কোথাও পিচঢালাই আছে, কোথাও নেই। বৃষ্টিতে পানি-কাদায় একাকার সড়ক। দিনদিন এসব খানাখন্দ গাড়ির চাকার চাপে ভাঙতে ভাঙতে বড় হচ্ছে। তাতে প্রতিনিয়তই উল্টে পড়ছে যানবাহন। আহত হচ্ছে যাত্রীরা। কাদাপানি ছিটে কাপড় নষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যেই চলাচল করছে মানুষ। এমন চিত্র বালাগঞ্জ বাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত। স্থানীয় লোকজন সড়কটি সংস্কারে বারবার দাবি জানালেও তা হচ্ছে না। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সড়কটি সংস্কারবিহীন থাকায় দুর্ভোগে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। জানা গেছে, বালাগঞ্জ পূর্ববাজারের জিরো পয়েন্ট থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যন্ত প্রায় ৪ হেক্টোমিটার বা ৪০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটির উপজেলা এলজিইডি অফিসে কোনো ফাইল না থাকায় স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এমনকি অফিসে সড়কের কোনো আইডি নম্বর না থাকায় অনেকেই এটিকে মালিকানাবিহীন ‘বেওয়ারিশ সড়ক’ বলে মন্তব্য করেছেন।
ফাইল বা আইডি না থাকার বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তারা অকপটে স্বীকারও করেছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধি ও উপজেলা এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের গাফিলতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতালের মতো একটা জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফাইল বা আইডি নেই তা ভাবা যায়।
সরজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টি হলে সড়কটি জলকাদায় একাকার হয়ে পড়ে। শুষ্ক বা বর্ষা দুই মৌসুমেই চালকদের যানবাহন ঠেলেঠুলে চালাতে হয়। রিকশা-অটোরিকশা অহরহ উল্টে ঘটছে দুর্ঘটনা। এটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম। প্রতিদিন গর্ভবতী নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং জরুরি ও মুমূর্ষু রোগী এই রাস্তা দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে যান। খানাখন্দের ভরা এই সড়কে ঝাঁকুনির কারণে অনেক সময় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে। এই সড়কজুড়ে খানাখন্দ হওয়ায় এম্বুলেন্স চলাচল দুষ্কর হয়ে পড়েছে।
তাই জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠেছে। এছাড়া, এসড়কে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ কুশিয়ারা নদী পাড়ি দিয়ে রাজনগর উপজেলায় যাতায়াত করেন। খেয়াঘাটে পৌঁছানোর একমাত্র সংযোগ সড়কটি ভাঙাচোরা হওয়ায় পথচারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও বাজারের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এই সড়কের দুই পাশে অসংখ্য ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। জিরো পয়েন্ট এলাকার এই বাণিজ্যিক জোনটি বালাগঞ্জের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু সড়কটি অবহেলায় পড়ে রয়েছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে বালাগঞ্জ দক্ষিণ বাজারে যেতে ক্রেতাদের অনীহা। ভাঙা সড়কের কারণে দোকানের পণ্য সামগ্রী পরিবহনের ব্যয় বেড়েছে, ব্যবসায়ীরা চরম লোকসানে পড়েছেন।
সড়কটি দ্রুত সংস্কার না হলে এখানকার ব্যবসা-বাণিজ্যে ধস নামবে। জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়কটি দ্রতি সংস্কারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে সিলেট-৩ আসনের এমপি এমএ মালিকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা। বালাগঞ্জ উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, আইডির বাইরে থাকা এই সড়কটি উপজেলা পরিষদের রাজস্ব থেকে পিআইসি’র মাধ্যমে সংস্কারে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
