পেটে গজ রেখে সেলাই

ফরিদপুরে ভুল চিকিৎসায় না ফেরার দেশে বিথী

ফন্ট সাইজ:

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে সিজারিয়ান অপারেশনের পর পেটে গজ রেখে সেলাই দেয়ার অভিযোগ ওঠা ডিপ্লোমা মিডওয়াইফারি নার্স বিথী আক্তার (২৫) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার স্বামী মো. রাকিবুল ইসলাম। নিহত বিথী রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তমিজউদ্দীন মৃধাপাড়ার ছোরাব মণ্ডলের মেয়ে। পরিবারের অভিযোগ, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের সময় ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের মাধ্যমে বিথীর অস্ত্রোপচার করা হয়।

পরিবারের দাবি, ওই অস্ত্রোপচারের সময় তার পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেয়া হয়েছিল। অস্ত্রোপচারের পর থেকেই বিথী আক্তার নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে পরিবার। পরবর্তীতে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে সিসিইউতে রাখা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় চার মাস ধরে অসুস্থ থাকার কারণে বিথী নিজের নবজাতক সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি। এমনকি সন্তানকে কোলে নেয়া কিংবা দুধ খাওয়ানোর মতো অবস্থাতেও ছিলেন না তিনি। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসায় অবহেলার কারণেই বিথীর এমন পরিণতি হয়ে থাকলে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি অভিযুক্ত চিকিৎসকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত, শাস্তি ও জরিমানার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র ও আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। বিথী নিজেও তার চিকিৎসার বিষয়ে ডা. তামান্না ও ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অরবিন্দের নাম উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি পরিবারের। এদিকে বিথীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসায় কোনো অনিয়ম বা অবহেলা হয়ে থাকলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা, পরিবারের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইফুল হুদা বলেন, বিথীর মৃত্যুর খবরটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এ ঘটনায় তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসক এবং তিনি এর আগে বিথীর বাড়িতে গিয়ে তার শিশুসন্তানকে দেখেছেন। বিথী আক্তারের মৃত্যুতে তার পরিবার, স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তারা মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া।