সুনামগঞ্জে বাণিজ্যমেলার পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা

ফন্ট সাইজ:

পৌর শহরের ষোলঘর মাঠে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ঘিরে পক্ষে-বিপক্ষে ফেসবুকে আলোচনার ঝড় উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির আয়োজনে মেলার নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন সংগঠনটির সভাপতি শামসুল হক। এরপর থেকেই মেলা আয়োজনের খবরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা, শব্দদূষণ, যানজট ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। মেলার আয়োজন ঘিরে স্থানীয়দের একটি অংশ দেশীয় পণ্যের প্রচার ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও অন্য অংশ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, রাতের শব্দদূষণ এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কা তুলে ধরছেন ফেসবুকে।

আইনজীবী জাবেদ নূর নিজের ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন, ‘শুনলাম ষোলঘর মাঠে বাণিজ্য মেলা হবে। বাজারে যা পাওয়া যায়, মেলাতেও তাই, স্পেশাল কিছু তো নাই। যা আছে তা হলো বাইরে থেকে কিছু লোক এসে আমাদের পকেট খালি করে নিয়ে যায়। বোনাস হিসেবে আমরা পেলাম পরীক্ষার টাইমে শব্দদূষণ।’

সাংবাদিক ও আইনজীবী খলিল রহমান লেখেন- বার্ষিক পরীক্ষার আগে মেলার আয়োজন না করাই ভালো। এ বিষয়ে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নুরুল ইসলাম নুরুলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। মাহবুবুল আলম মাহিন লেখেন, ষোলঘর মাঠের পরিবর্তে সুরমা সেতুর ওপারে খোলা জায়গায় মেলার আয়োজন করা হলে ভালো হয়। এতে যানজট কমার পাশাপাশি আশপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াতেও সুবিধা হবে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সংসদ সদস্যের সঙ্গে এলাকাবাসীর কথা বলা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, মেলার আয়োজন করতে হলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা, রাতের শব্দদূষণ, যানজট ও আশপাশের পরিবেশের বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। পাশাপাশি আগের মেলাগুলোতে নিম্নমানের পণ্য বর্জন করতে হবে।

সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামসুল হক বলেন, শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার আগে মেলা চালু করা হবে না। পরীক্ষায় ব্যাঘাত ঘটার মতো কোনো কিছুই করা হবে না। প্রতি বছরের মতো এবারো বাণিজ্যমেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। গত বছর সুনামগঞ্জে বাণিজ্যমেলা হয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট চেম্বার অব কমার্সের মাধ্যমে প্রতি বছর মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এবারো মেলা আয়োজনের অনুমতি পাওয়া গেছে এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।