কোন প্রিন্টার্স খারাপ বই দিলে গ্রহণ করবেন না

জমিয়াতের সমাবেশে শিক্ষামন্ত্রী

কোন প্রিন্টার্স খারাপ বই দিলে গ্রহণ করবেন না

ফন্ট সাইজ:

সরকার মানসম্পন্ন বই দিতে বদ্ধপরিকর মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেছেন, যদি কোন প্রিন্টার্স খারাপ বই দেয় কিংবা চাহিদার তুলনায় কম বই দেয় তাহলে আপনারা সেগুলো গ্রহণ করবেন না। তিনি বলেন, এবার আমরা যেদিন স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার পরীক্ষা শেষে বন্ধ হবে সেদিন সকল শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দিবো। মাদ্রাসা প্রধানদের কাছে আমার অনুরোধ থাকবে, কোন প্রিন্টার্স যদি আমাদের স্পেসিফিকেশন যেভাবে দিয়েছি তার বাইরে অর্থাৎ কাগজের গ্রেডিং যদি কম হয়, খারাপ হয়, বাইন্ডিং যদি খারাপ হয়, আপনারা সেই বই গ্রহণ করবেন না এবং যত পরিমাণ বই আপনাকে রিসিভ করার কথা, তার নিচে একটি বইও রিসিভ করবেন না।

শনিবার রাজধানীর মহাখালীস্থ গাউসুল আজমস্থ কমপ্লেক্সে মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নির্বাহী কমিটির সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষার্থীদের হাতে ভালো মানের বই তুলে দিতে শিক্ষকদের সহযোগিতা কামনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বিগত দিনে দেখা গিয়েছে অনেক প্রিন্টার্স সঠিক কাগজে দেয়নি, সময়মত বই দেয়নি। এবার আপনারা প্রতিটি মাদ্রাসা ও প্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে দৃষ্টি রাখবেন। আমরা প্রিন্টার্সদের ৯০% বিল পরিশোধ করেছি, বাকীটা স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে যেদিনই বই উঠবে, সেই বইগুলো আমরা পর্যালোচনা করবো, তারপরে বাকী টাকা দেবো। কারণ এবার আমরা প্রিন্টার্সদের যেভাবে দরপত্র দিয়েছি, বাজার দরে তারা পেয়েছে, ফলে কোনো অবস্থাতেই এর মধ্যে কোনো রকম দুর্নীতি করার সুযোগ নেই। ফাঁকি যেন না নিতে পারে, সেই জন্য আপনাদের সকলের দৃষ্টি থাকার প্রয়োজন বলে আমি মনে করছি।

জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সঙ্গে জিয়াউর রহমান-খালেদা জিয়া-তারেক রহমান ও নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন গঠন করেছিল মাওলানা আব্দুল মান্নান সাহেব, তিনি নিজে শিক্ষক ছিলেন এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেবের সঙ্গে তিনি কাজ করেছিলেন। উনি জানতেন, শহীদ জিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নতির জন্য, উন্নয়নের জন্য কি ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন এবং কি ধরনের কাজ করেছিলেন, এই ব্যাপারে আমরা সকলে জানি। তিনি প্রথম মাদ্রাসা শিক্ষাতে সাধারণ শিক্ষাকে সম্পৃক্ত করেছেন। মাদ্রাসা শিক্ষককে সমমানের শিক্ষা উন্নত করার জন্য সেই সময়ে তিনি ৫০০ নম্বর এড করেছিলেন। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সময় আমার কাজ করা শুরু হয়েছিল মাওলানা মান্নান সাহেবের সাথে, আমরা এই বিষয়ে বহুবার আলোচনা করেছি, কথা হয়েছিল কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন করা যায়। সেই বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়ার সাথে আমরা কাজ করেছিলাম। তিনি মাদ্রাসা শিক্ষাতে আরো কার্যকারী করার জন্য এই সাথে কারিগরি শিক্ষাকেও দাখিল ভোকেশনাল এবং আলিম ভোকেশনাল পর্যন্ত করা হয়েছিল। উনার সময়ে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ থেকে শুরু করে সব জায়গায় ভর্তি শুরু হয়েছিল এবং মাদ্রাসা বোর্ডকে ফাজিল এবং কামিলের জন্য কুষ্টিয়া ইসলামিক ইউনিভার্সিটিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। গুণগত মান পরিবর্তনের জন্যÑ যা বর্তমানে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে রয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা ব্যবসায় শিক্ষা পড়বে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হবে, সর্বক্ষেত্রে ইসলামী চিন্তা-ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়, একইসঙ্গ কোরআন-হাদিসের উপর ধারণাসহ সত্যিকারে ধর্মীয় শিক্ষায় আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো হয় সেই ব্যাপারেও গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। একই ধারাবাহিকতায় আজকের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও মাদ্রাসার শিক্ষাতে গুরুত্ব দিয়েছেন, বাজেট বাড়িয়েছেন এবং সেই সাথে পর্যবেক্ষণ করছেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে শিক্ষা ছাড়া এই জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে মাদ্রাসা শিক্ষার জন্য মাদ্রাসা বোর্ড, অধিদপ্তর, বিশ্ববিদ্যালয় সবাই কাজ করছেন।

তিনি বর্তমান সরকারের সময়ে গ্রহণ করা শিক্ষাবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, ৭৭ হাজার নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, জমিয়াতুল মোদার্রেছীন বিএনপি সরকারের সাথে সব সময় ছিল, কাজ করছে, তাদের আদর্শ, উদ্দেশ্য দেশ গঠন করা, শিক্ষার্থীদের থেকে সঠিকভাবে লেখাপড়া করানো, তাদের আত্মনিয়োগ। এই বিষয়ে বিএনপি সরকারের সাথে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কোনো পার্থক্য আমার পরিলক্ষিত হয়নি।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, বিগত নির্বাচনে দেশের সমস্ত দরবার, অরাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ইসলামের চর্চাকারী মুসলমানরাই ভোট দিয়ে বিএনপি এবং তারেক রহমানকে ক্ষমতায় এনেছে। এই দেশে যারাই ক্ষমতায় আসবে এবং থাকবে তাদেরকে ৯২ ভাগ মুসলমানের সমর্থন নিয়ে আসতে এবং থাকতে হবে। এজন্য শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সাহেব যেভাবে দেশের আলেম-ওলামাদের সাথে নিয়ে কাজ করতেন, তাদের কাছে রাখতেন সেভাবে কাজ করতে হবে।

সরকারের কাজে বরকতের সংকট আছে মন্তব্য করে এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, বিগত নির্বাচনে দেশের সমস্ত দরবার এবং অরাজনৈতিক মুসলমানরা বিএনপি ও তারেক রহমানকে ক্ষমতায় এনেছে। ছারছীনা, ফুলতলী, সোনাকান্দা, জৌনপুরীসহ সব দরবারের পীর সাহেবগণ কাজ করেছেন। এটার জন্য তারা কোন কিছু চাননি, পানওনি। তারপরও আমরা আলেম-ওলামারা ঐক্যবদ্ধভাবে তারেক রহমানের সাথে থাকবো, ইনশাআল্লাহ। সামনে স্থানীয় নির্বাচন আছে, যদিও সরকার নিজেই অনেক সংকটের জর্জরিত, যেখান থেকে ইচ্ছা করলেই সহজে সে বেরিয়ে আসতে পারবে না। সবার আগে ওনার সবচাইতে বড় সংকট হচ্ছে সরকারের উপরে বরকতের বড় সংকট আছে। তিনি অনেক কাজ করছেন, অনেকের সাথে কথা বলছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সাথে বসছেন। বরকত আসবে আলেম-ওলামাদের সহবতে, এই সহবত তারেক রহমানের বাড়াতে হবে, বিএনপি সকল মন্ত্রীদের বাড়াতে হবে। এটার কোনো বিকল্প নেই। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যক্ষ সাব্বির আহমদ মোমতাজী।