আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্টের ফল টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফলাফলে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে পরের চারটি চ্যাম্পিয়নশিপের সিরিজে আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এটা বলাই যায়। পয়েন্ট তালিকায় চার নম্বরে উঠে আসা দল বাকি ম্যাচগুলোতে জিতলে ফাইনাল খেলার সুযোগ থাকবে। এ নিয়ে কথা বলেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার। তাকে এই স্বপ্ন দেখাচ্ছে টাইগারদের দারুণ ফর্মে থাকা পেস বিভাগ। যদিও চোটের কারণে পেস ইউনিটের তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা দলের বাইরে রয়েছেন। তবে তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ পেয়ে হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন পেস আক্রমণে দারুণ ভূমিকা রাখছেন। পেসারদের এই পারফরম্যান্স ও দলের বোলিং বিভাগ নিয়ে আত্মবিশ্বাসী প্রধান নির্বাচক বাশার। তিনি বলেন, ‘ফ্যান্টাস্টিক বোলিং বলবো। আমরা যেভাবে সিরিজে ঘুরে দাঁড়িয়েছি, তা অসাধারণ। আফগানিস্তান গতকাল ভালো ব্যাটিং করেছিল। এখানকার উইকেটে ফাস্ট বোলারদের জন্য কন্ডিশন বেশ কঠিন। অনেক গরম এবং আর্দ্রতা বেশি।
অস্ট্রেলিয়ার উইকেটে বোলিং করা কিছুটা স্বস্তিদায়ক থাকে, কারণ সেখানে আবহাওয়া ভালো থাকে এবং উইকেটেও সাহায্য মেলে। কিন্তু এই কন্ডিশনে ৫ উইকেট পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার। হাসান মাহমুদ ও ইবাদত হোসেন দু’জনেই অসাধারণ বোলিং করেছে।’ পেসারদের এই দাপটে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভালো অবস্থান তৈরি করেছে দল। বাশারের মতে পেসাররা পরিবর্তনের ধারা তৈরি করেছেন। তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের অনুপস্থিতি পেস আক্রমণে প্রভাব ফেলতে পারেনি। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেট নেয়ার পর একাদশের বাইরে আছেন শরিফুল। পেস আক্রমণের সাফল্য নিয়ে বাশার বলেন, ‘আমাদের একাদশের বাইরেও তাসকিন ও শরিফুলের মতো দুজন সেরা ফাস্ট বোলার। শরিফুল শেষ ম্যাচে ৬ উইকেট পেলেও এই ম্যাচে খেলেননি। তা সত্ত্বেও যারা
খেলেছেন, তারা অসাধারণ বল করেছেন। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে আমরা এখন ৪ নম্বরে আছি। এই সাফল্যের পেছনে পুরো দলের অবদান থাকলেও আমাদের পেসাররাই মূলত এই বিপ্লবটা ঘটাচ্ছেন।’ টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চার নম্বর স্থান ধরে রেখে ফাইনালে ওঠার পথ তৈরি করতে চায় দল।
অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের আগে পেসার নাহিদ রানার চোট নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ট্রাই-নেশন সিরিজে তাকে খেলানোর পরিকল্পনা থাকলেও চোটের কারণে তিনি খেলতে পারছেন না। বর্তমানে তাকে নিয়ে স্ক্যান করানো হচ্ছে এবং প্রয়োজনে চিকিৎসার জন্য বাইরে পাঠানোর প্রস্তুতি রয়েছে। নির্বাচকরা তাকে মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। রানা ও দলের বোলিং আক্রমণ নিয়ে বাশার বলেন, ‘নাহিদ রানা নিঃসন্দেহে একজন স্পেশাল বোলার, বিশ্ব ক্রিকেটেই সে আলাদা। তবে আমাদের অন্য পেসারদেরও সমান কৃতিত্ব দিতে হবে। হাসান মাহমুদ কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে উইকেট পাচ্ছে, ইবাদত ফ্ল্যাট উইকেটে দারুণ বল করেছে। নাহিদকে নিয়ে আমরা কোনো তাড়াহুড়ো বা ঝুঁকি নিতে চাই না।’ দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনার পেছনে
অধিনায়কদের ভূমিকা তুলে ধরেছেন বাশার। নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসের নেতৃত্বে দলের ভেতর সমন্বয় তৈরি হয়েছে। অধিনায়কত্ব নিয়ে বাশার বলেন, ‘একজন অধিনায়কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো নিজের দল এবং খেলোয়াড়দের মানসিকতা বুঝতে পারা। শান্ত এই কাজটা দারুণভাবে করছে। আমাদের লিটন দাসও অধিনায়ক হিসেবে বেশ ভালো করছে। অধিনায়করা যখন দলকে ভালোভাবে বোঝেন, তখন দলের পারফরম্যান্সেও ধারাবাহিকতা আসে।’
আসন্ন ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বাশার বলেন, ‘একটা দল তখনই ভালো করে যখন একাদশ সেটেলড থাকে। তবে যেকোনো সময় ইনজুরি হতে পারে, তাই আমাদের স্কোয়াডের গভীরতা বাড়ানো প্রয়োজন। বিশ্বকাপের ঠিক আগে আমরা কোনো অপ্রত্যাশিত সারপ্রাইজ চাই না। প্রস্তুত থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য।’
