চিকিৎসা না পেয়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ হাসপাতালের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ

চিকিৎসা না পেয়ে শিশুমৃত্যুর অভিযোগ হাসপাতালের সামনে মরদেহ রেখে বিক্ষোভ

ফন্ট সাইজ:

চট্টগ্রামের আনোয়ারা সাঙ্গু ট্রমা অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল নামের একটি হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসা না দিয়ে অবহেলার মো. আয়ন নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বটতলী রুস্তমহাট এলাকায় স্বজনরা শিশুর মরদেহ হাসপাতালের সামনে রেখে বিক্ষোভ করেন। এর আগে রাত ১০টার দিকে শিশুটি মারা যায়। শিশু আয়ন (৮) চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় হলেও বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের কারণে সে মা কুমকুম আকতার রুম্পার সঙ্গে নানার বাড়ি আনোয়ারা উপজেলার বারশত ইউনিয়নের গুন্ধীপপাড়া ছাদেক আলী তালুকদারের বাড়িতে থাকতো। তার মা কুমকুম আকতার কেইপিজেড’র পোশাক শ্রমিক।

নিহত শিশুর স্বজনরা জানান, বুধবার বিকালে আয়ন একটি প্রাইভেটকারের সঙ্গে ধাক্কা লেগে আহত হয়। আমরা তাকে সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতালে নিয়ে আসি। চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে পাঠিয়ে দেন এবং তিনদিন পর হাসপাতালে আনতে বলেন। তাকে বাড়ি নিয়ে গেলে রাত ৯টার দিকে তার অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। স্বজনদের অভিযোগ, সাঙ্গু ট্রমা হাসপাতাল কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই হাসপাতালের কর্মচারী দিয়ে চিকিৎসা দিয়েছে। বারবার বলার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি। হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিশুটি দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর আমাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে, এখানে চিকিৎসা দিয়ে স্বজনরা শিশুটিকে বাড়ি নিয়ে যায়, পরে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে গেলেও শিশুটি মারা যায়, কিন্তু শিশুর অভিভাবকরা রাতে মরদেহ নিয়ে আমাদের হাসপাতাল ভাঙচুর করে। আমাদের থেকে ২০ লাখ টাকাও দাবি করছে, টাকা না দেয়ায় তারা হাসপাতালের সামনে শিশুর মরদেহ রেখে গেছে। আনোয়ারা থানার ওসি জুনায়েত চৌধুরী বলেন, বটতলী রুস্তম হাটে সাঙ্গু ট্রমা নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে এক শিশুর মৃত্যু নিয়ে উত্তেজনা দেখা দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহত শিশুর স্বজন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন নিয়ে আলোচনা চলছে বলে শুনেছি। তবে এখনো কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শিশুর মৃত্যুর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডা. জামশেদ গিয়াস উদ্দিনকে প্রধান করে বিবি জয়নাব ও মো. বেলাল হোসেনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি করেছি। এ কমিটি আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবেন, তারপর আমরা আইনি ব্যবস্থা নেবো।