সেতু হয়েছে তবে বন্ধ নদীপথ

সেতু হয়েছে তবে বন্ধ নদীপথ

ফন্ট সাইজ:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শতাব্দীপ্রাচীন ভোলাচং কুমারপাড়ার নদীপথে ড্রেজারের পাইপ ও পরিত্যক্ত অস্থায়ী সেতুর কারণে নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। মূল পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে প্রায় চার বছর আগে। অথচ এখনো অপসারণ করা হয়নি অস্থায়ী স্টিলের সেতু ও নদীপথের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা। এতে আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব সামনে রেখে মাটির প্রতিমা পরিবহনে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মৃৎশিল্পী, পাইকার ও ক্রেতারা। একসময় কুমারপাড়া থেকেই সরাসরি নৌকায় তোলা যেতো মাটির প্রতিমা ও মৃৎশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রী। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে এখন দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। নদীপথে নৌকা ভেড়াতে না পারায় কুমারপাড়া থেকে অনেক দূরে প্রতিমা নিয়ে গিয়ে নৌকায় তুলতে হচ্ছে। এতে বাড়ছে পরিবহন ব্যয়, শ্রমিকের খরচ এবং প্রতিমা ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি।

বিশেষ করে দুর্গাপূজার আগে বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপে প্রতিমা পাঠানোর ব্যস্ত সময়ে এই দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোলাচং কুমারপাড়া ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পের জন্য পরিচিত। এখানকার মাটির প্রতিমা, হাঁড়ি-পাতিলসহ বিভিন্ন মৃৎশিল্পের সামগ্রী কিনতে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও ক্রেতারা আসেন। প্রায় চার বছর আগে মূল পাকা সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলেও যাতায়াতের জন্য নির্মিত অস্থায়ী স্টিলের সেতুটি এখনো অপসারণ করা হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর সংযোগস্থলে ফেলে রাখা মাটি এবং ড্রেজারের পাইপ ও যন্ত্রপাতি নদীপথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি নদীপথের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঐতিহ্যবাহী এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষকে বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কুমারপাড়ার মৃৎশিল্পীরা জানান, নদীপথে নৌকা ভেড়ানোর সুযোগ না থাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার উঁচু-নিচু পথ পাড়ি দিয়ে মাথায় করে প্রতিমা ও মাটির সামগ্রী নৌকায় তুলতে হয়। এতে অতিরিক্ত শ্রমিক নিয়োগ করতে হচ্ছে।

পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ভঙ্গুর প্রতিমা ও অন্যান্য সামগ্রী ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তারা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীপথের প্রতিবন্ধকতা দূর না হওয়ায় মৃৎশিল্পী ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ভয়ে অনেকে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে কিংবা লিখিত অভিযোগ দিতেও সাহস পান না বলে দাবি তাদের। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলাম বলেন, নদীপথ বন্ধ করে রাখার বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। তবে নদীপথ বন্ধ করে ব্যবসা করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা দ্রুত এ বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।