রমজানে খাদ্য সরবরাহে সংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

রমজানে খাদ্য সরবরাহে সংকট হবে না: খাদ্যমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

আসন্ন রমজানে দেশে খাদ্যপণ্যের সরবরাহে সংকট হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তবে বাড়তি চাহিদা, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে আগেভাগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়ার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। শনিবার চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে খাদ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরে তিনি দেওয়ানহাট সিএসডি’র গুদাম পরিদর্শন করেন এবং হালিশহর সিএসডি’র সম্মেলন কক্ষ উদ্বোধন করেন। খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। তবে শুধু মজুত থাকলেই হবে না, সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

আসন্ন রমজানে বাজারে খাদ্যপণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, অপচয় রোধ এবং সরকারি সম্পদের যথাযথ ব্যবহারে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সংকটসহ বিভিন্ন কারণে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার চাপ তৈরি হতে পারে। এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে বাজারে খাদ্য সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আরও বলেন, খাদ্যপণ্যের সম্ভাব্য চাহিদা নিরূপণ, আমদানি ও অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। আমদানি করা খাদ্য নির্ধারিত সময়ে দেশে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উপরও গুরুত্ব দেন তিনি। খাদ্য বিভাগের জনবল সংকট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা দূর করতে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন খাদ্যমন্ত্রী। চট্টগ্রাম জেটি ও সাইলো পরিদর্শন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোর কার্যকারিতা, প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং খাদ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা সরজমিন পর্যালোচনা করা হয়েছে।

চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গুদামগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, সংরক্ষিত খাদ্যের গুণগত মান পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সচল রাখার নির্দেশনার কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি দীর্ঘদিন অব্যবহৃত স্থাপনা পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করা, গুদামভিত্তিক খাদ্য মজুতের সঠিক হিসাব রাখা এবং নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার উপর জোর দেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা, গুদামভিত্তিক মজুত ও সরবরাহ সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। খাদ্য সংগ্রহ থেকে সংরক্ষণ ও বিতরণ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সমন্বয় নিশ্চিত করা গেলে সময়ক্ষেপণ, পরিবহন ব্যয় ও খাদ্য অপচয় কমানো সম্ভব হবে। পরিদর্শনকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।