ফ্যামিলি কার্ডের নামে টিপসই নিয়ে জাল কাবিন তৈরি, থানায় অভিযোগ

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে এক বিধবার টিপসই নিয়ে জাল কাবিননামা তৈরির অভিযোগে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী। অভিযোগে স্থানীয় জামায়াত নেতা আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুসকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে এ ঘটনায় দুই দফা সালিশ বৈঠক হলেও তাতে উপস্থিত হননি অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। বৃহস্পতিবার রাতে ফুলবাড়িয়া থানায় অভিযোগ জমা দেন ৪৩ বছর বয়সী ওই নারী। শুক্রবার বিকালে অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাশেদুল হাসান।

তিনি বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় জামায়াতের সহযোগী সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়া আবদুস ছাত্তার সরকারি ফ্যামিলি কার্ড করে দেয়ার কথা বলে ওই নারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করেন। পরে কৌশলে একটি ফাঁকা কাগজে তার টিপসই নেয়া হয়। এরপর ওই টিপসই ব্যবহার করে জাল কাবিননামা তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। ছড়িয়ে পড়া কাবিননামায় বর হিসেবে স্থানীয় আবদুল কুদ্দুসের নাম রয়েছে। এতে আড়াই লাখ টাকা দেনমোহর এবং ৫০ হাজার টাকা নগদ পরিশোধের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কাবিননামায় নাম থাকা সাক্ষী সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি ওই বিয়ের সাক্ষী হননি।

কাবিননামায় বিয়ে সম্পন্ন করার কথা উল্লেখ থাকা কাজী গোলাম মোস্তফাও দাবি করেছেন, তিনি এ বিয়ে পড়াননি। তার স্বাক্ষর ব্যবহার করে জাল কাগজ তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আবদুস ছাত্তার। তার দাবি, ফ্যামিলি কার্ডের কথা বলে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে কোনো টিপসই নেননি। এলাকার জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানো হচ্ছে। এ বিষয়ে উপজেলা জামায়াতের আমীর মো. ফজলুল হক বলেন, আবদুস ছাত্তার জামায়াতের পদধারী কোনো নেতা নন। বিগত নির্বাচনের সময় তিনি একটি কেন্দ্র কমিটির সহযোগী সদস্য ছিলেন। আগে তিনি বিএনপি’র রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিষয়টি তারা খতিয়ে দেখছেন এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচার চান। এর আগে গত সোমবার ও বুধবার স্থানীয়ভাবে দুই দফা সালিশ বৈঠক হয়। তবে আবদুস ছাত্তার ও আবদুল কুদ্দুস সেখানে উপস্থিত হননি। সালিশে নেতৃত্ব দেয়া মোহাম্মদ রুস্তম আলী জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা যাচাই করা হচ্ছে। সালিশের মাধ্যমে সমাধান না হলে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, ওই নারীর স্বামী প্রায় ১৩ বছর আগে মারা যান। দুই ছেলেকে বড় করে বিয়ে দিয়েছেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের নামে টিপসই নেয়ার পর তার বিয়ে হয়েছে বলে এলাকায় প্রচার করা হলে তিনি আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও সালিশ বৈঠক হয়। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।