ধর্মপাশায় ফসল রক্ষা বাঁধ কেটে মাছ শিকার, অভিযোগ এসও জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে

ফন্ট সাইজ:

অবৈধভাবে ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে মাছ শিকারের ঘটনায় সুনামগঞ্জ পাউবোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও পাউবোর আওতায় ধর্মপাশা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব (এসও) মো. জাহাঙ্গীর আলম জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে গতকাল স্থানীয় কৃষক ও পল্লী চিকিৎসক ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ সূত্র জানা যায়, এসও জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে মাছ ধরার ঘটনা ব্যাপকহারে বেড়েছে। প্রতি বছর কাটা বাঁধ পার হওয়ার সময় জালের ভেতর আটকে পড়ে কৃষকের গরু মৃত্যুর একাধিক ঘটনা ঘটছে।

প্রতি বছর বর্ষার শেষের দিকে হাওরের পানি নামতে শুরু করলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেসে ওঠে। পরে বাঁধ কেটে পানির প্রবাহ সৃষ্টি করে মাছ শিকার করে জেলেরা। বিগত বছরের ন্যায় এ বছরও বর্ষার শেষের দিকে অবৈধভাবে বাঁধ কেটে মাছ ধরা শুরু হয়েছে। উপজেলার চন্দ্রসোনারথাল হাওরের রুই বিল প্রকল্প ও সোনামড়ল উপজেলার রুই বিল প্রকল্পের চাকডরা জলমহালের পাশের একটি বাঁধ ও সোনামড়ল হাওরের কুকুরমারা বাঁধ, ইজারা বাঁধ ও সুন্দরপুর স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশের বাঁধ কেটে মাছ ধরছে জেলেরা।

ধারণা করা হচ্ছে, এক সপ্তাহ আগে সোনামড়ল হাওরের সুন্দরপুর স্লুইস গেটের দক্ষিণ পাশের ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে মাছ ধরার সময় জালে আটকে একটি গরু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। চাকডরা জলমহালের পাশের ফসলরক্ষা বাঁধে মাছ ধরার সময় আরও একটি গরুর মৃত্যু হয়। এসব ঘটনার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বাঁধ কেটে অবৈধভাবে মাছ শিকারের নেপথ্যে এসও জাহাঙ্গীর আলম জড়িত রয়েছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলেরা জানান, জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে কথা বলে বাঁধ কেটে মাছ ধরছেন।

একাধিক স্থানীয় কৃষক বলেন, জাহাঙ্গীর আলম দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে মাছ ধরার ঘটনা ব্যাপকহারে বেড়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে এসেও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে জেলেদের সঙ্গে কথা বলে চলে যান। এ বিষয়ে ধর্মপাশা উপজেলার দায়িত্বে থাকা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব সুনামগঞ্জ জেলা (পাউবো)’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাওরের ফসলরক্ষা বাঁধ কেটে মাছ ধরা ও জালে আটকে পড়ে গরু মৃত্যুর ঘটনা তিনি জানতে পেরেছেন। তবে এসব বিষয়ে তিনি জড়িত নন। তিনি আরও বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছেন। পুরো উপজেলার হাওর এলাকার খবর রাখা একার পক্ষে সম্ভব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনি রায় বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।