জাতীয় ক্রিকেট লীগের প্রথম রাউন্ড ছিল অনেকটাই ম্যাড়মেড়ে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দিনেই দেখা মিলেছে ব্যাটে-বলে দারুণ লড়াইয়ের। ব্যাটসম্যানদের দাপটের দিনে সেঞ্চুরি পেয়েছেন ঢাকার মোহাম্মদ নাঈম ও রংপুরের মিম মোসাদ্দেক। অন্যদিকে মিরপুরে বল হাতে আলো ছড়িয়েছেন খুলনার শেখ মেহেদী হাসান। তার স্পিনে মাত্র ১১৯ রানেই গুটিয়ে গেছে রাজশাহী।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথম দিনেই বড় সংগ্রহের পথে ঢাকা। সিলেটের বিপক্ষে ৯০ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৩৪৩ রান তুলেছে তারা। ওপেনার মোহাম্মদ নাঈম ২১৫ বলে ১৩১ রান করে আহত অবসর নেন। সেঞ্চুরির পথে রয়েছেন মার্শাল আইয়ুবও। ৮০ রানে অপরাজিত এই ব্যাটার দ্বিতীয় দিন শুরু করবেন অধিনায়ক মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনকে নিয়ে। অঙ্কনের সংগ্রহ ৩২ রান। ঢাকার দুই ব্যাটারকে ফিরিয়েছেন সিলেটের নাসুম আহমেদ। তাঁর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ৮০ রান করা জিসান আলম ও ১০ রান করা আশিকুর রহমান।
মেহেদীর স্পিনে রাজশাহীর ধস
মিরপুরের শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে খুলনার বিপক্ষে প্রথম দিনেই বিপর্যয়ে পড়েছে রাজশাহী। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই অলআউট হয়েছে তারা, ইনিংস থেমেছে মাত্র ১১৯ রানে। রাজশাহীর ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাক্কাটা দেন পেসার সফর আলী। প্রথম পাঁচ ব্যাটারের তিনজনকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপর বাকি ব্যাটারদের ওপর ছড়ি ঘোরান শেখ মেহেদী হাসান। জাতীয় দলের এই অফ স্পিনার একাই নিয়েছেন ৬ উইকেট। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পেয়েছে খুলনা। প্রথম দিন শেষে ১ উইকেটে তাদের সংগ্রহ ১০৮ রান। ২২ রান করে এনামুল হক ফিরলেও আজিজুল হাকিম ৫৫ ও কালাম সিদ্দিকী ২৮ রানে অপরাজিত রয়েছেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত বরিশালের
প্রথম রাউন্ডে ইনিংস ব্যবধানে হারের ধাক্কা সামলে দ্বিতীয় রাউন্ডে ভালোই শুরু করেছে বরিশাল। প্রথম দিনেই অলআউট হলেও জাওয়াদ আবরার ও মঈন খানের ব্যাটে ২৮২ রান তুলেছে দলটি। জাওয়াদের ফিফটির পর ১২৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দুই শর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় পড়েছিল বরিশাল। তবে সাত নম্বরে ব্যাট করতে নামা মঈন খান সেই শঙ্কা দূর করেন। ১১৩ বলে ৯৭ রান করে শেষ ব্যাটার হিসেবে বোল্ড হন তিনি। কক্সবাজারে বরিশালের বিপক্ষে চট্টগ্রামের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন হাসান মুরাদ। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পেয়েছে চট্টগ্রামও। প্রথম দিন শেষে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৭২ রান করেছে তারা। সাদিকুর রহমান ৪১ ও মাহমুদুল হাসান ২৯ রানে অপরাজিত আছেন।
রংপুরের বড় সংগ্রহ
সিলেট একাডেমি মাঠে ময়মনসিংহের বিপক্ষে শুরুতেই উইকেট হারিয়েছিল রংপুর। ২৫ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর দলের হাল ধরেন মিম মোসাদ্দেক ও ইকবাল হোসেন। দুজনের ২০৮ রানের জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিত পায় রংপুর। ৭৮ রান করে ইকবাল ফিরলেও সেঞ্চুরি তুলে নেন মিম মোসাদ্দেক। ১৫৭ রান করে আজিজুল হাকিমের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। এ ছাড়া আব্দুল্লাহ আল মামুন ৬১ ও আকবর আলী করেন ৩০ রান। প্রথম দিন শেষে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৭০ রান তুলেছে রংপুর।
