কুষ্টিয়ায় পাটওয়ারীর ওপর হামলার তিনদিন পর মামলা

কুষ্টিয়ায় পাটওয়ারীর ওপর হামলার তিনদিন পর মামলা

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা ও তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় তিনদিন পর মামলা হয়েছে। তবে মামলায় ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে, মামলায় হামলাকারীদের নাম উল্লেখ করতে বাধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামালউদ্দিনের বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

গত বুধবার এনসিপি’র কুষ্টিয়া জেলা শাখার আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদাউস টনি বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় মামলাটি করেন। বৃহস্পতিবার মামলাটির জিআর নম্বর পাওয়া যায়। জানা গেছে, গত ৪ঠা অক্টোবর রাতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপি’র কয়েকজন নেতাকর্মী কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার পরিদর্শনে যান। পরিদর্শন শেষে রাত ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে মাজারের প্রধান ফটক দিয়ে বের হওয়ার সময় একদল অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি তাদের ওপর হামলা চালায়। এজাহারে বলা হয়, হামলাকারীরা প্রথমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করে। পরে লাঠি, বাঁশ, পাইপ, বাটাম, লোহার রড, পাথর ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত গাড়িও ভাঙচুর করা হয়। পরে পুলিশের প্রহরায় তিনি ও তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

হামলার পরপরই মামলা করতে নেতাকর্মীরা কুমারখালী থানায় গিয়েছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাদের অভিযোগ, অজ্ঞাতনামা হামলাকারীরা থানা ঘেরাও করে ভয়ভীতি ও হুমকি দিলে নিরাপত্তার কারণে তারা সেখান থেকে চলে আসতে বাধ্য হন। পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়। মামলায় আসামিদের নাম উল্লেখ না করার বিষয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন এনসিপি’র নেতারা। দলটির কুষ্টিয়া জেলা শাখার সদস্য সচিব সুলতান মারুফ তালহা অভিযোগ করেন, থানার ওসি মামলায় কারও নাম উল্লেখ না করতে বলেছিলেন। এ কারণে বাধ্য হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করতে হয়েছে।

তিনি বলেন, কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব তাসলিম উদ্দিন নিশাতের একটি ভিডিও গত দুইদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে তিনি নিজেই বলছেন, পাটওয়ারীর ওপর হামলা করেছে তার ছোট ভাই। এরপরও পুলিশ মামলায় কারও নাম উল্লেখ করতে দেয়নি। সুলতান মারুফ তালহার দাবি, ওই বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আটকের উদ্যোগ নিতে পারে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমারখালী থানার ওসি জামালউদ্দিন। তিনি বলেন, মামলায় কারও নাম উল্লেখ করতে না দেয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি শুনেছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়েছে, যেখানে নিশাদকে বলতে শোনা যাচ্ছে, তার ছোট ভাই পাটওয়ারীর ওপর হামলা করেছে। এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত করা হবে।