হঠাৎ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদবীধারী নেতাদের বহিষ্কার ও পদত্যাগের হিড়িক পড়েছে। ৬ই অক্টোবর এনসিপি ও তার সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতাকে বহিষ্কারের সূত্র ধরেই এ পর্যন্ত অন্তত ২১ জন নেতা পদত্যাগ করেছেন। এমনটি জানিয়েছেন দলের নেতাকর্মীরা। এনসিপি ও তার সহযোগী সংগঠনের ৬ নেতার বহিষ্কার ও ২১ জনের পদত্যাগ নিয়ে এখন জেলা জুড়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে সরব আলোচনা। এতে হতবাক হচ্ছেন জেলায় তাদের সমমনা (জোট) দলসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরা। তবে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা দলের হাইকমান্ডের প্রতি আনুগত্যতা জানিয়ে দৃঢ়তার সঙ্গে বলছেন, কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এমন সিদ্ধান্ত তৃণমূলে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, সাংগঠনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা ও নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। তবে নেতাদের বহিষ্কারের পক্ষে-বিপক্ষে পদত্যাগের হিড়িক পড়ায় তারা বিব্রত।
নেতাকর্মীরা জানান, দলীয় নেতাকর্মীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে দলের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ৬ নেতাকে বহিষ্কার করেছে এনসিপি ও তার সহযোগী সংগঠন। দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি ও নীতিবিরোধী সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মৌলভীবাজার এনসিপি ও সহযোগী সংগঠন যুবশক্তি এবং ছাত্রশক্তির ৬ পদধারী নেতাকে দলের সকল পদ ও প্রাথমিক সদস্য থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করা হয়। এর আগে আরও দুইজন জেলা আহ্বায়ক কমিটির নেতা নিজেদের ফেসবুক স্ট্যাটাসে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে দলের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে তারা সরে যাওয়ার কথা জানান। বহিষ্কারের পর এনসিপি’র জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তানিম আহমদসহ ছাত্রশক্তি ও যুবশক্তির বহিষ্কার হওয়া নেতাদের পক্ষে ও বিব্রত হয়ে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়েও দলের জেলা ও উপজেলা নেতাকর্মীরা পদত্যাগ শুরু করেন। তবে বহিষ্কারের বিষয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জেলা ও উপজেলার নেতাকর্মীরা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ায় তারা নেতৃবৃন্দের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছেন।
তারা বলেন, এরই মধ্যদিয়ে প্রমাণিত হলো এনসিপি ও তার সহযোগী সংগঠনের কোনো নেতাকর্মী নিজ স্বার্থে দলের পদ-পদবী ব্যবহার করে দলের শৃঙ্খলাবিরোধী বিতর্কিত কাজের সঙ্গে জড়ালে দলের হাইকমান্ড এমন কঠিন সিদ্ধান্ত নেবেন। বহিষ্কারাদেশপ্রাপ্তরা হলেন- এনসিপি’র মৌলভীবাজার জেলা শাখার আহ্বায়ক কমিটির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এহসান জাকারিয়া ও জেলা সমন্বয় কমিটির সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী তামিম আহমেদ, জাতীয় যুবশক্তির সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক মারুফ আল হামিদ, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সদস্য জাবেদ রহমান, ছাত্রশক্তির মৌলভীবাজার জেলার (ভারপ্রাপ্ত) সদস্য সচিব শাফকাত হোসেন সাদেক ও মুখ্য সংগঠক মামুন রহমান রাজু। গত মঙ্গলবার রাতে দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সম্পাদকদের নির্দেশক্রমে দলীয় প্যাডে এনসিপি’র দপ্তর সেলের সদস্য সাদিয়া ফারজানা দিনা, যুবশক্তির দপ্তর সেলের দপ্তর উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার শাকিল আহমাদ ইকবাল এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির দপ্তর সম্পাদক সরদার নাদিম মাহমুদ শুভ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিগুলোতে জানানো হয়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে।
এ ছাড়া, দল থেকে পদত্যাগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান দেন ও সাংগঠনিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন যারা, তারা হলেন- এনসিপি’র সার্চ কমিটির সদস্য, যুগ্ম সমন্বয়ক ও মৌলভীবাজার জেলা কমিটির জুলাই গণ-অভ্যুত্থান ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, জেলা কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব সামায়েল রহমান, সাফওয়ান জাহান চৌধুরী, কামরুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম রুমন, যুগ্ম সদস্য সচিব বড়লেখা উপজেলা সৈয়দ নাসের, সাইফুর রহমান, রাবিন আহমদ, সদস্য আশরাফুল ইসলাম, আকচান, কুলাউড়া উপজেলা ইব্রাহিম মাহমুদ। জাতীয় ছাত্রশক্তির জেলা শাখার আব্দুল্লাহ আল সামী, শরীফ আহমদ, রাহাত আহমদ, জুড়ী উপজেলা সদস্য সচিব তোফায়েল আহমদ ও রুহুল আমিন। জাতীয় যুবশক্তির বড়লেখা উপজেলার সিনিয়র মুখ্য সংগঠক আলী আহসান মুজাহিদ, মুখ্য সংগঠক নাঈম আহমদ, লতিফ আহমেদ প্রমুখ। দলীয় নেতাদের পদত্যাগের বিষয়ে এনসিপি’র জেলা আহ্বায়ক খালেদ হাসান ও সাংগঠনিক সম্পাদক (জুড়ী ও বড়লেখা) মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন জানান, পদত্যাগের বিষয়ে তারা এখনো কোনো লিখিত দেননি। অন্যদের মুখে শুনেছেন ও তাদের সোশ্যাল মিডিয়ায় তারা জানিয়েছেন এমনটি জেনেছেন। লিখিত পেলে ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের কাছে পাঠাবো। তারা সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবেন।
