ঝুঁকি নিয়ে পাঠ কার্যক্রম আতঙ্ক

ঝুঁকি নিয়ে পাঠ কার্যক্রম আতঙ্ক

ফন্ট সাইজ:

ভবনের দেয়াল জুড়ে অসংখ্য ফাটল। কোথাও বেরিয়ে এসেছে ইটের গাঁথুনি। নাজুক হয়ে পড়েছে ছাদ। এর আগে একাধিকবার পলেস্তারা খসে পড়ে কয়েকজন আহত হন। শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নেয়ার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকে ভয়। তাদের সাহস দিয়ে পাঠদান করালেও শিক্ষকরা থাকেন আতঙ্কে। এত ঝুঁকির মধ্যেও সেখানে নিয়মিত পাঠদান করানো হয়। ফেনীর ছাগলনাইয়া উপজেলার ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয়ের এমন চিত্র কয়েক বছরের। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বলছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার করা না হলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হচ্ছে। তাই নতুন ভবন নির্মাণের পাশাপাশি বর্তমান ভবনটি ব্যবহার উপযোগী না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর জানিয়েছে, পুরনো ভবনের ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে নেয়া হবে পরবর্তী ব্যবস্থা। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ছলেমা নজির উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক রয়েছেন ১৪ জন। বিদ্যালয়টির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুনতাহা বিনতে নূর বলে, পুরনো ভবনের দেয়াল ও ছাদে ফাটল থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসতে ভয় লাগে। বিশেষ করে পলেস্তারা খসে পড়লে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। একই ক্লাসের আরেক শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান জানায়, ক্লাস চলার সময় ভবনের বিভিন্ন অংশের অবস্থা দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক কাজ করে। ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ভেঙে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। শিক্ষার্থী নাছরিন সুলতানা বলে, বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। আমরা যখন স্কুলে থাকি তখন আমাদের অভিভাবকরা আতঙ্কে থাকেন।

শুধু শিক্ষার্থী নয়, শিক্ষকরাও রয়েছেন আতঙ্কে। শিক্ষক আবদুল মান্নান জানান, শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে পলেস্তারা খসে পড়ে একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শিক্ষিকা উম্মে মুনতাহিন বলেন, ভবনের অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। বিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা আব্দুল্লাহ আল মোমিন ভূঁইয়া জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকায় শিক্ষার সুযোগ দিয়ে আসছে। বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও অবকাঠামোগত সংকট রয়ে গেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

প্রধান শিক্ষক বাহাদুর হোসেন বলেন, ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে বহু আগে, পলেস্তারা খসে পড়ছে। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নতুন ভবনের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত ও বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে উল্লেখ করে ছাগলনাইয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া জানান, বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম বড়ুয়া বলেন, সরজমিন পরিদর্শন করে ভবনটির প্রয়োজনীয়তা ও ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।