‘সেই আলোচিত ভবনটি এখন একজন প্রতিমন্ত্রীর কব্জায়’- শিরোনামে মানবজমিন-এর প্রথম পাতায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে বক্তব্য দিয়েছে গণঅধিকার পরিষদ। দলটির দপ্তর সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মাহবুবুর রহমানের পাঠানো প্রতিবাদে ভবন দখলে দলের সভাপতি ও প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের সংশ্লিষ্টতার তথ্য অসত্য বলে দাবি করা হয়। তবে গণঅধিকারের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে কোনো কিছু বলা হয়নি।
অনুসন্ধানে মানবজমিন জানতে পেরেছে ভবনটির বেশির ভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণে রাখা সারোয়ার সানি যুবঅধিকার পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক। দলের সভাপতি নুরুল হক নুরের সঙ্গে তার ছবিও রয়েছে যা আমাদের হাতে পৌঁছেছে। এছাড়া দখল সংক্রান্ত আরও বিস্তারিত তথ্য-প্রমাণ মানবজমিন’র হাতে রয়েছে। রিপোর্টের বিষয়ে বৃহস্পতিবার নুরুল হক নুর নিজেই মানবজমিনকে জানান, সারোয়ার সানিকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। কিন্তু এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তাকে বহিষ্কারের কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। ওদিকে ভবনের বৈধ মালিকপক্ষের তরফে একাধিকবার নুরুল হক নুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তারা ভবনটির দখল ছেড়ে দিতে অনুরোধ করেন। কিন্তু নুর কোনো সাড়া দেননি। জানা গেছে. ১৯৮০ সনে উচ্চ আদালতের রায়ে বর্তমান মালিক পক্ষ ভবনটির দখল বুঝে পান। এর আগে ভবনটি সিলগালা করা হয়েছিল।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অবরুদ্ধ তিন সাংবাদিক: ‘৮১ মতিঝিল’-এর ভবনটি দখলের বিষয়ে মানবজমিন-এ প্রকাশিত খবরের সূত্র ধরে গতকাল সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ওই ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছিল ৩ সাংবাদিককে। ২০ মিনিটের মতো অবরুদ্ধ থাকার সময় তাদের শারীরিকভাবেও লাঞ্ছিত করা হয়। একপর্যায়ে তাদের ছেড়ে দেয় ভবনে থাকা লোকজন। সেখানে খবর সংগ্রহ করতে যাওয়া রিয়েল টাইম নিউজ নেটওয়ার্ক-আরটিএনএন এর মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, গেট খোলা পেয়ে তারা তিনজন ভেতরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
এ সময় ভবনের ভেতরে থাকা চারজন ব্যক্তির দু’জন নিচে নেমে গেটে তালা দিয়ে বের হয়ে যান। অন্য দু’জন ভেতরেই অবস্থান করে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। বাইরে থাকা দু’জনের একজন একটি রাজনৈতিক দলের পরিচয় থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে অবরুদ্ধ তিন সাংবাদিককে ছেড়ে দেয় তারা।
