বায়রার চূড়ান্ত অনুমোদন উৎপাদনের পথে রূপপুর

ফন্ট সাইজ:

দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের প্রথম ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে আরও একধাপ এগিয়েছে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়রা) কাছ থেকে বৃহস্পতিবার ইউনিট-১ এর বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে। এ অনুমোদনের মধ্যদিয়ে রিঅ্যাক্টরকে ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ ও ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’র দিকে নেয়ার পথ খুললো।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি হলো রিঅ্যাক্টরের ভেতরে প্রথম নিয়ন্ত্রিত ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পারমাণবিক চেইন রিঅ্যাকশন শুরু হওয়ার ধাপ। এ সময় রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা পূর্ণ শক্তির এক শতাংশেরও কম পর্যায়ে রেখে বিভিন্ন সিস্টেম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা নিবিড়ভাবে পরীক্ষা করা হবে। এ ধাপসহ ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে। এরপর ধাপে ধাপে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

এর আগে প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ বাধা তৈরি হয়েছিল নিরাপত্তা ভালভের কারিগরি ত্রুটিতে। রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ এনে একে একে ৯টি ভালভ মেরামত করা হয়। ৩০শে সেপ্টেম্বর ১৬ মেগাপাসকেল উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিওআরভি/পিওএসভি) পরীক্ষা সফল হয়। পরীক্ষায় মেইন ও ইমার্জেন্সি কন্ট্রোল রুম থেকে ভালভ, মেইন সেফটি ভালভ এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই করা হয়।

বায়রার অনুমোদনের পর এখন ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ শেষ করে ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে যাবে ইউনিটটি। এ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধাপে ধাপে বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে দেয়ার লক্ষ্য রয়েছে। তবে গ্রিডে সংযোগের আগে সংশ্লিষ্ট সব পরীক্ষা, নিরাপত্তা যাচাই ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের ধাপ সম্পন্ন করতে হবে।

রূপপুর প্রকল্পে দু’টি ইউনিটে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। প্রতিটি ইউনিটের ক্ষমতা ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট। ২৮শে এপ্রিল প্রথম ইউনিটে পারমাণবিক জ্বালানি লোডিং শুরু হয়। ওই সময় থেকেই বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথম ইউনিট গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পরও পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও ক্ষমতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়া চলবে। সফলভাবে সব ধাপ সম্পন্ন হলে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগোবে রূপপুর। দুই ইউনিটের পূর্ণ উৎপাদন শুরু হলে জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় যুক্ত হবে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ।

রূপপুর প্রকল্পের মোট ব্যয় বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৬ কোটি টাকা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ দুই দফায় বাড়িয়ে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত করা হয়েছে।