সাগর থেকে নদীতে আসা ইলিশ নিরাপদে ডিম ছাড়ার জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ আহরণ নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। প্রথম দিনে মেঘনা নদী ও মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র দুটোই ফাঁকা রয়েছে। গতকাল সকাল ১১টায় শহরের তিন নদীর মোহনা বড় স্টেশন, টিলাবাড়ী ও লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা গেছে পুরো নদী ফাঁকা। কোথাও কোনো জেলে নৌকা দেখা মেলেনি। ট্রলার নিয়ে নদীতে মাইকিং করে জেলেদের সচেতন করতে দেখা গেছে জেলা মৎস্যজীবী দলের নেতাকর্মীদের।
অপরদিকে দেশের অন্যতম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বড় স্টেশন মাছঘাটও ফাঁকা। যেখানে নিষেধাজ্ঞার আগে গত বুধবার ছিল কর্মচাঞ্চল্য। সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পাইকারি ও খুচরা ইলিশ কেনাবেচা চলেছে। তবে এখন ভিন্ন চিত্র। অধিকাংশ আড়তের সামনে ফাঁকা। কিছু আড়তের সামনে লোক থাকলেও তার হিসাবনিকাশ এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে। জেলা টাস্কফোর্সের পক্ষ থেকে ২২ দিনের জন্য শহরের যত বরফকল রয়েছে, সবগুলো বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তবে দেশীয় জলাশয়ে চাষ করা মাছ বিক্রি করতে নিষেধাজ্ঞা নেই। ঘাটের ইলিশ বিক্রেতা আকবর আলী বেপারী বলেন, প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে আড়তে থাকি। যে কারণে আজকেও ওই সময় এসে উপস্থিত হয়েছি। তবে তেমন কোনো কাজ নেই। অনেকেই আড়ত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছে। এই ঘাটে ইলিশ ক্রয়-বিক্রয়ের কাজে শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তাদের আড়ত ও বিভিন্ন স্থানে অবসর সময় কাটাতে দেখা গেছে।
শ্রমিক সোলায়মান ও আনিছুর রহমান বলেন, কাজ না থাকলেও বাসায় বসে থাকতে ভালো লাগে না। যে কারণে আড়তের পাশে বসে আড্ডা দিয়ে সময় পার করছি। ২২ দিন আমাদের অবসর থাকতে হবে। সবাই এই সময়ের জন্য বেকার হয়ে পড়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, অভয়াশ্রম এলাকার মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল থেকে হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী পর্যন্ত জেলা টাস্কফোর্সের পাশাপাশি নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ডসহ তিনটি দল অভিযান পরিচালনা করছে। নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন ২৪ ঘণ্টা অভিযান অব্যাহত থাকবে। মা ইলিশের প্রজনন রক্ষায় ২২ দিনের অভিযান ৮ই অক্টোবর থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে ২৯শে অক্টোবর রাত ১২টা পর্যন্ত।
