসামিদের গ্রেফতার, পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আপিলসহ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকরের বিষয়গুলো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দণ্ডিত ৬৮ জনের মধ্যে ৪৭ জনই পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র চারজন। অন্য দিকে ৭০টির বেশি মামলা বিচারাধীন এবং প্রসিকিউশনে জমা পড়েছে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ।
ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রমে অগ্রগতি হলেও রায় বাস্তবায়ন ও মামলার নিষ্পত্তির গতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, অনেক মামলায় এখনো অভিযোগ গঠন হয়নি, আবার কোনো কোনো মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করতেও বিলম্ব হচ্ছে। তারা দ্রুত বিচার শেষ করা, পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়ায় ঘোষিত রায় বাস্তবায়নের দাবি জানাচ্ছেন।
অন্য দিকে প্রসিকিউশনের বক্তব্য হচ্ছে, বিচার শেষে রায় ঘোষণা ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব। আপিল নিষ্পত্তি এবং চূড়ান্ত দণ্ড কার্যকরের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিচারিক ও নির্বাহী কর্তৃপক্ষকে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। ফলে মৃত্যুদণ্ড ঘোষিত হলেই তা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা সম্ভব নয়।
সাত মামলায় ২৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এরপর ট্রাইব্যুনাল-১ ও ট্রাইব্যুনাল-২-এ জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিচার শুরু হয়। এ পর্যন্ত ঘোষিত সাতটি রায়ে ২৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১১ জনকে যাবজ্জীবন এবং ৩৩ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজনের হাজতবাসকে সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল। রাজসাক্ষী হওয়ায় একজনকে ক্ষমা করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সর্বশেষ গত ১৫ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনাল-২ জুলাই হত্যাকাণ্ডের একটি মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এ নিয়ে সাতটি মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল, ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ এফ এম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত এবং পুলিশের কয়েকজন সাবেক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
পলাতক আসামিদের ফেরানো বড় চ্যালেঞ্জ
দণ্ডিতদের একটি বড় অংশ পলাতক থাকায় বিচারিক প্রক্রিয়ার পরবর্তী ধাপগুলো এগিয়ে নেয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ৬৮ জন দণ্ডিতের মধ্যে ৪৭ জন এখনো পলাতক। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৩ জনের মধ্যে গ্রেফতার হয়েছেন মাত্র চারজন। বিদেশে অবস্থানরত আসামিদের দেশে ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সহযোগিতা, প্রত্যর্পণ আইন এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামিম বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচার শেষে রায় ঘোষণা প্রসিকিউশন ও ট্রাইব্যুনালের কাজের অংশ। কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল হলে তা নিষ্পত্তির দায়িত্ব উচ্চ আদালতের। আর চূড়ান্তভাবে কার্যকরযোগ্য সাজা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট নির্বাহী কর্তৃপক্ষের।
তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালের দুই বছরের কার্যক্রম সম্পর্কে তারা সন্তুষ্ট। গত বছর যে গতিতে কাজ এগিয়ে নেয়ার পরিকল্পনা ছিল, সেই গতি বজায় রেখেই তারা এগোচ্ছেন। বর্তমান সরকার জুলাইয়ের বিচারপ্রক্রিয়ায় সব ধরনের সহযোগিতা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আপিল দায়েরের পর ৬০ দিনের মধ্যে তা নিষ্পত্তির বিধান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। তবে মামলার চাপসহ বিভিন্ন কারণে অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না বলে প্রসিকিউশনের দাবি। ফলে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পরও আপিল ও অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাজা কার্যকরের প্রশ্নে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। একই সাথে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার এবং দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বাধা হয়ে রয়েছে।
পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন বলেন, ট্রাইব্যুনাল থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ার পর অনেক আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তবে বিদেশে পালিয়ে যাওয়া আসামিদের সরাসরি অন্য দেশে গিয়ে গ্রেফতার করার আইনি এখতিয়ার পুলিশের নেই। পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোল এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
বিচারাধীন মামলার চাপ বাড়ছে
পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে অভিযোগের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। ২০০৯ সাল থেকে সংঘটিত গুম ও খুনের ঘটনাগুলোও বিচারের আওতায় আনা হচ্ছে। প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৬০০টি অভিযোগ জমা রয়েছে। সাতটি মামলার রায় ঘোষণা করা হলেও ৭০টির বেশি মামলা বিচারাধীন। এসব মামলার অনেকগুলো সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
বণিক বার্তা
দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম ‘কয়লা উত্তোলনে সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার, চ্যালেঞ্জ বাস্তুসংস্থান’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দশক ধরে কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছেন এমন দুজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হলে যদি খনি এলাকায় বিপুল মানুষের বসবাস, কৃষি জমি থাকে কিংবা পরিবেশগত ইস্যু থাকে, সেক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিত হবে।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবেলা ও আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের কয়লা উত্তোলন নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারো আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতির ওপর চাপ কমাতে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে সব ধরনের সম্ভাব্যতা যাচাই করছে সরকার। তবে সেক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ বাস্তুসংস্থানের ব্যবস্থাপনা। বিশেষত উন্মুক্ত পদ্ধতিতে (ওপেন পিট মাইনিং) কয়লা উত্তোলন করতে খনি এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষকে পুনর্বাসন; কৃষি জমি, সুপেয় পানি সংরক্ষণ ও পরিবেশগত-বাস্তুতান্ত্রিক প্রভাব সমন্বয়ের মতো জটিলতা সামনে আসে। এসব বিষয় সংবেদনশীল ও প্রযুক্তিগতভাবে পর্যালোচনা করে নিজস্ব খনিজ সম্পদ ব্যবহারে কীভাবে সামনে এগোনো যায়, সেটিই এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞ থেকে খোদ সরকারের সংশ্লিষ্টরা।
দেশে মোট পাঁচটি কয়লা খনিতে ৭৮০ কোটি টনের মতো কয়লা মজুদ রয়েছে। প্রতি টন কয়লার দাম ১৩৬ ডলার ধরলে এ পরিমাণ কয়লার মূল্য (বড়পুকুরিয়ার বর্তমান কয়লার টন হিসাবে) ১ লাখ ৬ হাজার ৮০ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩০ লাখ কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ কয়লা উত্তোলন করা গেলে দেশের অর্থনীতি ও জিডিপির আকারও বড় হবে।
দেশে বর্তমানে বড়পুকুরিয়া ছাড়া বাকি চারটি খনি থেকে কোনো ধরনের কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম নেই। বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দাম, বিপুল আমদানি ব্যয় ও আমদানিনির্ভর সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় অনিশ্চয়তাজনিত ঝুঁকি এড়াতে স্থানীয় কয়লাসম্পদ ব্যবহারে পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি আমদানি ব্যয়ের চাপ কমবে, অন্যদিকে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় স্থানীয় জ্বালানি ব্যবহার করা গেলে এলএনজি ও ফার্নেস অয়েলচালিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি ব্যয়ও কমে যাবে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের পরিপ্রেক্ষিতে অনেক দেশই কয়লা ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেকে এরই মধ্যে বাড়িয়েছে কয়লাভিত্তিক উৎপাদন। দেশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের ক্ষেত্রে পরিবেশ বিপর্যয়, কৃষি জমির ক্ষতি ও বিপুল পরিমাণ মানুষের স্থানান্তরের বিষয়গুলো সামনে আনে পরিবেশবাদীসহ বিভিন্ন মহল। তবে অনেক মাইনিং বিশেষজ্ঞের মতে, ঘনবসতি কিংবা কৃষি জমি আছে এমন কোনো এলাকায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে না, বিষয়টি এমন নয়। সেক্ষেত্রে খনি উন্নয়ন কার্যক্রম শুরুর আগে ভুক্তভোগীদের স্থানান্তর, ক্ষতিপূরণ, তাদের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ ও পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবেলায় কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে সেটিই বিবেচ্য বিষয়।
কয়লা উত্তোলনে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে গেলে কীভাবে স্থানীয়দের সঙ্গে বোঝাপড়া হবে সেটি গুরুত্বপূর্ণ। ভুক্তভোগীদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও দক্ষতার সঙ্গে করতে হবে বলে মনে করেন তারা। একই সঙ্গে পরিবেশগত প্রতিক্রিয়া কীভাবে সামলানো হবে সে বিষয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা থাকতে হবে।
দুই দশক ধরে কয়লা খনি নিয়ে কাজ করছেন এমন দুজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়লা উত্তোলনের উদ্যোগ নেয়া হলে যদি খনি এলাকায় বিপুল মানুষের বসবাস, কৃষি জমি থাকে কিংবা পরিবেশগত ইস্যু থাকে, সেক্ষেত্রে অন্তত তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিত হবে। প্রথমত, সামাজিক নেটওয়ার্ক অর্থাৎ কয়লা উত্তোলন বিষয়ে বিস্তারিত স্থানীয়দের সঙ্গে শেয়ার করা। যেখানে স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা, সুবিধা, ভবিষ্যৎ প্রজম্মের বিষয়গুলো অগ্রাধিকারভুক্ত হবে। দ্বিতীয়ত, রিসেটলমেন্ট ওয়ার্ক অর্থাৎ যাদের জমি খনিতে ব্যবহার হচ্ছে, তারা কীভাবে এ প্রকল্প থেকে সুবিধাভোগী হবেন, তাদের ক্ষতিপূরণ ঠিকমতো দেয়া হচ্ছে কিনা কিংবা তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট কিনা সে বিষয়গুলো নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, মাইনিং ওয়ার্ক—এ পর্যায়ে কীভাবে খনন কার্যক্রম শুরু হবে, কীভাবে খনির উন্নয়ন হচ্ছে—সব ধরনের মূল্যায়ন বিবেচনায় নেয়া।
তাদের মতে, সরকার স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে সিদ্ধান্ত নিলে একটি সমন্বিত কমিটি করতে হবে। এ কমিটিতে নীতিনির্ধারক, সরকারের আমলা, সংসদ সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ভুক্তভোগী সবাইকে সম্পৃক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, কয়লা উত্তোলনে যাওয়ার আগে শুরুতে যে সমীক্ষার ওপর সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে তা তৃতীয় পক্ষ দিয়ে সরকার পর্যালোচনা করাতে পারে। এমনকি আগের সমীক্ষায় যদি কোনো বিষয় নিয়ে আপত্তি থাকে সেগুলোও পর্যালোচনা করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সরকার বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, আমদানি হ্রাসের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে স্থানীয় কয়লা উত্তোলনে জোর দিচ্ছে। সেক্ষেত্রে সরকার দিনাজপুরের ফুলবাড়ী খনি থেকে কয়লা উত্তোলনের বিষয়টি প্রাথমিক অগ্রাধিকারের তালিকায় রেখেছে। এ খনি থেকে উত্তোলন শুরু হলে বছরে ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটি টন কয়লা পাওয়া যাবে বলে খনিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। সেক্ষেত্রে দেশে স্থাপিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি করা কয়লা চাহিদার ৭৫ শতাংশই স্থানীয় উৎস থেকে মেটানো যাবে। সেক্ষেত্রে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আগে যেসব সমীক্ষা হয়েছে সেগুলো পর্যালোচনা করতে হবে। কয়লা উত্তোলনে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হলেও ঝুঁকি নিতে হবে বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। বিশেষত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কয়লা ব্যবহার জরুরি হয়ে উঠেছে বলে মনে করেন তারা।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ম. তামিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশের কয়লা উত্তোলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হলে নিরপেক্ষ সমীক্ষা প্রয়োজন। আমি মনে করি, আমাদের কয়লা উত্তোলনের ব্যবস্থাপনাটা ভালোভাবে তৃতীয় কোনো পক্ষ, যার কোনো স্বার্থ নেই, এ রকম কাউকে দিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা দরকার। তারা যদি বলে যে এটার ঝুঁকি সীমিত আকারে এবং সে ঝুঁকি সামলানো সম্ভব হবে, কোনো সমস্যা হবে না, তাহলে আমরা এগিয়ে যেতে পারি। আর যদি বলে ঝুঁকি অনেক বেশি, তাহলে আমরা দেশীয় কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সম্পূর্ণ পরিত্যাগ করতে পারি। ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জকে ভয় পেলে চলে না। পৃথিবীর কোনো বড় প্রজেক্ট, মেগা প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ারিং চ্যালেঞ্জ ছাড়া হয়নি।’
আজকের পত্রিকা
‘মাধ্যমিক স্তর: নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণ নিতে হবে শিক্ষকদের’—এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগে বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগে শিক্ষক পদে নিয়োগের পর নিয়োগপ্রাপ্তরা প্রশিক্ষণের আওতায় আসতেন। এই নিয়ম পরিবর্তন করে নিয়োগের আগেই প্রার্থীদের প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকদের পেশাদারত্ব বাড়ানোর জন্য একটি প্রকল্পের প্রাথমিক খসড়ায় এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এই প্রাথমিক খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। প্রাথমিক হিসাবে, ‘প্রফেশনালাইজেশন ফর এনহ্যান্সড লার্নিং প্রজেক্ট’ নামের এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ২৪৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয় হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থের বড় অংশই খরচ হবে কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও মেরামত এবং পেশাগত সেবা খাতে। প্রকল্পের পুরো অর্থই বৈদেশিক অনুদান হিসেবে পাওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য বাস্তবায়নকাল চলতি বছরের নভেম্বর থেকে ২০৩০ সালের অক্টোবর পর্যন্ত।
জানতে চাইলে মাউশির পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইং) অধ্যাপক ড. মীর জাহীদা নাজনীন গত মঙ্গলবার আজকের পত্রিকাকে বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে বর্তমান সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর অংশ হিসেবে শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শিক্ষাবিদেরা শিক্ষক নিয়োগের আগে প্রাক্-চাকরিকালীন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁরা বলছেন, এর মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকতা পেশা সাধারণ চাকরির মতো না হয়ে একটি পেশাগত কাঠামোর মধ্যে আসবে। তবে এ কার্যক্রম একটি সমন্বিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালনা করতে হবে। তাহলেই শিক্ষার মানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
দেশে মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক রয়েছেন মোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৪ জন। তাঁদের মধ্যে নারী ৭৩ হাজার ৪৯ জন। মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষক মূলত দুভাবে নিয়োগ পান। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ হয় সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে। বেসরকারি পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে। নিয়োগের পর মাউশির বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে এসব শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ হয় এককালীন।
বিভিন্ন দেশে শিক্ষকতা পেশায় যোগদানের আগে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। ইউরোপের দেশ ফিনল্যান্ডে শিক্ষকতা পেশায় আসতে হলে শিক্ষাবিজ্ঞান-সংক্রান্ত অধ্যয়ন (পেডাগোজিক্যাল স্টাডিজ) সম্পন্ন করতে হয়। সিঙ্গাপুরেও প্রাক্-চাকরিকালীন শিক্ষক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এ ছাড়া জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় শিক্ষকতা পেশায় প্রবেশের জন্য লাইসেন্স নিতে হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত সোমবার বিশ্ব শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই ‘উপায়হীন বিকল্প’ বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষাদীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে।
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ভেরিফিকেশনের ফাঁদে মেধা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক তিন ধাপের কঠিন প্রতিযোগিতা পেরিয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ পাওয়ার পরও সরকারি চাকরির নিশ্চয়তা নেই। শেষ ধাপে এসে ‘ভেরিফিকেশন’ নামের আরেক পরীক্ষায় আটকে যেতে পারেন একজন চাকরিপ্রার্থী। কখনো রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায় মামলা, আবার স্থায়ী ঠিকানায় জমি-বাড়ি না থাকার মতো কারণও জটিলতা তৈরি করছে। এমনকি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ কী, সেটিও তিনি জানতে পারেন না।
সর্বশেষ ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেটে সেই বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া ৬৬৮ জনের মধ্যে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে গত ৩০ সেপ্টেম্বর গেজেট প্রকাশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বাদ পড়েন ৫৭ জন। গেজেটে তাদের বাদ দেওয়ার নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করা হয়নি। যারা বাদ পড়েছেন তারা নিজেদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা না থাকার দাবি করে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি নিজ নিজ বিষয়ে মেধাক্রমে শীর্ষে থাকা কয়েকজনের নামও গেজেট থেকে বাদ পড়ে। যদিও ব্যাপক সমালোচনার মুখে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে ৫ অক্টোবর রাতে ৪০ জনের গেজেট প্রকাশ হয়।
গত এক দশক ধরে বিসিএসের ফলাফল প্রকাশের পর চূড়ান্ত পর্যায়ে ভেরিফিকেশনের নামে প্রার্থীদের আটকে দেওয়া নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২৮তম থেকে ৪২তম বিসিএস পর্যন্ত বিভিন্ন বিসিএসে ভেরিফিকেশনে বাদ পড়েন ২৫৯ জন। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বাদ পড়াদের ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট নতুন করে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। ওই ১৫ বিসিএসের মধ্যে ৩৩তম বিসিএসে ২২ জন, ৩৪তমে ১৮, ৩৫তমে ২৬, ৩৬তমে ৫৩, ৩৭তমে ৪০, ৩৮তমে ১৮, ৩৯তমে ৪১ জনসহ মোট ২৫৯ জন ছিলেন। সরকারি সিদ্ধান্ত ও সংবাদ প্রতিবেদনে সূত্রে জানা যায়, নেতিবাচক পুলিশি বা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কারণে তাদের বাদ দেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ৪৪তম বিসিএসেও পিএসসির চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়া ১ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে ১ হাজার ৪৯০ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। বাদ পড়েন ১৮৬ জন। আর ৪৩তম বিসিএসের ঘটনা ভেরিফিকেশন নিয়ে প্রশ্নটিকে আরও গভীর করে। পিএসসি ২ হাজার ১৬৩ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করেছিল। প্রথম গেজেটে ৯৯ জন বাদ পড়েন। পরে সেই গেজেট বাতিল করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপস্থিত ৪০ জন এবং গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ‘সাময়িকভাবে অনুপযুক্ত’ ২২৭ জনসহ মোট ২৬৭ জনকে বাদ দিয়ে ১ হাজার ৮৯৬ জনের নতুন গেজেট প্রকাশ করা হয়। পরে বাদ পড়া ব্যক্তিদের একটি অংশকে পুনরায় গেজেটভুক্ত করা হয়েছে; সর্বশেষ ১৬২ জনের নাম নতুন করে গেজেটে এসেছে।
৩৮, ৩৯ ও ৪০তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়েও নিয়োগ পাননি চিকিৎসক মো. সাইদুল ইসলাম। তার দাবি, নিজের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকলেও বাবা ও ভাইয়ের রাজনীতির কারণে নেতিবাচক প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছিল।
৪৯তম বিসিএসে (বিশেষ) সমাজকল্যাণ বিষয়ে প্রথম হয়েও গেজেটে নাম আসেনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বেলালের। গেজেটে নাম না আসার বিষয়ে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘৪৯তম বিসিএসে সমাজকল্যাণে প্রথম হয়েও আমার গেজেটে নাম এলো না। জুলাইয়ে সক্রিয় ছিলাম। আমার অপরাধ কী বুঝতে পারলাম না। এটাই কী আমার অপরাধ?’
একইভাবে ৩৮তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েও গেজেটে নাম না আসার কথা জানিয়েছেন বিল মারুফ বিন বারিক। তার ধারণা ছিল, তার বাবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ভেরিফিকেশনে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল। এসব অবশ্য সংশ্লিষ্ট ভুক্তভোগীদের বক্তব্য; কিন্তু প্রকাশিত গেজেটে বাদপড়াদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ উল্লেখ করতে দেখা যায়নি।
সরকার বদলায়, প্রশ্নটি থেকে যায়: সরকারি চাকরিতে পুলিশি যাচাই নতুন কোনো ব্যবস্থা নয়। পুলিশ সংস্কার কমিশনে বলা হয়েছিল, এর শিকড় ব্রিটিশ আমলে; ১৯২৮ সাল থেকে এ ধরনের ভেরিফিকেশনের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে পুলিশ ভেরিফিকেশনে সাধারণত প্রার্থীর মামলা, অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, গ্রেপ্তার বা দণ্ডিত হওয়ার তথ্যসহ বিভিন্ন বিষয় যাচাই করা হয়। কিন্তু রাজনৈতিক মতাদর্শ বা পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়কে কতটা বিবেচনায় নেওয়া হবে, সেটিই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘হুতি হামলায় ঝুঁকিতে বাংলাদেশিরা’—এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সৌদি আরবের রিয়াদে বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি ও বগুড়ার শাজাহানপুরের মো. শাহেদ আহম্মেদ। এদের একজন ছিলেন ওমরাহ যাত্রী। অন্যজন চাকরি করতেন রিয়াদে। হামলায় আহত হয়েছেন ২৫ বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন চার বাংলাদেশি। হুতিদের হামলার ঘটনায় সৌদিআরবে বাংলাদেশিরা পড়েছেন ঝুঁকিতে। সংকট তৈরি হয়েছে ঢাকায়ও। একের পর এক ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় শিডিউল লন্ডভন্ড হয়ে পড়েছে।
এতে ৩ হাজার বাংলাদেশি আটকা পড়েছেন দেশে। ঢাকায় এসে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছানো প্রবাসী কর্মীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। আটকাপড়াদের অনেকেরই সৌদি আরবে প্রবেশের সময়সীমা শেষের দিকে থাকায় তৈরি হয়েছে তাদের কাজের অনিশ্চয়তা। সৌদির বিমানবন্দরে হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। গতকাল বিকাল পর্যন্ত বাতিল হওয়া আটটি ফ্লাইটের মধ্যে রয়েছে-বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুটি, ইউএস-বাংলার একটি, সৌদিয়ার তিনটি, রিয়াদ এয়ারের দুটি। এসব ফ্লাইটের প্রায় ৩ হাজার যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আজ দুপুর ১২টায় পরবর্তী ফ্লাইট শিডিউল ঘোষণা করবে।
শনিবার মধ্যরাতে রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় হুতি বিদ্রোহীরা। এতে সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায় বিমানবন্দরের কার্যক্রম। বাতিল করা হয় তিন শতাধিক ফ্লাইট। এ ছাড়াও হামলায় ১২ জন নিহত ও ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সৌদি আরবের চারজন, বাংলাদেশের দুজন এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক রয়েছেন।
গতকাল বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় দুই বাংলাদেশি নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিরা সৌদির কিং খালেদ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সবার পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, আহতদের সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে রিয়াদের বাংলাদেশ দূতাবাস। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের লাশ রাষ্ট্রীয় খরচে দেশে আনার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ হামলায় বাংলাদেশি কোনো বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলেও জানান শামা ওবায়েদ।
আহত বাংলাদেশিরা: রিয়াদের কিং খালেদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ২৫ জন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হয়েছেন। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেক কর্মী ও বাকি অর্ধেক ওমরা করতে গিয়েছিলেন। আহতদের মধ্যে কিং আবদুল্লাহ হাসপাতালে হাফিজ হাসান (পাসপোর্ট নম্বর : এ২২৭৮২৭৬৪), হাজী নুরুল্লাহ (পাসপোর্ট নম্বর : এ২২৭৫৮১৮৭), ওমর ফারুক (ইকামা নম্বর: ২৫৬৫০৭৫৮৩১), রিয়াদ ন্যাশনাল গার্ড হাসপাতালে সারফাত রহমান (পাসপোর্ট নম্বর: এ২০৮৯৭০০৬), দাউদুল ইসলাম (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৮১৮৬); রিয়াদ মেডিকেল হাসপাতালে সাইদুল ইসলাম সৌরভ (পাসপোর্ট নম্বর: এ১২৭৭৮৭৯৩), আবুল মনসুর মো. রিয়াজ উদ্দীন (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৭৯৬১৮৫৩), প্রিন্স সুলতান মিলিটারি হাসপাতালে মো. আব্দুল্লাহ (পাসপোর্ট নম্বর: এ১১৩৮৬৯৮৪), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালে আরমান হোসেন (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৮১৮৩), মোহাম্মদ (ইকামা নম্বর: ২২২৮৮৪০১১৬), ফয়সাল আহমদ আবদুল হক (ইকামা নম্বর: ২৪৫০২৫৮৪২৭), কিংডম হাসপাতালে মো. রফিক মিয়া (ইকামা নম্বর: ২৫২৯৮৮৪৯৮৯), কিং ফাহাদ মেডিকেল সিটি হাসপাতালে ইসমাইল হোসাইন (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৯৪৮৬৪৭৩), মিসবাহ উদ্দীন হীরক (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৬৫১১১৯৫), রায়হানুল ইসলাম (ইকামা নম্বর: ২৬২৫১১২৯১৩), প্রিন্স মোহাম্মদ বিন আবদুল আজিজ হাসপাতালে সালমা আক্তার (ইকামা নম্বর: ২৩৯৫৭৮২২২৪), শাহাদাত হোসেন (ইকামা নম্বর: ২৬০০৭৭৯৮১৯), মোশাহিদ আহমদ সৈকত (ইকামা নম্বর: ২৬২৪৩১১১৬৯), জাহিদ আহমেদ (ইকামা নম্বর: ২৪৪৪০৫১২৬৮), সোবহে সাদেক মো. শাহজাহান সরকার (ইকামা নম্বর: ২৪৭০৯৭১৭৬৯), এস্টার সনদ হাসপাতালে আসাদুল ইসলাম (ইকামা নম্বর: ২৫৪৪২৪৪৮৬২), মো. জামাল (পাসপোর্ট নম্বর: এ১২৬৩৭৩৩১), সুলাইমান ফকিহ হাসপাতালে নাজমা আক্তার (পাসপোর্ট নম্বর: এ০৯৭৭৬৮৪৮), সুলাইমান আলহাবিব হাসপাতালের আল সাহাফা শাখায় উমায়ের (পাসপোর্ট নম্বর: এ২২৭৫৬৭৯০) ও আব্দুল্লাহ কামিল (নথিতে উল্লিখিত নম্বর: ১০৮৫৯৭৩৭৭২)।
