বাজারে এলপিজির সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি

সহযোগীদের খবর

বাজারে এলপিজির সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘বাজারে এলপিজির সংকট কাটেনি, দামও বাড়তি’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দাম বাড়িয়ে সমন্বয় করার পরও বাজারে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) সরবরাহসংকট কাটেনি। পরিবেশকেরা বলছেন, মাত্র ছয়টি কোম্পানি নিয়মিত সরবরাহ করছে, তাদের কাছেও চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বাজারে এখনো ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বাড়তি।

৪ অক্টোবর এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। প্রতি মাসেই দাম সমন্বয় করে সংস্থাটি। গত মাসে ১২ কেজি সিলিন্ডারের নির্ধারিত দাম ছিল ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। অক্টোবরের জন্য সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে সংস্থাটি। যদিও বাজারে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়।

বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রির বিষয়ে ৬ অক্টোবর বিইআরসিকে একটি চিঠি দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি। চিঠিতে বলা হয়, বিআইআরসি দাম নির্ধারণের দিন সন্ধ্যা থেকে এলপিজি কোম্পানিগুলো নতুন মূল্যতালিকা দিয়েছে। এতে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭৪০ থেকে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছে তারা। এ ছাড়া জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, লাইসেন্স ফি ও আনুষঙ্গিক খরচ বাড়ার কারণে নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না।

চিঠিতে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতি বলেছে, কোম্পানি থেকে পরিবেশকের গোডাউন পর্যন্ত আনতে প্রতি সিলিন্ডারে ভাড়া ৫০ টাকা। সিলিন্ডার ট্রাকে ওঠানো-নামানো ও খুচরা বিক্রেতার কাছে পৌঁছাতে খরচ ৩৫ টাকা। আর কর্মচারী, গোডাউন ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, লাইসেন্স ফি ও অন্যান্য খরচ মেটাতে ২৫ টাকা লাগছে। প্রতি সিলিন্ডারে ৪০ টাকা মুনাফা চায় তারা। এতে সব মিলে সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশক পর্যায়ে ১৫০ টাকা দরকার। পাঁচ বছর ধরে তারা পাচ্ছে ৫০ টাকা করে। ফলে ১০০ টাকা করে ঘাটতি থাকছে। এর মধ্যে বিভিন্ন কোম্পানির দামে পার্থক্য থাকায় বাজারে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

চলমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যবসায়ীদের ন্যায্য স্বার্থ এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হয় চিঠিতে। এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. সেলিম খান স্বাক্ষরিত এ চিঠির অনুলিপি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে তারা।

অবশ্য বিইআরসি বলছে, পাইকারি পর্যায়ে বিইআরসি নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৭৪২ টাকা। প্রতি সিলিন্ডারে ৫০ টাকা কমিশন পান পরিবেশকেরা। তাঁরা খুচরা বিক্রেতার কাছে ১ হাজার ৭৯২ টাকায় বিক্রি করার কথা।

বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ প্রথম আলোকে বলেন, এলপিজি ব্যবসায়ী সমিতির চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। কিন্তু গণশুনানি ছাড়া এসব খরচ সমন্বয়ের সুযোগ নেই। তাঁদের প্রস্তাব বিবেচনায় নিয়ে আগামী রোববার কমিশন সভায় আলোচনা করে করণীয় ঠিক করা হবে। তবে নতুন সিদ্ধান্তের আগপর্যন্ত তাঁরা যাতে নির্ধারিত দামে বিক্রি করেন, তা নিয়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।

২০২১ সালের এপ্রিল থেকে এলপিজির দাম নির্ধারণ করে আসছে বিইআরসি। ওই সময় সিলিন্ডারপ্রতি পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এখন পরিবেশকেরা এটি বাড়ানোর দাবি করছেন। যদিও অভিযোগ আছে, বাজারে নির্ধারিত দামে বিক্রি হয় না। মাঝেমধ্যেই সরবরাহ সংকটের নামে এটি অনেক বেড়ে যায়। বাড়তি দাম দিয়েও এলপিজি পায় না ভোক্তা।

মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা তামান্না আখতার গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, গত বুধবার ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার বাসায় পৌঁছে দিয়ে গেছে, দাম নিয়েছে ২ হাজার ৫০০ টাকা; যা সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬৬৩ টাকা বেশি।

সারা দেশে চলছে অভিযান

দেশে প্রায় এক কোটি গ্রাহক এলপিজি ব্যবহার করে। এর মধ্যে ৮০ শতাংশ ব্যবহার হয় গৃহস্থালি রান্নার কাজে। ২০১৫ সালে আবাসিকে গ্যাস–সংযোগ বন্ধের পর থেকে দেশে এলপিজির চাহিদা ব্যাপক হারে বাড়তে থাকে। প্রতিবছর এলপিজির চাহিদা এখন ১৫ লাখ টনের বেশি। এ খাতের ৯৯ শতাংশ বেসরকারি, যারা আমদানি করে সরবরাহ করে। রান্নার পাশাপাশি শিল্প ও পরিবহনে এলপিজি ব্যবহৃত হয়। পরিবহনে এলপিজি সরবরাহের স্টেশনেও চাহিদামতো এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না।

এলপিজি ফিলিং স্টেশন মালিক সমিতির মহাসচিব হাসিন পারভেজ প্রথম আলোকে বলেন, একটি স্টেশনে মাসে যেখানে চাহিদা ৩০ টন, পাওয়া যাচ্ছে ৫ থেকে ৬ টন। বিক্রি করতে না পারায় স্টেশনগুলো লোকসানের মুখে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনসিটি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে তুলে দিয়েছে সরকার। ১৫ বছরের জন্য প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে চুক্তি করেছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। চুক্তি সইয়ের সময় এর বিরোধিতা করে ঢাকায় অনুষ্ঠানস্থলের বাইরে বিক্ষোভ করেছে কয়েকটি রাজনৈতিক ও শ্রমিক সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা করে পুলিশ। বিক্ষোভ হয়েছে চট্টগ্রামেও।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের মধ্যে এ চুক্তি সই হয়। বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম ১০ বছরে এনসিটির আধুনিকায়নে এক হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। চুক্তির শুরুতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি দেওয়ার কথাও রয়েছে। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি ৭৫ শতাংশ কার্যক্রম শুরুর আগে দেওয়ার কথা। ইনভেস্ট বাংলাদেশ জানায়, টার্মিনালের আয় থেকে রয়্যালটি পাবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। গড় টার্মিনাল আয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রতি কনটেইনারে বন্দরের অংশ ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এর বাইরে প্রতিবছর প্রায় ১০ কোটি টাকা নির্দিষ্ট ফি দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। বছরে ন্যূনতম ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার পরিচালনার নিশ্চয়তা রাখা হয়েছে। নতুন কোনো টার্মিনাল চালু হলে তা কমিয়ে ১০ লাখ টিইইউ করার সুযোগ থাকবে।

অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বিদ্যমান কৌশলগত সম্পদগুলোর সক্ষমতা ও দক্ষতা দ্রুত বাড়ানো। বিভিন্ন টার্মিনালে একাধিক আন্তর্জাতিক পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার মাধ্যমে সেবার মান ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতা শক্তিশালী করাই সরকারের বৃহত্তর নীতির অংশ। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির ফলে কেউ চাকরি হারাবে না, বরং সক্ষমতা বাড়বে।

ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান এসা কাজিম বলেন, বাংলাদেশ ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য ও উৎপাদন অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে এবং দেশের এই উন্নয়নে সহযোগিতা করতে ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই অংশীদারত্বের মাধ্যমে এনসিটিকে ডিপি ওয়ার্ল্ডের বৈশ্বিক বন্দর, সরবরাহ অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের যোগাযোগ আরও নির্বিঘ্ন হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, চুক্তিটি এনসিটির পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য পরিবহণে প্রতিবন্ধকতা কমাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করবে।

দীর্ঘদিনের বিরোধিতা : এনসিটি বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার বিরোধিতা দীর্ঘদিনের। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি ও শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) টার্মিনালটি বিদেশিদের হাতে না দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। এ দাবিতে বন্দর অচল করে রাখার ঘটনাও ঘটেছে। গত ২ মাসে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও মশাল মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সবশেষ বৃহস্পতিবার চুক্তি সইয়ের সময় আগারগাঁওয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করে সিপিবি, বাসদসহ কয়েকটি সংগঠন। দুপুর ২টা থেকে তারা সেখানে অবস্থান নেন। বেলা পৌনে ৩টার দিকে পুলিশ লাঠিপেটা করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সিপিবির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

সিপিবির সভাপতি সাজ্জাদ জহির চন্দন বলেন, আমরা আজ সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধবিরোধী জোট থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের চুক্তির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এখানে এসেছিলাম। আমরা মনে করি, এ চুক্তি বাংলাদেশকে বিক্রি করার শামিল। ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সম্পৃক্ততা আছে, তাদের ওয়েবসাইটে গেলে বিষয়টি বোঝা যাবে। তিনি আরও বলেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দেওয়ার মানে হলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ওপর আমেরিকা সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে। আমাদের নৌবন্দর, বিমানবন্দর-সব ব্যবহার করবে তারা।

সবচেয়ে বড় কনটেইনার টার্মিনাল : এনসিটি চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি কনটেইনার টার্মিনালের মধ্যে সবচেয়ে বড়। ২০০৭ সালে চালু হওয়া এ টার্মিনাল দিয়ে বর্তমানে বন্দরের মোট কনটেইনার পরিবহণের প্রায় ৪৪ শতাংশ পরিচালিত হয়। টার্মিনাল নির্মাণ ও আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে প্রায় ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে চট্টগ্রাম বন্দর। বর্তমানে নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান ড্রাইডক এটি পরিচালনা করছে। এদিকে এনসিটির পরিচালন সক্ষমতা নিয়েও সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পরিচালিত হলেও একটি কনটেইনারের গড় অবস্থানের সময় ৯ দিনের বেশি। সমপর্যায়ের কয়েকটি বন্দরে এ সময় ২ দিনেরও কম। একটি জাহাজের অবস্থানকালও আড়াই দিনের বেশি, যেখানে কয়েকটি আন্তর্জাতিক বন্দরে তা ১৫ থেকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। ২০২৫ সালের কনটেইনার পোর্ট পারফরম্যান্স সূচকে ৪০০ বন্দরের মধ্যে চট্টগ্রামের অবস্থান ছিল ৩৬৪তম।

সরকারের হিসাবে, বন্দরের পরিচালনগত অদক্ষতা ও আধুনিকায়নের ঘাটতির কারণে প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। বছরে এর পরিমাণ ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বন্দরে কনটেইনার পড়ে থাকার সময় ১ দিন কমানো গেলে বাংলাদেশের রপ্তানি প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়তে পারে।

কালের কণ্ঠ

‘দেশীয় গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৩৪%, এলএনজি বেড়েছে ৪৩%’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ধারাবাহিকভাবে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তায় বাড়ছে আমদানিনির্ভরতা। দেশে গ্যাসের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও ছয় বছরের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডে দেশীয় কূপ থেকে গ্যাসের সরবরাহ কমেছে প্রায় ৩৪ শতাংশ।

একই সঙ্গে ঘাটতি পূরণে আমদানি করা ব্যয়বহুল তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) সরবরাহ বেড়েছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। ফলে বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট গ্যাসের প্রায় ৩৮ শতাংশই আসছে এলএনজি থেকে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো না গেলে আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে মোট গ্যাস সরবরাহে এলএনজির অংশ ৬০ থেকে ৭০ শতাংশে পৌঁছতে পারে। তখন উচ্চমূল্যের এলএনজি আমদানির ব্যয় সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

এতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিল্প খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। পেট্রোবাংলার গ্যাস সরবরাহের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর দেশীয় কূপগুলো থেকে দৈনিক দুই হাজার ৪৪৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হলেও চলতি বছরের ১ অক্টোবর তা কমে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুটে। বিপরীতে ৭০২ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে এলএনজি সরবরাহ হয়েছে এক হাজার তিন মিলিয়ন ঘনফুট। ফলে ছয় বছরের ব্যবধানে এলএনজির সরবরাহ প্রায় ৪৩ শতাংশ বেড়েছে।

এতে একদিকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বাড়ছে, অন্যদিকে সরকারের ভর্তুকির বোঝাও ক্রমে ভারী হচ্ছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে দৈনিক মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল তিন হাজার ১৪৮ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ কমে দাঁড়িয়েছে দুই হাজার ৬২৩ মিলিয়ন ঘনফুটে। গ্যাস সরবরাহের তথ্য বলছে, ২০২১ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল তিন হাজার ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস দুই হাজার ৩৩৬ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি ৮৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

২০২২ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৭৫৮ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাসের সরবরাহ ছিল দুই হাজার ২৭৪ এবং এলএনজি ৪৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৩ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট দুই হাজার ৯০২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। তার মধ্যে দেশীয় গ্যাস দুই হাজার ১০৬ এবং এলএনজি ৭৯৬ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৫৩২ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস দুই হাজার দুই এবং এলএনজি ৫৩০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়। ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ৭৫৩ মিলিয়ন ঘনফুট। তার মধ্যে দেশীয় গ্যাস এক হাজার ৭৮৪ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি সরবরাহ ছিল ৯৬৯ মিলিয়ন ঘনফুট। ২০২৬ সালের ১ অক্টোবর জাতীয় গ্রিডে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল দুই হাজার ৬২৩ মিলিয়ন ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস এক হাজার ৬২০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং এলএনজি ১০০৩ মিলিয়ন ঘনফুট।

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে গ্যাসের চাহিদাও বাড়ছে। বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা চার হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। কিন্তু গত মঙ্গলবার জাতীয় গ্রিডে এলএনজিসহ মোট সরবরাহ করা হয়েছে দুই হাজার ৫৭৬ মিলিয়ন ঘনফুট। চাহিদা ও সরবরাহে ঘাটতি ছিল এক হাজার ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি। বিপুল অর্থ ব্যয় করে এলএনজি আমদানি করেও এই ঘাটতি পূরণ করা যাচ্ছে না।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকায় প্রতি রুটে চলবে নির্দিষ্ট এক কোম্পানির বাস’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা আনার মাধ্যমে যানজট কমাতে ছয় মাসের মধ্যে বাস রুট রেশনালাইজেশন বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ পদ্ধতিতে একটি রুটে একাধিক নয়; মাত্র একটি কোম্পানির ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চলবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে তিনি এ নির্দেশ দেন। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী দুই মাসে বাস স্টপেজ নির্ধারণ, লক্কড়ঝক্কড় বাস মেরামত এবং চালকদের মাসিক বেতনের ভিত্তিতে নিয়োগ করা হবে। এই সময়ে কয়েকটি রুট চালু করা হবে। এরই মধ্যে ঢাকাকে ৩২টি রুটে বিভক্ত করে সবকটিতে ছয় মাসের মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হবে। এ পদ্ধতিতে কাউন্টারভিত্তিক যাত্রীসেবা, ই-টিকেটিং ও জিপিএস ট্র্যাকিং থাকবে।

এ ছাড়া পৃথক এক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারাদেশে কমপক্ষে এক হাজার খেলার মাঠ করতে বলেছেন তিনি। ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের দুই থেকে তিনটি ওয়ার্ডের জন্য অন্তত একটি খেলার মাঠ নিশ্চিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস

রাজধানীতে একই রুটে একাধিক কোম্পানির বাস চলায় যানজট ও বাসে বাসে অসুস্থ প্রতিযোগিতা হয়। তাই একটি রুটে ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক একটি কোম্পানির বাস চালাতে ২০১৫ সালে কমিটি করে তৎকালীন সরকার। এর আগে ২০০৪ সালে কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (এসটিপি) প্রস্তাব করা ‘বাস ফ্র্যাঞ্চাইজি পদ্ধতি’ (বিএফএস) রাজধানীতে চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয় কমিটিকে।

২০২১ সালের ডিসেম্বরে রাজধানীর ঘাটারচর থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত ২৬ নম্বর রুটে পরীক্ষামূলক ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক বাস চালু করা হয়। বেসরকারি কোম্পানি ট্রান্স-সিলভা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বিআরটিসি যৌথভাবে তা চালু করে। কাউন্টারভিত্তিক ই-টিকেটিং সেবা ছিল। নির্ধারিত স্টপেজ থেকে টিকিট নিয়ে যাত্রীকে নির্ধারিত স্থানে নামতে হতো। এই রুটের অন্যান্য কোম্পানির বাস একীভূত না হওয়ায় সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। বেহাল পড়ে থাকে কয়েক কোটি টাকায় নির্মিত যাত্রী ছাউনিগুলো।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এই পদ্ধতিতে বাস চালুর প্রচেষ্টা সফল হয়নি বাস মালিকরা সাড়া না দেওয়ায়। তারেক রহমানের সরকার নতুন করে জোর দিয়েছে বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজিতে। ইতোমধ্যে সম্ভাব্য ৩২টি রুট নির্ধারণ করেছে ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ (ডিটিসিএ)। গত ৩০ সেপ্টেম্বর মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়, সংস্থাটি রুটভিত্তিক বাসের সংখ্যা, পরিচালনাকারী কোম্পানি, কাউন্টার, ডিপো ও লে-ওভার পার্কিং নির্ধারণের পাশাপাশি বাসের জন্য নির্দিষ্ট ও ন্যূনতম মানদণ্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরে।

গতকাল সচিবালয়ে ঢাকা মহানগরের গণপরিবহন ব্যবস্থাপনা নিয়ে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ মসিউর রহমান, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমেদ, পরিবহন মালিক নেতাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রক হলেও বাস চলাচলের রুট কী হবে, কত বাস চলবে, তা নির্ধারণ করে আঞ্চলিক পরিবহন কমিটি (আরটিসি)। ঢাকায় এর সভাপতি মহানগর পুলিশ কমিশনার।

সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির হিসাবে রাজধানীতে বাস কোম্পানির সংখ্যা ১২০। চলাচলের অনুমোদন রয়েছে সাত হাজারের বেশি বাসের। অধিকাংশ রুট এবং কোম্পানি বাস্তবে নেই। আবার একই রুটে আট-দশটি পর্যন্ত কোম্পানির বাস চলে।

ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক পদ্ধতিতে বিদ্যমান রুটগুলোতে যেসব কোম্পানির বাস চলছে, সেগুলোকে একীভূত করে একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। বিনিয়োগের অনুপাতে বাস মালিকরা মুনাফা পাবেন। চালক-শ্রমিকরা চুক্তিতে নয়, কোম্পানির মাসিক বেতনভুক্ত হবেন। বাসগুলো নির্ধারিত সময়ে ছাড়বে; নির্ধারিত স্থানে দাঁড়াবে ও যাত্রী তুলবে। কেউ কাউকে ওভারটেক করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠকে ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, ঢাকায় অনুমোদিত ৪১৮টি বাস রুটের মধ্যে বর্তমানে ৯৮টি সচল। এসব রুটে ৬৬টি কোম্পানির প্রায় সাড়ে সাত হাজার বাস চলছে। এগুলোকে ঢেলে সাজিয়ে ৩২টি রুট করতে চায় ঢাকা পরিবহন কর্তৃপক্ষ।

ইত্তেফাক

‘এ মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে সরকার। চলতি অক্টোবর মাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়াসহ পরিশোধ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। বাড়তি অর্থ সংস্থানে অক্টোবরে ৬০ হাজার ৩০০ কোটি টাকার ব্যাংক ঋণ নিচ্ছে সরকার। চলতি অর্থবছরের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। অবশ্য এই ঋণের বড় অংশই পুরোনো ঋণ সমন্বয়সহ বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বাজেট ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ও পরিশোধ করা একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। এসব ঋণের বড় একটি অংশ আগের ঋণ পরিশোধে খরচ হয়। এছাড়া, দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতে সরকারকে খরচ করতে হয়। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে বিদ্যুত্-জ্বালানির খরচও অনেক বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলের আলোকে বেতন দিতে যাচ্ছে সরকার। আবার বিদ্যুত্-জ্বালানিতে সরকারের ব্যয় অনেক বেড়েছে। এ সময়ে আশানুরূপ রাজস্ব আয় হচ্ছে না। বিদেশি ঋণ ছাড়ের তুলনায় পরিশোধ হচ্ছে বেশি। যে কারণে অক্টোবরে সরকারকে বাড়তি ঋণ নিতে হচ্ছে। সাধারণভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতি রবিবার বিল এবং মঙ্গলবার বন্ডের নিলাম হয়ে থাকে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর উদ্বৃত তারল্যের মাধ্যমে এগুলো কিনে থাকে। বিভিন্ন মেয়াদি বন্ড ও বিলের মাধ্যমে সরকার ব্যাংকগুলো হতে ধার করে থাকে। গেল সপ্তাহে রবিবার বিভিন্ন ধরনের বিলের বিপরীতে ১০ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হয়।

আর বন্ডের মাধ্যমে মঙ্গলবার নেওয়া হয় ৫ হাজার ৮০০ কোটি টাকার ঋণ। আর আগামী মঙ্গলবার সরকারি ছুটির কারণে আগের দিন সোমবার নিলাম করে ৪ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে। সব মিলিয়ে চলতি মাসে বিলের বিপরীতে আরো ৩৫ হাজার কোটি টাকা এবং বন্ডের বিপরীতে সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা নেবে সরকার। আগামী নভেম্বর মাসে সরকার বিল ও বন্ডের বিপরীতে ৫৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং ডিসেম্বর মাসে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে ৩৮ হাজার ২০০ কোটি টাকা। এর আগে নিলামের বিপরীতে গত জুলাইয়ে ৫৬ হাজার কোটি, আগস্টে ৫০ হাজার কোটি এবং সেপ্টেম্বরের নিলামে ৪১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেয় সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে ব্যাংকব্যবস্থা থেকে সরকার নিট ১২ হাজার ৮৭২ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। সব মিলিয়ে স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮ হাজার ৩৪৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার চেয়ে ৩ হাজার ৭২৯ কোটি টাকা বেশি পরিশোধ হয়। এ পরিমাণ কমে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ ৯০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকায় নেমেছে। একই সময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকে সরকারের ঋণ ১৬ হাজার ৬০১ কোটি টাকা বেড়ে আগস্ট শেষে হয়েছে ৬ লাখ ৮ হাজার ২৬ কোটি টাকা। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছর ব্যাংক থেকে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। গত অর্থবছর ১ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা ঋণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে সরকার নিয়েছে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সন্দেহজনক লেনদেন ও রিপোর্ট বেড়েছে ৭৪ শতাংশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশের আর্থিক ব্যবস্থায় সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত ও রিপোর্টিংয়ের পরিমাণ এক বছরে অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের ৩০ হাজার ১৯৯টি রিপোর্ট জমা পড়েছে। আগের অর্থবছরে এ সংখ্যা ছিল ১৭ হাজার ৩৪৫টি। অর্থাৎ, এক বছরে রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৭৪ শতাংশ।

এর মধ্যে ২০ হাজার ৫২৪টি সন্দেহজনক লেনদেন প্রতিবেদন বা এসটিআর এবং ৯ হাজার ৬৭৫টি সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড প্রতিবেদন বা এসএআর।

তবে এ ৭৪ শতাংশ বৃদ্ধিকে সরাসরি অর্থপাচার বা আর্থিক অপরাধ ৭৪ শতাংশ বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিএফআইইউর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও কমপ্লায়েন্সের চাপ বৃদ্ধি, লেনদেন পর্যবেক্ষণে প্রযুক্তির ব্যবহার, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সচেতনতা এবং অনলাইন জুয়া-বেটিং, ক্রিপ্টো, বৈদেশিক মুদ্রা ও ডিজিটাল হুন্ডির মতো নতুন ঝুঁকিও রিপোর্ট বৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

অর্থাৎ, পরিসংখ্যানটির দু’টি দিক রয়েছে। এক দিকে এটি আর্থিক অপরাধের সম্ভাব্য ঝুঁঁকি বাড়ার সতর্কবার্তা; অন্য দিকে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান আগের তুলনায় বেশি সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করে রিপোর্ট করছে—এটিও আর্থিক গোয়েন্দা ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষণ।

পাঁচ বছরে প্রায় ৬ গুণ

গত পাঁচ বছরের প্রবণতা আরো তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২০-২১ অর্থবছরে সন্দেহজনক লেনদেন ও কর্মকাণ্ডের রিপোর্ট ছিল পাঁচ হাজার ২৮০টি। ২০২১-২২ অর্থবছরে তা বেড়ে আট হাজার ৫৭১, ২০২২-২৩-এ ১৪ হাজার ১০৬ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৭ হাজার ৩৪৫টিতে দাঁড়ায়। সর্বশেষ অর্থবছরে তা এক লাফে বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার ১৯৯টি। অর্থাৎ পাঁচ বছরের ব্যবধানে রিপোর্টের সংখ্যা প্রায় ছয় গুণ হয়েছে।

কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন—রিপোর্ট বাড়া কি আর্থিক অপরাধ বাড়ার প্রমাণ, নাকি নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ফল?

বাস্তবে দুই ব্যাখ্যাই আংশিকভাবে প্রযোজ্য। রিপোর্টিং ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে আগে অদৃশ্য থাকা সন্দেহজনক লেনদেনও শনাক্ত হবে। ফলে রিপোর্ট বাড়া মানেই অপরাধ সমান হারে বেড়েছে—এমন সিদ্ধান্ত সঠিক নয়। আবার রিপোর্টের উৎস ও বিএফআইইউর বিশ্লেষণে দুর্নীতি, ঘুষ, প্রতারণা, করসংক্রান্ত অপরাধ ও মুদ্রা চোরাচালানের মতো বিষয় উঠে আসায় আর্থিক অপরাধের ঝুঁকি যে বাস্তব, সেটিও স্পষ্ট।

ব্যাংক খাতই সবচেয়ে বড় অ্যালার্ম

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সন্দেহজনক লেনদেনের রিপোর্টের প্রায় পুরোটাই ব্যাংক খাত থেকে আসছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকগুলো ২৮ হাজার ৭৫৫টি এসটিআর ও এসএআর জমা দিয়েছে। আগের অর্থবছরে ব্যাংকের রিপোর্ট ছিল ১৫ হাজার ৯৯১টি। অর্থাৎ এক বছরে ব্যাংক খাতের রিপোর্ট বেড়েছে প্রায় ৮০ শতাংশ।

মোট রিপোর্টের মধ্যে ব্যাংকের অংশ ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ৯১ শতাংশ, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৯২ শতাংশ এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৫ শতাংশে।

এর অর্থ এক দিকে ব্যাংকগুলো আগের তুলনায় বেশি লেনদেন পর্যবেক্ষণ করছে এবং সন্দেহজনক কার্যক্রম বিএফআইইউকে জানাচ্ছে। অন্য দিকে দেশের আর্থিক ব্যবস্থার প্রধান প্রবেশপথ হওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে অবৈধ অর্থের প্রবাহও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

দুর্নীতি-ঘুষই সবচেয়ে বড় সঙ্কেত

বিএফআইইউ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর কাছে ১৯৯টি আর্থিক গোয়েন্দা প্রতিবেদন পাঠিয়েছে। এর মধ্যে ৯০টির সাথে দুর্নীতি ও ঘুষের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। প্রতারণা ও জালিয়াতিসংক্রান্ত প্রতিবেদন ৪৬টি, করসংক্রান্ত অপরাধ ২৭টি এবং মুদ্রা চোরাচালানসংক্রান্ত প্রতিবেদন ১১টি।

অর্থাৎ, আর্থিক গোয়েন্দা বিশ্লেষণের পর্যায়ে আসা ঘটনাগুলোর মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ সবচেয়ে বড় অংশ। এটি শুধু আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; অর্থনীতির জন্যও বড় ঝুঁকি। দুর্নীতির অর্থ সরকারি প্রকল্পের ব্যয় বাড়াতে পারে, বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল করতে পারে, কর আদায় কমাতে পারে এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অবৈধ অর্থের প্রবাহ বাড়াতে পারে।

বিশেষ করে দুর্নীতির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে ঢুকে সম্পদ ক্রয়, ব্যবসা বা বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈধ অর্থের সাথে মিশে গেলে এর প্রকৃত উৎস শনাক্ত করা আরো কঠিন হয়ে পড়ে।

দুদক-সিআইডির তথ্যের চাহিদা বাড়ছে

বিএফআইইউর কাছে আর্থিক তথ্য চাওয়ার প্রবণতাও দ্রুত বেড়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা বিএফআইইউর কাছে এক হাজার ৩২৯টি আর্থিক তথ্যের অনুরোধ করেছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩১৪টির তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।

বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য দুদক ও সিআইডির চাহিদা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুদক বিএফআইইউর কাছে ৮৪টি তথ্য চেয়েছিল। পরের অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৬৩টিতে। একই সময়ে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি ৪২৬টি তথ্যের অনুরোধ করেছে।

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা প্রয়োজন। দুদকের ৩৬৩ বা সিআইডির ৪২৬টি তথ্য-অনুরোধকে বিএফআইইউর ১৯৯টি গোয়েন্দা প্রতিবেদনের সাথে সরাসরি মিলিয়ে দেখা যাবে না। একটি মামলায় একাধিকবার তথ্য চাওয়া হতে পারে। আবার একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে একাধিক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা ব্যাংক হিসাব থাকতে পারে।

অতএব প্রকৃত কার্যকারিতা জানতে হলে প্রয়োজন বিএফআইইউ-উৎসভিত্তিক কেস ট্র্যাকিং তথ্য।

বণিক বার্তা

‘পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে চালের বাজারে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, খাজানগরের মিলগেটের তথ্যানুযায়ী, মাত্র চারদিনের ব্যবধানে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে প্রথমে ৭০ টাকা এবং পরে ৭২ টাকায় ওঠে। একই সময়ে কুষ্টিয়ার পৌর বাজারে খুচরা পর্যায়ে মিনিকেটের দাম প্রায় ৭৪ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে।

বেশ কিছুদিন স্থিতিশীল থাকার পর পাইকারি ও খুচরা বাজারে চালের দামে ঊর্ধ্বমুখী ভাব দেখা যাচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারের চালের দামে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। খুচরা বাজার ঘুরে দেখা গেছে, মান ও এলাকাভেদে চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৪ টাকা বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির জেরে পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াকে চালের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা। আর খুচরা দোকানিরা বলছেন পাইকারি বাজারের ঊর্ধ্বমুখিতায় তাদের বাড়তি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। দেশের বড় চালের মোকামগুলোয় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধু পরিবহন ব্যয় নয়, ধানের মূল্যবৃদ্ধিও চালের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, বাড্ডা ও নতুন বাজারে গতকাল সরজমিনে ঘুরে এবং ব্যবসায়ী-খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে চালের দাম বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। মান ও বাজারভেদে প্রতি কেজি মোটা চাল গতকাল ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে, যা বিক্রেতাদের তথ্যমতে, গত মাসে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির আগে ছিল ৪৮ থেকে সর্বোচ্চ ৫৩ টাকা। এছাড়া মাঝারি মানের চাল ৫৮ থেকে ৬৫, সরু চাল (মিনিকেট) ৭০ থেকে ৮৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

কারওয়ান বাজারের একটি পাইকারি দোকানের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম গতকাল বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কুষ্টিয়াসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মিলপর্যায়ে দাম কিছুটা বেড়েছে। কোথাও কোথাও বস্তাপ্রতি ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এরপর ট্রাক ভাড়াও বেড়েছে। এসবের প্রভাবই ঢাকার বাজারে পড়েছে।’

আরো কয়েকজন পাইকারি বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মাসে ডিজেলের দাম বাড়ার পর দিনাজপুর থেকে চাল আনতে প্রতি ট্রাকে প্রায় তিন হাজার এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনতে ২ হাজার টাকা ভাড়া বেড়েছে। এর সঙ্গে অন্যান্য খরচও বেড়েছে। সে জন্য কেজিতে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা দাম বাড়াতে হচ্ছে।

নতুন বাজার এলাকায় কথা হয় ক্রেতা নওশাদ আলীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আটাশ চাল সেপ্টেম্বরের শুরুতে ৬০ টাকায় কিনেছি। সে মাসের শেষের দিকে কিনেছি ৬২ টাকায়। আজ (গতকাল) কিনলাম ৬৪ টাকায়। দোকানিরা বলছেন ট্রাকভাড়া বেড়েছে। ধানের দাম ও মোকামে চালের দাম বেড়েছে। তাই এখন খুচরায় বেড়েছে।’

দেশের অন্যতম বড় চাল উৎপাদন কেন্দ্র কুষ্টিয়ার খাজানগর। সেখানে খোঁজ নিয়ে চালের দাম বাড়ার তথ্য মিলেছে। গত ২০ দিনে খাজানগরের মোকাম এবং জেলার খুচরা বাজারে বিভিন্ন মানের চালের দামে ওঠানামা হয়েছে। জেলা প্রশাসন এক দফা দাম কমানোর সিদ্ধান্ত দিলেও পরবর্তী সময়ে আবার দাম বেড়েছে।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর খাজানগর মোকামে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৪ থেকে ৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসন ও খাজানগরের মিল মালিকদের বৈঠক হয়। সেখানে সব ধরনের চালের মিলগেট মূল্য কেজিপ্রতি ১ টাকা কমানোর সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি পরবর্তী দুই সপ্তাহ দাম না বাড়ানোর বিষয়ে মিল মালিকদের কাছ থেকে আশ্বাসও নেয়া হয়। তবে সে সময়ের মধ্যেই মিলগেট ও খুচরা পর্যায়ে চালের দাম বেড়েছে।

খাজানগরের মিলগেটের তথ্যানুযায়ী, মাত্র চারদিনের ব্যবধানে মিনিকেট চালের দাম কেজিতে ৬৮ টাকা থেকে বেড়ে প্রথমে ৭০ টাকা এবং পরে ৭২ টাকায় ওঠে। একই সময়ে কুষ্টিয়ার পৌর বাজারে খুচরা পর্যায়ে মিনিকেটের দাম প্রায় ৭৪ টাকা পর্যন্ত পৌঁছে। সবশেষ গতকাল কুষ্টিয়ার খুচরা বাজারে বিভিন্ন ধরনের চালের দাম কেজিতে আরো ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। চালের বড় উৎপাদন কেন্দ্রে এমন মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়ছে রাজধানীর বাজারে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনম ‘প্রতিবাদ উপেক্ষা করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে এনটিসি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকা ও চট্টগ্রামে প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও পুলিশের লাঠিপেটার মধ্যেই গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) তুলে দেওয়া হলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপি ওয়ার্ল্ডের হাতে। বেলা ৩টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে 'ইনভেস্ট বাংলাদেশ' দপ্তরের অডিটরিয়ামে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১৫ বছর মেয়াদি এ চুক্তির আওতায় এনসিটি এবং এর ওভারফ্লো কনটেইনার ইয়ার্ডের (ওসিওয়াই) পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। সরকার অনেক দিন ধরে চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে ব্যস্ত এই টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। অন্যদিকে জাতীয় স্বার্থহানি হবে, এ দাবি করে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে আসছিল শ্রমিক সংগঠন ও বিভিন্ন অংশীজনেরা। বিরোধিতাকারীদের ভাষ্য, এতে নিজের রাজস্ব আয় কমে বন্দর কর্তৃপক্ষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দেশের ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি বাড়তে পারে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (সিপিএ) পক্ষে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মনিরুজ্জামান এবং ডিপি ওয়ার্ল্ডের পক্ষে নির্বাহী চেয়ারম্যান এসা কাজিম চুক্তিতে সই করেন। অনুষ্ঠানে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত আবদুল্লাহ আলী আল হুমুদি উপস্থিত ছিলেন।

সাবেক বিডা, বেজা ও পিপিএর সমন্বয়ে গঠিত ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের আধুনিকায়ন ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকবে আন্তর্জাতিক অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ড। এর মালিকানা ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের। এনসিটির জমি, অবকাঠামো, মালিকানা, নিরাপত্তা এবং নিয়ন্ত্রণ চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ তথা বাংলাদেশ সরকারের অধীনে রেখে আমিরাত সরকারের মালিকানাধীন ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ১৫ বছরের জন্য পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টার্মিনাল আধুনিকায়ন ও নতুন যন্ত্রপাতি স্থাপনে প্রথম ১০ বছরে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ করবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। চুক্তির শুরুতে বাংলাদেশকে ৬০০ কোটি টাকা অগ্রিম ফি দেবে প্রতিষ্ঠানটি। এর ২৫ শতাংশ চুক্তি সইয়ের সময় এবং বাকি তার্থ কার্যক্রম শুরুর আগে দেওয়ার কথা। টার্মিনালের রাজস্ব আয় থেকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রতি টিইইউ কনটেইনারে ৪০ থেকে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত রয়‍্যালটি পাবে। বছরে নির্ধারিত ১০ কোটি টাকা ফিক্সড ফিও দেবে ডিপি ওয়ার্ল্ড। বছরে অন্তত ১২ লাখ ৩০ হাজার টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নিশ্চয়তা রয়েছে চুক্তিতে।

দেশ রূপান্তর

‘বহুমুখী অপরাধে বিদেশিরা’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, মানব পাচার, সোনা চোরাচালান, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, মাদক কারবার ও পাচার, প্রতারণা ও অনলাইন জালিয়াতি, এটিএম ও ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি, জাল মুদ্রা তৈরি, বিয়ের নামে প্রতারণা এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনাসহ এদেশে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছেন বিদেশি নাগরিক। অপরাধে জড়িতদের অনেকে বাংলাদেশে ঢুকেই পাসপোর্ট নষ্ট করে ফেলেন, আবার অনেকে ভিসার মেয়াদ শেষ হলে পাসপোর্ট ফেলে দেন অথবা পাসপোর্ট হারানোর কথা বলে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এরপর জিডির সুবাদে অবৈধভাবে থাকার সুযোগ নেন। গ্রেপ্তার বা মামলার আসামি হলে বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়েও অপরাধ কর্ম চালিয়ে যান। এসব কাজে তাদের সহযোগিতা করছে এ দেশের একশ্রেণির অপরাধী। বিভিন্ন সময়ে এসব অপরাধে গ্রেপ্তার ২১ দেশের ৪০৭ নাগরিক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তাদের মধ্যে ভারত ও মিয়ানমারের নাগরিকের সংখ্যাই বেশি। তবে বড় অপরাধে অভিযুক্তদের মধ্যে চীন, নাইজেরিয়া, পেরু ও তানজানিয়ার নাগরিকই বেশি।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ভিসার মেয়াদ পার হওয়া বিদেশিদের অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে অপরাধ কর্মকা-ে জড়িত বিদেশিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, অবৈধভাবে বসবাসকারীদের একটা বড় অংশ বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। আবার একটা অংশ প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়াচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিদেশি কোনো নাগরিক এ দেশে প্রবেশের পর তার ওপর সর্বক্ষণিক নজর রাখা জরুরি। এমনকি তিনি যে কাজের অনুমোদন নিয়ে এসেছেন, সেই কাজটি করছেন কি না তাও তদারকি করা প্রয়োজন। এই তদারকি যথযথভাবে না হওয়ায় বিদেশি নাগরিকরা অপরাধে জড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, বিদেশি নাগরিকদের কেউ অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে তাদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশি নাগরিক হলেও অপরাধ করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। তবে বিদেশি নাগরিকরা যে কাজের অনুমতি নিয়ে আসছেন, সেটি করছেন কিনা, তা আরও তদারকি করা প্রয়োজন।

প্রতারণার নানা ধরন: গত ২২ সেপ্টেম্বর রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে ভারতীয় নাগরিক রবিউলকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল জানিয়েছেন, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি পর্যটক ও ব্যবসায়িক ভিসায় বাংলাদেশে যাতায়াত করেছেন। মূলত ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে তিনি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, স্পর্শকাতর নথি এবং তথ্য সংগ্রহ করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাচার করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

কম দামে এয়ারলাইনসের টিকিট কিনে বেশি দামে বিক্রি করে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে টেলিগ্রামের মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত এক সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২৮ সেপ্টেম্বর কম্বোডিয়ার তিন নাগরিককে খুলনার হরিণটানার খালিশপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। তাদের সঙ্গে দেশীয় চক্র রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিন কেজি কুশসহ ভারতীয় নাগরিক হুসাইন আবদুল কাদের শেখকে (৪৮) গত ২২ আগস্ট গ্রেপ্তার করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। ১১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থেকে বিভিন্ন দেশের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া, ওয়েবসাইট খুলে ও বিভিন্ন চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করতেন বলে অভিযোগ। তাদের সহায়তা করতেন লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা এবং চট্টগ্রামের কর্ণফুলী এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মহসিন। পরে তাকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চীনাদের অপরাধের জাল: নানা উন্নয়ন প্রকল্প, বাণিজ্য ও পর্যটন ভিসায় দেশটির নাগরিকরা সহজেই বাংলাদেশে আসতে পারছেন। তবে তাদের একটি অংশ উত্তরায় ‘ঘাঁটি’ গেড়ে অনলাইন জুয়া ও নানা প্রতারণার পাশাপাশি বিয়ের প্রলোভনে পাচার, খুন ও ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধেও জড়াচ্ছেন।

ডিএমপির তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে চলতি বছরের আগস্ট পর্যন্ত দুই বছরে বিভিন্ন দেশের ৩২ নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১৯ জনই চীনা। অন্তত ২০টি মামলার আসামি হিসেবে দেশটির আরও কয়েকজন নাগরিককে খুঁজছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

১৪ মে উত্তরা ও তুরাগে অভিযান চালিয়ে চীনের ছয় নাগরিক ও তিন বাংলাদেশিকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। চক্রটি ডিজিটাল গেটওয়ের মাধ্যমে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে কোটি কোটি টাকা দেশের বাইরে পাচার করে আসছিল। ২ আগস্ট ভাটারা থেকে অনলাইন জুয়া, প্রতারণা ও অবৈধ ভিওআইপি নেটওয়ার্ক চালানোর অভিযোগে চীনের তিন নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছয় হাজারের বেশি সিমকার্ড, মোবাইল ফোন, ২০টি গেটওয়ে মেশিন উদ্ধার করা হয়। চক্রটি প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা পাচার করে আসছিল বলে জানিয়েছে ডিবি। ১৭ মার্চ তুরাগ এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালায় এসআরবি ও পুলিশ। গ্রেপ্তার করা হয় বাংলাদেশি নাগরিক সুইটি আক্তার (২৯) এবং চীনের দুই নাগরিক জেন ফ্যান (৩৮) ও জিন সুচানকে (৩২)। ওই সময় বাসা থেকে জিম্মি অবস্থায় উদ্ধার করা হয় এক তরুণীকে। তাকে পাচারের জন্য জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সুইটি আক্তার ও তার স্বামীর নেতৃত্বে চীনা চক্রটি বিভিন্ন জেলা থেকে তরুণীদের বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে উত্তরায় এনে আটকে রাখে। এরপর ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তাদের কথিত বিয়ের মাধ্যমে চীনের নাগরিকদের হাতে তুলে দিত। একজন বিয়ে করলেও জিম্মি রেখে একাধিক পুরুষ মিলে ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করত।

২০২৫ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তরা ১৪ নম্বর সেক্টরের ১৬ নম্বর রোডের একটি বাসা থেকে ওয়াং বো নামের চীনের এক নাগরিকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওয়াং বো নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, পূর্ব শত্রুতার জেরে চীনেরই দুই নাগরিক ফান পেং ও লিউ ফ্যানলং পর্যটকের ছদ্মবেশে চীন থেকে ঢাকায় এসে ওয়াং বোকে নির্মমভাবে হত্যা করে ফের গোপনে এ দেশ ছেড়ে চলে যান।

পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ১০ হাজার চীনা নাগরিক বসবাস করেন। তাদের মধ্যে যারা অপরাধে জড়িত, তাদের জাল শহর ছাপিয়ে গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যেসব চীনা নাগরিক প্রতারণায় যুক্ত, তাদের কাছ থেকে বাসা ভাড়া পাওয়া যায় বেশি। এ জন্য এক শ্রেণির বাড়ির মালিক এই ধরনের বিদেশিদের বাসা ভাড়া দিতে আগ্রহী হন এবং তাদের অবস্থানের বিষয়টি গোপন রাখেন। এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিভিন্ন সময় বিদেশি নাগরিকদের তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে দেখেছেন, অনেক বাড়িতে বিদেশি নাগরিকরা ভাড়া থাকলেও ভাড়ার চুক্তি হয় তাদের এ দেশীয় সহযোগীদের নামে। এ জন্য ভাড়াটে তথ্য ফরমেও বিদেশিদের অবস্থানের কথা উল্লেখ থাকে না। এ ছাড়া বিদেশি হওয়ায় পুলিশও তাদের নিয়ে খুব একটা ঘাঁটাঘাঁটি করে না।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর ‘জামায়াতের ভাবমূর্তি প্রশ্নের মুখে’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পাওয়ার পর জামায়াতে ইসলামী এখন নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। দীর্ঘদিন সংগঠন, শৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও আদর্শের রাজনীতির কথা বলে আসা দলটির একাধিক সংসদ সদস্য, নেতা ও কর্মীর কর্মকান্ড নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দলের কারও বিরুদ্ধে উঠেছে ক্ষমতার প্রভাব দেখানোর অভিযোগ, কারও বক্তব্যের কারণে সমালোচনা, আবার কারও বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ। এসব ঘটনায় বিব্রত দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে-সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে নিজেদের স্বঘোষিত রাজনৈতিক শৃঙ্খলা কতটা ধরে রাখতে পারছে দলটি? এ বিষয়ে জানতে চাইলে জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আতাউর রহমান সরকার বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘ব্যক্তির ভুল আর দলীয় ভুল এক না। মানুষ হিসেবে কেউ ভুল করলে তার সংশোধনের জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ জামায়াতের প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলে আসছে। এটা নতুন কিছু না। জামায়াতে ইসলামী একটি দায়িত্বশীল সংগঠন। আমাদের জনশক্তির কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করলে আমরা বাধা হয়ে দাঁড়াই না। কিন্তু কেউ জুলুমের শিকার হলে আমাদের তাদের পাশে দাঁড়ানোর নৈতিক, সামাজিক দায়বদ্ধতা আছে বলে মনে করি।’

জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৮টি সাধারণ ও ৯টি সংরক্ষিত নারী আসনে জয় নিয়ে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর দলটির জনপ্রতিনিধিদের ঘিরে একের পর এক অভিযোগ সামনে আসছে। সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, জাতীয় নির্বাচনের পর থেকেই দলটির কয়েকজন এমপি ও স্থানীয় নেতাকে ঘিরে অভিযোগ সামনে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় নড়াইল-২ আসনের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু ও সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে। সর্বশেষ শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিতর্কিত আচরণ করে আলোচনায় আসেন দলের আরেক নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।

নড়াইল-২ আসনের এমপি বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিলের অনুদানপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকায় তার মেয়ের নামে দুই দফায় ১০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেখানোর অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে অনুদান প্রাপ্তদের তালিকায় নিজের ইউনিয়ন ও শ্বশুরবাড়ি এলাকার মানুষের আধিক্য নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। এর আগে রংপুরের পীরগঞ্জ-৬ আসনের এমপি মো. নুরুল আমীনের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পে আত্মীয়স্বজনকে সভাপতি করার অভিযোগ ওঠে। খুলনা-৬ আসনের এমপি আবুল কালামের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলের অর্থ বিতরণে ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। অনুদান-ত্রাণে দুর্নীতির অভিযোগের বাইরে জামায়াতে ইসলামীর জন্য সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে নৈতিকতার প্রশ্ন। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুলের সঙ্গে এক নারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রথমদিকে জামায়াতের একটি অংশ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল নিজেই সামাজিকমাধ্যমে এক পোস্টে ভিডিওতে থাকা নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই ১৭ জুন মরিয়মকে বিয়ে করেন। এর মধ্যেই সাংগঠনিক তদন্তে গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২২ জুলাই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে জামায়াত। পরবর্তীতে ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের ফ্ল্যাটে মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের ঘটনা এ বিতর্কে আরেক মাত্রা যোগ করে। এ ঘটনায় করা মামলায় এমপি গাজী নজরুল এখন জেলে।

এদিকে সংসদে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন নীলফামারী-৪ আসনে জামায়াতের এমপি আবদুল মুনতাকিম। বাজেট বক্তৃতায় নিজের বাবাকে ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ’ হিসেবে উল্লেখ করার পর তার নির্বাচনি হলফনামায় ‘মা-বাবা দুজনই জীবিত’ থাকার তথ্য সামনে আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের এমপি মিজানুর রহমান সংসদ সদস্যদের সরকারি বাসভবনের জন্য ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওভেন ও পর্দার দাবি তুলে সমালোচনার মুখে পড়েন। পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের একটি বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়। নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুস সাত্তারের বক্তব্যের একটি অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও ব্যাখ্যা রয়েছে, তবু একের পর এক অভিযোগ জামায়াতে ইসলামীর ভাবমূর্তির ওপর চাপ তৈরি করছে।

শুধু সংসদের ভিতরে নয়, সংসদের বাইরেও দলীয় নেতাদের বক্তব্য এবং আচরণেও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হচ্ছে। ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দের একটি বাইসাইকেল প্রকৃত উপকারভোগীর বদলে নিজের নাতনিকে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বাইসাইকেলটি ফেরত দিয়ে প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে হস্তান্তর করা হয় এবং তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়। মুন্সিগঞ্জে নৈতিক স্খলন ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে দুই রুকনের সদস্যপদ বাতিল এবং রাজধানীর ধানমন্ডিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় চার নেতা-কর্মীকে বহিষ্কারও করেছে দলটি।

দলীয় সূত্র বলছে, প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত আচরণও এখন দলের রাজনৈতিক ভাবমূর্তির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হচ্ছে। তাই অভিযোগ উঠলে তা এড়িয়ে না গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নীতি নিয়েছেন দলের নীতিনির্ধারকরা। নেতা-কর্মীদের বিতর্কিত কর্মকান্ড ও আচরণে জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বও যে উদ্বিগ্ন তা বিভিন্ন সময়ে নেতাদের বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে। দলটির আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান দলীয় সংসদ সদস্যদের সেসব কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সামনে এখন মূলত তিনটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, সংসদ সদস্যদের আচরণে দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তার ঠেকানো। তৃতীয়ত, বিতর্ক তৈরি হলে দ্রুত, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া। তবে জামায়াতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনো নেতা-কর্মীর বিতর্কিত কর্মকান্ডকে ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে সীমাবদ্ধ রাখা। কারণ বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় একজন সংসদ সদস্যের বক্তব্য কিংবা কোনো নেতা-কর্মীর কর্মকান্ড মুহূর্তেই সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে। পরে সেটি জাতীয় রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় শুধু কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নির্দেশনা জারি করাই যথেষ্ট নয়; সেই নির্দেশনা সকল পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা এখন দলটির অন্যতম সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ। সংসদে প্রধান বিরোধী দল হওয়ার পর জামায়াতের জন্য শুধু রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, নিজেদের ঘরের শৃঙ্খলা রক্ষাও এখন বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।