তদন্তে অসহযোগিতা করলে আইনি ব্যবস্থা: চট্টগ্রামের সিএমএম

ফন্ট সাইজ:

নিরপরাধ ব্যক্তি যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হন, আবার প্রকৃত অপরাধীও যেন আইনের ফাঁক গলে ছাড়া না পান-এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এজিএম মনিরুল হাসান সরকার। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় ও জবাবদিহির ভিত্তিতে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। শনিবার চট্টগ্রাম চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির সর্বশেষ সংশোধনী যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। তদন্তের প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতা করতে হবে। কেউ অসহযোগিতা করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, যার ওপর যে দায়িত্ব অর্পিত, তা আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করাই দেশপ্রেমের পরিচয়।

আইনের মধ্যে থেকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। কনফারেন্সের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও ফোকাল পারসন মো. মহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, দ্রুত মামলা নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। উপস্থাপনার মাধ্যমে তিনি চট্টগ্রাম মহানগর ম্যাজিস্ট্রেসির প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মামলার সংখ্যা ও বিচারকের সংখ্যা তুলে ধরেন। মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচারকের সংখ্যা না বাড়ার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়ার অনুরোধ জানান তিনি। ফৌজদারি কার্যবিধির সংশোধনী নিয়ে আলোচনা করেন মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেন। আসামি আটক থেকে শুরু করে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সংশোধিত আইনের যথাযথ প্রয়োগ ও অনুসরণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি। কনফারেন্সে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি তারিক আহম্মদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুদ্দিন মামলার তদন্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে সম্পন্ন করা, জব্দ করা আলামত ধ্বংস, আদালতের প্রবেশপথ ও চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং আদালতে আসা আসামি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদালত প্রাঙ্গণের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপরও গুরুত্ব দেন তারা।

মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া চট্টগ্রাম মহানগরে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা এবং আদালতের পরিবেশ রক্ষায় পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। পরে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের পরিচালনায় উন্মুক্ত আলোচনায় সমন জারি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, সাক্ষী হাজির, জখমি সনদ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আদালতের নিরাপত্তাসহ ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়ার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। কনফারেন্সে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান, উপ-কমিশনার (প্রসিকিউশন) মো. হাসান ইকবাল চৌধুরী, আনসার ও ভিডিপির পরিচালক মো. আমিন উদ্দিন, শিল্প পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আরাফাতুন নূর বাঁধনসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া মহানগরের ১৬ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, পিবিআই, গোয়েন্দা পুলিশ, শিল্প পুলিশ, নৌপুলিশ, ট্রাফিক পুলিশ ও সিআইডি’র প্রতিনিধি এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও কারা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।