রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ ফার্মেসি কথিত ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবৈধ ফার্মেসি কথিত ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা

ফন্ট সাইজ:

কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে ফার্মেসির নামে চলছে নানা অনিয়ম। কুতুপালং, বালুখালী, থাইনখালী, লম্বাশিয়া, মরাগাছতলাসহ ক্যাম্পের অলিগলিতে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ওষুধের দোকান। এসব ফার্মেসির অনেকগুলোর নেই বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স। কোথাও নেই প্রশিক্ষিত ফার্মাসিস্ট। আবার কোনো কোনো দোকানে কথিত ‘রোহিঙ্গা ডাক্তার’ বসিয়ে রোগী দেখানো, প্রেসক্রিপশন দেয়া এবং ওষুধ বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্যাম্পের ভেতরে ফার্মেসি পরিচালনার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের লাইসেন্সও ব্যবহার করা হচ্ছে। কাগজে-কলমে ফার্মেসির মালিক কিংবা লাইসেন্সধারী স্থানীয় কোনো ব্যক্তি। কিন্তু বাস্তবে দোকান পরিচালনা করছেন রোহিঙ্গারা।

এভাবে লাইসেন্স ভাড়া দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। ফলে লাইসেন্সটি বৈধ হলেও সেটি কে ব্যবহার করছেন এবং প্রকৃত ব্যবসায়ী কে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ক্যাম্পের বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দোকান থেকে শুরু করে অপেক্ষাকৃত বড় দোকানেও ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর, সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে নানা রোগের জন্য রোগীরা এসব দোকানে গিয়ে পরামর্শ নিচ্ছেন। দোকানিরাই রোগীর উপসর্গ শুনে ওষুধ দিচ্ছেন। কোথাও আবার ইনজেকশন দেয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক বা নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট ছাড়া রোগী দেখে ওষুধ দেয়া ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিক্রি হলে রোগীর শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে অননুমোদিত কিংবা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির সুযোগ তৈরি হলে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

ক্যাম্পে ঠিক কতোটি ফার্মেসি রয়েছে, এরমধ্যে কতোটির বৈধ ড্রাগ লাইসেন্স আছে এবং কতোগুলো ফার্মেসিতে নিবন্ধিত ফার্মাসিস্ট দায়িত্ব পালন করছেন, এমন পূর্ণাঙ্গ তথ্যও সাধারণের সামনে নেই। একইসঙ্গে যেসব ফার্মেসির লাইসেন্স স্থানীয়দের নামে, সেগুলো বাস্তবে কারা পরিচালনা করছেন, সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ফার্মেসি স্থানীয়দের নামে থাকা লাইসেন্স ব্যবহার করে রোহিঙ্গারা পরিচালনা করছেন। যদি কোনো ব্যক্তি নিজের নামে নেয়া লাইসেন্স অন্যের কাছে ভাড়া দিয়ে থাকেন, তাহলে সেই লাইসেন্সের ব্যবহার ও ব্যবসার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ কার হাতে রয়েছে, তা দেখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্বশীলদের নিয়মিত তদারকির বাইরে থেকে কিছু ফার্মেসি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে যাচ্ছে। এমনকি কোনো কোনো ফার্মেসি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মাসিক লেনদেনের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এহেসান উল্লাহ সিকদার বলেন, এই অনিয়ম অনেক আগে থেকেই চলে আসছে। এ ব্যাপারে বেশ কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অভিযান চালানোর সঙ্গে সঙ্গে রোহিঙ্গারা ফার্মেসি বন্ধ করে পালিয়ে যায়। তাই অভিযানের সুফল কাজে আসেনি। তবে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। প্রয়োজনে আবারো অভিযান পরিচালনা করা হবে।