অটোরিকশা চালক রাহুল হত্যার ঘটনায় দীর্ঘ আড়াই বছর পর জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সমেজ (৩২), মো. সবুজ মিয়া (২৮), খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোল্লা (৪৩)।
সংস্থাটি বলছে, ইয়াবা কেনা-বেচার তথ্য হত্যার শিকার রাহুল বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দেবেন বলে আসামি সবুজের কাছে বলেন। তথ্য ফাঁস করে দেয়ার কথা জানতে পেরে গ্রেপ্তার আসামিরা রাহুলকে মেরে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে বিক্রির পরিকল্পনা করেন। এরপর তাকে হত্যা করে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর উত্তরা পিবিআই ঢাকা জেলা অফিসে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এমএন মোর্শেদ এসব তথ্য জানান। এমএন মোর্শেদ বলেন, ২০২৪ সালে নবাবগঞ্জ থানার অটোরিকশাচালক রাহুল খুন ও ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনসহ জড়িত পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। তাদের মধ্যে মো. সবুজ মিয়া এবং মো. লালন মোল্লা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি বলেন, ভাড়া করা অটোরিকশা চালাতেন মো. রাহুল (১৯)। নবাবগঞ্জ থানার চক সিংহড়া এলাকায় জনৈক ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপে তিনি অটোরিকশা রাখতেন এবং সেখানেই রাতে ঘুমাতেন। ২০২৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি রাতে ভুক্তভোগী রাহুল তার নিজ বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওয়ার্কশপে ঘুমাতে যান। পরদিন বাড়িতে না যাওয়ায় রাহুলের বাবা ওয়ার্কশপে খুঁজতে গিয়ে সেখানে রাহুলকে পাননি। ওয়ার্কশপে তার অটোরিকশাটিও ছিল না।
এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর থেকে রাহুল এবং তার অটোরিকশার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পুলিশ সুপার বলেন, ৯ই ফেব্রুয়ারি সকালে ওয়ার্কশপের পাশের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আঃ রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তিনি বলেন, পিবিআই ঢাকা জেলা টিম গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িত আসামি মো. সমেজকে গ্রেপ্তার করে। তার দেয়া তথ্যে অপর আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রাহুলের পূর্বপরিচিত। আসামি লালন মোল্লা ইয়াবার কারবার করেন। ভুক্তভোগী রাহুল এবং অন্যান্য আসামিরা লালনের কাছ থেকে ইয়াবা কিনতেন এবং তারা একসঙ্গে ইয়াবা সেবন করতেন। লালন মোল্লা সবুজের কাছে জানতে পারেন, তার ইয়াবা বিক্রির তথ্য রাহুল বাইরে বিভিন্ন জায়গায় জানিয়ে দেবেন বলে সবুজের কাছে বলেছেন। এই তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার কথা জানতে পেরে গ্রেপ্তারকৃতরা রাহুলকে মেরে তার অটোরিকশা ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন।
পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৪ সালের ৬ই ফেব্রুয়ারি আনুমানিক রাত ১০টায় লালন সবুজকে দিয়ে রাহুলকে তার অটোরিকশাসহ একটি খোলা মাঠে ডেকে নিয়ে যান। সেখানে লালন ছাড়াও সবুজ, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে লালন লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পেছনে আঘাত করলে মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। রাহুলের কানে ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। তারা অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়ে রাহুলের মুখে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
পিবিআইর পুলিশ সুপার আরও বলেন, পরে তারা রাহুলের মরদেহ অটোরিকশায় বসিয়ে আসামি সজলের গরুর খামারে নিয়ে যান। আসামিরা সেখানে দুই দিন মরদেহ রাখেন এবং ৯ই ফেব্রুয়ারি রাতে ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ঝোপে ফেলে রাখেন। যেখান থেকে পরে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে রাহুলের অটোরিকশাটি গ্রেপ্তার আসামিরা বিক্রি করে দেন এবং বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন।
