সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর প্রতাপশালী এপিএস শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। প্রায় তিন কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ ও সম্পদ বিবরণী প্রদানের নোটিশের পরও নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করায় এ মামলা দায়ের করা হয়।
গতকাল সকালে দুর্নীতি দমন কমিশনের সিলেট সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শহীদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রাথমিক অনুসন্ধানে তার নামে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ মোট ২ কোটি ৮৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়। এর প্রেক্ষিতে কমিশন কর্তৃক তার প্রতি সম্পদ বিবরণী জারির নির্দেশ প্রদান করা হয়। দুদক জানায়, গত ৫ই জানুয়ারি পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে শহীদ চৌধুরীর রাজবাড়ি এলাকার বাসায় প্রকাশ্য স্থানে এ ব্যাপারে নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশ জারির পর বিধি মোতাবেক ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদ বিবরণী দাখিলের বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি অদ্যাবধি কমিশনে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেননি এবং কোনো প্রকার সময় বৃদ্ধির আবেদনও করেননি।
দুদক কর্মকর্তারা আরও জানান, কমিশন কর্তৃক জারিকৃত নোটিশের নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী দাখিল না করে দুর্নীতি না করে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করায় দুদক, সিলেটের সহকারী পরিচালক জুয়েল মজুমদার বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার এ মামলা দায়ের করেন। ২০২৩ সালের সিলেট সিটি নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর শহীদ চৌধুরীকে তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ প্রদান করেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট পট পরবির্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। এরপর তাকে মেয়র পদ থেকে অপসারণ করা হয়। গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে শহীদ চৌধুরীও আত্মগোপনে আছেন।
