রাজধানীর হাতিরপুলের ‘ইস্টার্ন প্লাজা’য় আদালতের সুস্পষ্ট অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দোকানসমূহের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও ডেকোরেশনের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষুব্ধ সাধারন ব্যবসায়ীরা। মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয়তলায় চলমান এই অবৈধ কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধের দাবিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ ও আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ও দোকান মালিকরা। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মার্কেট কমিটির সেক্রেটারি শওকত আলীর সখ্য রয়েছে। এটিকে কাজে লাগিয়ে আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে তিনি মার্কেটের দোকানসমূহের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তন ও ডেকোরেশনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এমনকি বহিরাগতদের নিয়ে এসে মার্কেটে শোডাউন দিচ্ছেন।
এ বিষয়ে ইস্টার্ন প্লাজা দোকান মালিক সমিতি, বিভাগীয় সমবায় সমিতি ও কলাবাগান থানায় অভিযোগ দিয়েও প্রতিকার পাচ্ছেন না সাধারণ ব্যবসায়ীরা। সূত্রমতে, ঢাকার সিভিল জজ ৩য় আদালতে দায়েরকৃত দেওয়ানি মোকদ্দমা নং-৯২/২০২৬-এর প্রেক্ষিতে আদালত নালিশী সম্পত্তিতে বিবাদীগণের বিরুদ্ধে একটি অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার আদেশ জারি করেন। আদেশে উল্লেখ করা হয়, বিবাদীপক্ষ লিখিত আপত্তি দাখিল ও উভয়পক্ষের শুনানি শেষে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যেকোনো ধরনের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ দেয়া হয়। মামলাটির পরবর্তী শুনানি আগামী ৫ই নভেম্বর ধার্য রয়েছে। আদালতের এই স্থগিতাদেশের কপি সংযুক্ত করে গত ৬ই অক্টোবর কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেন ৫ম তলার দোকান মালিকদের পক্ষে ফুয়াদ মুহাম্মদ শরফুদ্দিন। একইদিনে ইস্টার্ন প্লাজা দোকান মালিক সমবায় সমিতি লি.-এর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবরও এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে আবেদন জানানো হয়। পরবর্তীতে ৭ই অক্টোবর বিভাগীয় সমবায় কার্যালয়, ঢাকা বিভাগের যুগ্ম নিবন্ধক বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়, যার অনুলিপি জেলা সমবায় অফিসারকেও প্রদান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এ সংক্রান্ত একটি মোকাদ্দমা উচ্চ আদালতেও বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে মার্কেটের সেক্রেটারি শওকত আলী মানবজমিনকে বলেন, মাকের্টটি ৯০ দশকে নির্মাণ করা হয়েছিলো। তখন কথা ছিল, মার্কেটের ৫ তলায় খেলনা আইটেম বিক্রি করা হবে। পরবর্তীতে রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ৫ম তলার দোকানগুলোতে মোবাইল ও ইলেক্ট্রনিক্স আইটেম বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু বর্তমানে মাকের্টের অসংখ্য ব্যবসায়ী ক্রেতার অভাবে তাদের দোকার বন্ধ রাখছেন। তাই মার্কেটের স্বার্থে আমরা মোবাইলের দোকানগুলো ২তলা ও ৩তলায় নিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি এজিএমসহ দোকন মালিকদের নিয়ে করা দু’টি মিটিংএ মৌখিকভাবে সিদ্ধান্ত হয়েছিলো।
