ফুডপান্ডাকে চট্টগ্রাম রেস্তরাঁ মালিকদের আল্টিমেটাম

ফুডপান্ডাকে চট্টগ্রাম রেস্তরাঁ মালিকদের আল্টিমেটাম

ফন্ট সাইজ:

অনলাইন খাবার সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ফুডপান্ডার কমিশন ও বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ কর্তনের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন চট্টগ্রামের রেস্তরাঁ মালিকরা। কমিশনের বাইরে নানা ধরনের চার্জ, অস্বচ্ছ হিসাব, অর্ডার বাতিলের ক্ষতিপূরণ, একতরফা জরিমানা এবং বিক্রির টাকা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষার কারণে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।

এসব সমস্যা সমাধানে কমিশনসহ সব ধরনের চার্জ মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি বিক্রির টাকা সাতদিনের মধ্যে পরিশোধসহ ছয় দফা দাবি তুলে ধরেছেন রেস্তরাঁ মালিকেরা। দাবি বাস্তবায়ন না হলে চট্টগ্রাম মহানগরে ফুডপান্ডার মাধ্যমে অর্ডার গ্রহণ বন্ধ করে দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা। শনিবার বাংলাদেশ রেস্তরা মালিক সমিতির চট্টগ্রাম মহানগর শাখার সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। এতে সংগঠনের সভাপতি মো. ইমতিয়াজ উদ্দিন নওশাদ ও সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক বক্তব্য দেন। এ সময় নগরের বিভিন্ন রেস্তরাঁর মালিকেরা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার বিরোধিতা তাদের অবস্থান নয়। বরং অনলাইন প্ল্যাটফরমের সঙ্গে ন্যায্যতা, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে ব্যবসা পরিচালনা করতে চান তারা। কিন্তু ফুডপান্ডার বর্তমান চার্জ ও কর্তন ব্যবস্থার কারণে রেস্তরাঁ মালিকদের ব্যয় বাড়ছে, কমছে প্রকৃত মুনাফা। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কর্মচারীদের জীবিকা ও তাদের পরিবারের ওপরও। রেস্তরাঁ মালিকদের দাবি, চুক্তিতে নির্ধারিত কমিশনের পাশাপাশি অনলাইন পেমেন্ট চার্জ, অপেক্ষার মাশুল, কমিশনের উপর ভ্যাট, ট্যাব ফি ও ইন্টারনেট ফিসহ বিভিন্ন খাতে অর্থ কেটে নেয়া হচ্ছে। ফলে বিক্রির পরিমাণ সন্তোষজনক হলেও সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে প্রত্যাশিত মুনাফা থাকছে না। তাদের অভিযোগ, মাস শেষে পাওয়া হিসাবের বিবরণীও অনেক ক্ষেত্রে জটিল। কোন খাতে কতো টাকা কাটা হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা সহজে পাওয়া যায় না।

এতে বিক্রির প্রকৃত পরিমাণ, কমিশন ও অন্যান্য খরচ যাচাই করতে সমস্যায় পড়ছেন ব্যবসায়ীরা। রেস্তরাঁ মালিকদের অভিযোগ, ফুডপান্ডার প্রযুক্তিগত ত্রুটি কিংবা সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতায় অর্ডার বাতিল হলে আর্থিক ক্ষতির বোঝা তাদের বহন করতে হয়। একটি অর্ডার পাওয়ার পর খাবার তৈরিতে কাঁচামাল, শ্রম ও সময় ব্যয় হয়। খাবার প্রস্তুত হওয়ার পর অর্ডার বাতিল হলে তা অন্য গ্রাহকের কাছে বিক্রি করা সম্ভব নাও হতে পারে। এতে পুরো খরচই লোকসানে পরিণত হয়। সংবাদ সম্মেলনে দেশীয় খাবার সরবরাহকারী প্ল্যাটফরম ফুডির উদাহরণ তুলে ধরেন রেস্তরাঁ মালিকেরা।

তাদের দাবি, ফুডি ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশনে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারলে ফুডপান্ডার ক্ষেত্রে কমিশনের বাইরে অতিরিক্ত চার্জ আরোপের যৌক্তিকতা কী? ব্যবসায়ীদের দাবি, সব ধরনের ফি ও চার্জ কমিশনের অন্তর্ভুক্ত করে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ সমন্বিত কমিশন নির্ধারণ করতে হবে। একইসঙ্গে হিসাবের স্বচ্ছতা ও অর্থ পরিশোধের নির্দিষ্ট সময়সীমা নিশ্চিত করতে হবে।