হালাল পণ্যের বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)। সংগঠনটি জানায়, বিদ্যমান উৎপাদনব্যবস্থাকে যথাযথভাবে পুনর্বিন্যাস করা গেলে বাড়তি বিনিয়োগ ছাড়াই হালাল পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন মানসম্মত হালাল সনদ, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি এবং কার্যকর উদ্যোগ।
এ লক্ষ্য সামনে রেখে ‘হালাল পণ্যের মাধ্যমে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনা উন্মোচন’ শীর্ষক ত্রৈমাসিক সাময়িকীর প্রথম সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করেছে বিসিআই। শনিবার রাজধানীর গুলশান ক্লাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। এতে বিভিন্ন চেম্বার ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে বিসিআই সভাপতি দেশের উৎপাদনশিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে শিল্প খাতের উন্নয়নে সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হালাল পণ্যের বাজারে বাংলাদেশের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে বিদ্যমান উৎপাদনব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও পরিকল্পিতভাবে সাজানো প্রয়োজন। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত বিনিয়োগ ছাড়াই উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হালাল সনদ এবং প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা জরুরি। তিনি সাময়িকীটির প্রথম সংখ্যায় হালাল পণ্যকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেন এবং এ উদ্যোগে অংশ নেয়া অতিথিদের স্বাগত জানান।
সাময়িকীটির উপদেষ্টা সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম কাদির প্রথম সংখ্যার বিষয়বস্তু ও এর বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। পরে বিসিআই সভাপতি আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সাময়িকীটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এ সময় উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে সাময়িকীটির কপি বিতরণ করা হয়।
মোড়ক উন্মোচনের পর বক্তব্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি সামিম আহমদ, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহরিয়ার, বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকলস ইম্পোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হকসহ বিভিন্ন শিল্প ও ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিসিআইয়ের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেরি টাওয়েল অ্যান্ড লিনেন ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি এম. শাহাদাত হোসেন, কোকা-কোলা বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাদাব আহমেদ, বাংলা কেমিক্যালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এমএস সিদ্দিকী, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. মোস্তফা আবিদ খান, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর এবং বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল বক্তব্য দেন। বক্তারা হালাল পণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি রপ্তানি বহুমুখীকরণে বিসিআইয়ের পাশে থাকার আশ্বাস দেন তারা। বক্তরা আরও বলেন, হালাল পণ্যের উৎপাদন, মান নিয়ন্ত্রণ, সনদ প্রদান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উৎপাদক, ব্যবসায়ী সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
