নাটোরের লালপুরে পদ্মার চরাঞ্চলসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন মামলার ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গতকাল দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে এ অভিযানে কোনো অস্ত্র উদ্ধার কিংবা বড় কোনো সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টায় লালপুর থানা চত্বরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান নাটোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। তিনি বলেন, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ (পিপিএম) ও খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের নির্দেশনায় ৯ই অক্টোবর ভোর থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত রাজশাহী, পাবনা, নাটোর, মেহেরপুর ও কুষ্টিয়া জেলার চরাঞ্চলে একটি সমন্বিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
এর অংশ হিসেবে লালপুরের চর জাজিরাসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়। এতে তার নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইফতে খায়ের আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বড়াইগ্রাম সার্কেল) শোভন চন্দ্র হোড়, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশসহ শতাধিক পুলিশ সদস্য অংশ নেন। তথ্য অনুযায়ী, আটক ১৩ জনের মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত চারজন, মোবাইলে প্রতারণা ও সাইবার হ্যাকিং-সংক্রান্ত মামলায় দু’জন, মাদক মামলায় একজন, দণ্ডবিধির মামলায় তিনজন এবং ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫১ ধারায় তিনজন রয়েছেন।
পুলিশ সুপার জানান, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন ব্যবসা ও পেশার আড়ালে রাজশাহীর বাঘা, নাটোরের লালপুর, পাবনার ঈশ্বরদী ও সদর, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও ভেড়ামারা এবং মেহেরপুরের গাংনী উপজেলা জুড়ে একটি অপরাধমূলক চক্র গড়ে উঠেছে। এ চক্রের কার্যক্রম বন্ধ করতে পাঁচ জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে অভিযান চালায়। তিনি আরও বলেন, লালপুরকে সব ধরনের অপরাধমুক্ত করতে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত রয়েছে। লালপুরে কোনো অপরাধীর স্থান হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
