ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি, ভোটের পর উধাও

ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি, ভোটের পর উধাও

ফন্ট সাইজ:

ভোট এলে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি, ভোট শেষ হলে আর খোঁজ নেই-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা পাদ্রীকান্দা-সাপলেজা এলাকার প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক এখন দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সড়ক জুড়ে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ ও বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। স্থানীয়দের ভাষ্য, দিনের বেলায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করা গেলেও সন্ধ্যার পর সড়কটি অনেকটাই অনিরাপদ হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও বড় গর্তে পানি জমে থাকায় যানবাহন চলাচলও কঠিন হয়ে যায়। ফলে রাতে কেউ অসুস্থ হলে দ্রুত হাসপাতালে নিতেও তৈরি হয় শঙ্কা। এ ছাড়া এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, চাকরিজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ চলাচল করেন। বৃষ্টির সময় কাদা ও পানি জমে থাকায় সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন শিক্ষার্থী, নারী ও বয়স্করা।

সাপলেজা গ্রামের গৃহবধূ মায়ারানী মণ্ডল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ভোট আইলে চাচি পায়ে ধরি, আম্মার পায়ে ধরি-কতো কথা! আর ভোট শেষ হলে খবর নাই। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার এই অবস্থা, কিন্তু সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেই। একই এলাকার সিলিডিয়া গমেজ জানান, বৃষ্টি না থাকায় এখন একটু হাঁটা যায়। কিন্ত সামান্য বৃষ্টি হলেই নাজেহাল হতে হয় শিক্ষার্থীসহ পথচারীদের। নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা আশ্বাস দিলেও পরে ভুলে যায়। সমাজকর্মী পিটার পিন্টুর রড্রিক বলেন, যুগ যুগ ধরে এ দুর্ভোগ আমাদের। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিনই গড়ে ১০/১২ হাজার পথচারী যাতায়াত করলেও স্বাধীনতার পর কখনো দেখি নাই সরকারিভাবে সড়কটি সংস্কার করা হয়েছে।

জানি না, জীবদ্দশায় দেখে যেতে পারবো কি না। সাপলেজা মন্দির কমিটির সভাপতি সুনীল কুমার সরকার বলেন, সড়কটি ৮ ও ৯ দুইটি ওয়ার্ডে পড়েছে। আমার মনে হয় এটাই আমাদের দুর্ভোগের বড় কারণ। এক মেম্বারের কাছে গেলে তিনি আরেক মেম্বারের সঙ্গে আলোচনার কথা বলেন। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সড়কটি সংস্কার করে চলাচলের উপযোগী করা হোক। এতে দেওতলা পাদ্রীকান্দাসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমবে এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত হবে। নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী নাজমুল করিম বলেন, সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আশা করি দ্রুত কাজ শুরু করতে পারবো।