এক যুগে চিলমারীর ১০ হাজার পরিবার গৃহহারা

এক যুগে চিলমারীর ১০ হাজার পরিবার গৃহহারা

ফন্ট সাইজ:

পানি কমলেও ভাঙে বাড়লেও ভাঙে, ভাঙন পিছু ছাড়ে না। থাবা দেয় ব্রহ্মপুত্র ভাঙে বসতবাড়ি, ভিটা যায় হারিয়ে, চলে যায় সাজানো সংসার, চোখের পানি ফেলে হাজারো মানুষ। বছরে পর বছর বেড়েই চলছে ভাঙন, দিনে দিনে কমে আসছে ব্রহ্মপুত্রের গভীরতা। প্রস্থে ব্রহ্মপুত্র বেড়ে যাওয়ায় হাজার হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে এখন সর্বস্বান্ত। তথ্যমতে উজানে অপরিকল্পিত বাঁধ, নেই পরিকল্পনা মোতাবেক ড্রেজিং, নদীর সঙ্গে যুক্ত খাল-বিল-জলাধারগুলো ভরাট, নিষ্কাশন পথ বন্ধ করার কারণে দেশের নদ-নদীগুলোয় পানিপ্রবাহ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে। এতে অতিরিক্ত পলি জমে বিভিন্ন নদীর মতো ব্রহ্মপুত্রের কমছে গভীরতা, বিপরীতে বাড়ছে প্রস্থ। স্বাভাবিক বর্ষাতেও সৃষ্টি হচ্ছে বন্যা অপর দিকে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে নদীর গতিপথ। ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ভাঙন। জানা গেছে, কুড়িগ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া বেশ কিছু নদ-নদীর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের সঙ্গে চিলমারী গ্রাস করছে তিস্তাও।

বর্ষা ছাড়াও প্রায় সারা বছর দুই পাড় ভেঙে প্রস্থে বাড়িয়ে নিচ্ছে ব্রহ্মপুত্র। তবে বর্ষা শুরু হলে ব্রহ্মপুত্র রাক্ষসী রূপ নেয় সঙ্গে তিস্তায় হানা দেয় অপর দিক থেকে। ভাঙনে প্রতি বছর গ্রাস করছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও গ্রামের পর গ্রাম। সূত্র মতে গত ১ যুগে চিলমারী উপজেলায় নদী ভাঙনে প্রায় ১০ হাজার পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে। এদিকে চলতি বছরেই ভাঙনে প্রায় ১ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়েছে। দিনে দিনে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েই চলছে। ভাঙন রোধে ডানতীর রক্ষা প্রকল্পে কাজ শুরু হলেও সঠিক পরিবল্পনার অভাবে প্রতি বছর দেখা দিচ্ছে ধস। এ ছাড়াও রক্ষা প্রকল্পের কাজ শুরু না হওয়ায় জোড়গাছসহ বিভিন্নস্থানে ভাঙন রয়েছে। সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সঙ্গে বিভিন্ন কারণে বৃটিশ আমল থেকেই শুরু হয় ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার ভাঙন এবং নদ-নদীর তলদেশ ভরাট। যে অনুপাতে ভরাট হয়, ঠিক সে অনুপাতে দুকূল ভাঙতে থাকে।

ফলে ঐতিহাসিক চিলমারী নদীবন্দরের মতো অনেক কালের সাক্ষী মুছে গেছে। এ ছাড়াও চিলমারীর চরাঞ্চলে প্রতি বছর লাখ লাখ টন ভুট্টাসহ প্রায় ৫০ প্রকার ফসল চাষ হলেও সেই চরসহ গ্রামগুলো রক্ষার জন্য সরকারিভাবে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ না থাকায় প্রতি বছর হাজার হাজার একর ফসলি জমি বিলীন হচ্ছে। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, গত ১শ’ বছরে গভীরতা কমে, গ্রামগঞ্জ ও ফসলি জমি খেয়ে ব্রহ্মপুত্রের প্রস্থ বেড়েছে প্রায় ১০ গুণ। একই অবস্থা তিস্তারও। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) হিসাবে, ২৫-৩০ বছরের মধ্যে পাঁচ ছয় কিলোমিটার প্রস্থের ব্রহ্মপুত্র হয়েছে প্রায় ৯ কিলোমিটার, তিস্তা বেড়েছে প্রায় এক কিলোমিটার। ফলে স্বাভাবিক বর্ষায়ও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিচ্ছে। প্রতি বছরের মতো চলতি বছরেও নদীর পাড়ে চলছে ভয়াবহ ভাঙন।

সরজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চিলমারী উপজেলার চিলমারী ইউনিয়নের শাখাহাতি, কড়াইবড়িশাল, নয়ারহাটের বজড়াদিয়ারখাতাসহ বিভিন্ন চর জুড়ে ভাঙন ও অষ্টমীর চর এবং রমনা ইউনিয়নের পাত্রখাতা এলাকায় তিস্তার ভাঙন থেমে নেই। চলতি মৌসুমে নদ-নদী ভাঙনের সঠিক হিসাব সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে না পাওয়া গেলেও ভাঙনকবলিত এলাকার প্রায় ১ হাজার পরিবার গৃহহারা হয়েছে বলে জানা গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় দেড় হাজার একর ফসলি জমি। এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চর নিয়ে আমাদের কোনো পরিকল্পনা বা কার্যক্রম নেই আর গত ১ যুগ আগে ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী অংশে কতোটুকু গভীরতা ছিল সেটি জানা নেই। ভাঙনকবলিত মানুষের দাবি, সরকার ত্রাণ না দিয়ে গ্রামরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করুক। চরগুলো রক্ষায় পরিকল্পনা করে পদক্ষেপ গ্রহণ করুন।