বিচারিক আদালতে দ্রুত রায়, হাইকোর্টে থমকে রামিসা হত্যা মামলার শুনানি

ফন্ট সাইজ:

মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে বিচার শেষ করে ৭ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন বিচারিক আদালত। কিন্তু দ্রুত রায় ঘোষণার পরও উচ্চ আদালতে এসে থমকে আছে মামলাটির পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া। এখনো শুরু হয়নি ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি। আগামী ২৫শে অক্টোবর ছুটি শেষে হাইকোর্ট খোলার পর চলতি বছরের অবশিষ্ট সময়ের মধ্যে মামলাটির শুনানি সম্পন্ন হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে মৃত্যুদণ্ড দেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। গত ৭ই জুন ঘোষিত ওই রায়ে দু’জনকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেয়া হয়। বিচারিক আদালতে দ্রুত বিচার সম্পন্ন হলেও উচ্চ আদালতে মামলাটির শুনানি এখনো শুরু হয়নি।

রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা গত ২৬শে সেপ্টেম্বর মামলার অগ্রগতি জানতে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেল তাকে আশ্বস্ত করেন, বর্তমান সরকার তাদের পাশে আছে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস কার্যকর ভূমিকা রাখবে। শিশু রামিসা হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ের মাত্র দু’দিন পরই মামলার নথি উচ্চ আদালতে পাঠানো হয়। দ্রুত শুনানির লক্ষ্যে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুকও প্রস্তুত করা হয়। রামিসা হত্যা মামলাসহ সংবেদনশীল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গত জুন মাসে হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করা হয়। ইতোমধ্যে এই বেঞ্চ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় ২৪টি মামলার আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করেছে। তবে রামিসা হত্যা মামলার শুনানি এখনো শুরু হয়নি। সমপ্রতি কুমিল্লায় এক স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে অটোরিকশাচালক সুমনের বিরুদ্ধে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা দমনে দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন আইনজ্ঞরা। তাদের মতে, বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় ঘোষণার পাশাপাশি উচ্চ আদালতেও মামলাগুলোর শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করা জরুরি।

বর্তমানে সারা দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় মৃত্যুদণ্ডের সাজার বিরুদ্ধে আপিল শুনানি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ রয়েছে। তবে মাত্র একটি বিশেষ বেঞ্চে এসব মামলার আপিল শুনানি হওয়ায় নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এ পরিস্থিতিতে নারীদের প্রতি সহিংসতা দমনে হাইকোর্টে বিশেষ বেঞ্চের সংখ্যা বাড়ানো যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবা তাসনিম আঁখি। তিনি মানবজমিনকে বলেন, ধর্ষণ ও হত্যাসহ নারীদের প্রতি সহিংসতার মামলায় বিচারিক আদালতে দ্রুত রায় হলেও হাইকোর্টে এসে যেন আইনি প্রক্রিয়া থমকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি দ্রুত সম্পন্ন করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা গেলে নারীদের প্রতি সহিংসতা অনেকাংশে কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন। এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল মানবজমিনকে বলেন, মামলার স্তূপ, প্রয়োজনের তুলনায় বিচারক সংখ্যা কম, আমাদের ওই রকম দক্ষ, অভিজ্ঞ বিচারকের সংখ্যা কম, মানুষের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা আছে।

তারপরে মানুষকে অতিরঞ্জিত করে কোনো ঘটনা বর্ণনা করার প্রবণতা আছে-নানা রকম বিষয় আছে। সবগুলো বিষয় বিবেচনা করলে মোদ্দাকথা দাঁড়ায়, যদিও সংবিধানে একজন ব্যক্তির, একজন নাগরিকের দ্রুততম সময়ে বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, বাস্তবতা হচ্ছে- নানা কারণে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে পারি না। অনেক সময় চেষ্টা করলেও পারি না। তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকে। তিনি আরও বলেন, মাগুরার আছিয়া, ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলা-সেগুলোর দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাইকোর্ট পর্যন্ত রায় হয়েছে। আমরা আরেকটি রায়ের জন্য অপেক্ষা করছি, রামিসা। সে মামলার শুনানি হয়তো ২৫শে অক্টোবর কোর্ট খোলার পরে হবে। আমাদের জানামতে, সিনহা হত্যা মামলাটিও আপিল বিভাগে দ্রুততম সময়ে নিষ্পত্তির জন্য আমাদের উদ্যোগ আছে। আমরা চেষ্টা করি, সেগুলোর ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।