৩৫ বছরেও বদলায়নি সড়কটির ভাগ্য

৩৫ বছরেও বদলায়নি সড়কটির ভাগ্য

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার পুটিবিলা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রয়ণ প্রকল্প সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ১০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন অংশে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। বর্ষায় কাদায় একাকার হয়ে যায় সড়ক, আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতে নাকাল হতে হয় পথচারীদের। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, অনেক স্থানে পায়ে হেঁটে চলাচলও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, দরবেশহাট ডিসি সড়কের সঙ্গে সংযুক্ত হাসনাপাড়া ব্রিজ থেকে উত্তর পহরচাঁদা পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার সড়কটি পুটিবিলা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির দুরবস্থা চললেও কার্যকর সংস্কারের উদ্যোগ না নেয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

শুধু সাধারণ মানুষের চলাচল নয়, সড়কটির দুরবস্থার কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরাও। সরজমিন দেখা যায়, পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পহরচাঁদা পর্যন্ত বিস্তৃত সড়কটির বেহাল চিত্র যেন দীর্ঘদিনের অবহেলার সাক্ষ্য বহন করছে। কোথাও কাদা, কোথাও বড় বড় গর্ত, আবার কোথাও ভাঙা সড়কের উপর ছড়িয়ে আছে মাটি। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো কাদাপানিতে ভরে যায়। সড়কের এমন দশায় যানবাহন নিয়ে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে। নোয়াপাড়ার বাসিন্দা কৃষক মোহাম্মদ আবু ছালেক ও মোস্তাফিজুর রহমানসহ অনেকে জানান, প্রায় ৩৫ বছর ধরে সড়কটি ব্যবহৃত হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও সড়কটির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ২০২২ সালে এই সড়কটি এলজিইডি’র আইডিভুক্ত হয়েছে। নির্বাচনের আগে অনেক জনপ্রতিনিধি সড়কটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার পর কেউ আর সড়কটির খবর রাখেননি।

ফলে সড়কে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। বর্ষাকালে কাদামাটির কারণে সড়ক দিয়ে চলাচল করা যায় না। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির কারণে সড়কটির বেহাল দশা আরও প্রকট হয়। বছরের পর বছর সড়কটি ব্যবহার করলেও এই সড়কের স্থায়ী সমাধান হচ্ছে না। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের যাতায়াতে দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্য ঠিক সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন না। এতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণ করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কটির পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন করা হলে বর্ষায় কাদার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা। লোহাগাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কাজী ফাহাদ বিন মাহমুদ জানান, পুটিবিলা আশ্রয়ণ প্রকল্প থেকে পহরচাঁদা পর্যন্ত সড়কটি উন্নয়নের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। সড়কের জন্য বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা হবে।