আফগান লীগে ইংলিশদের এনওসি দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরতে পারে ইসিবি

আফগান লীগে ইংলিশদের এনওসি দেয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরতে পারে ইসিবি

ফন্ট সাইজ:

তালেবান শাসনে নারী অধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবাদে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে না ইংল্যান্ড। তবে প্রস্তাবিত আফগানিস্তান প্রিমিয়ার লীগে (এপিএল) ইংলিশ ক্রিকেটারদের অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেয়ার কথা ভাবছিল ইংল্যান্ড এন্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। ইংল্যান্ডে এমন খবর তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিলে সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে ইসিবি। বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন জানিয়েছেন, বিষয়টিকে এখন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক খুঁজে না পাওয়ায় টুর্নামেন্টটির আয়োজন নিয়েই বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তালেবান সরকারের নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ বয়কট করা ইসিবি তাদের খেলোয়াড়দের ফ্র্যাঞ্চাইজি লীগ এপিএলে খেলার অনুমতি দিতে যাচ্ছিল। তখন দেশটির ভেতরে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে। লেবার পার্টির এমপি টনিয়া অ্যান্টোনিয়াজিসহ বিশিষ্টজনেরা এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে খেলোয়াড়দেরও বিবেক বিবেচনা করার তাগিদ দেন।

লর্ডসের এক অনুষ্ঠানে আইনি জটিলতা ও বাণিজ্যের অধিকারের বিষয়টি টেনে ইসিবি প্রধান রিচার্ড থম্পসন বলেন, ‘আইন অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া কারো কাজের স্বাধীনতা বা রুটি-রুজি আপনি আটকে রাখতে পারেন না। তবে এপিএলের জন্য এনওসি দেয়ার বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ইস্যু, যা এখনো আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। যখন এটি আসবে, তখন আমাদের অনেক সাবধানে ও গভীরভাবে এটি বিবেচনা করতে হবে।’

আগামী ২৭শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টটির জন্য ড্রাফট পিছিয়ে ২৪শে অক্টোবর নির্ধারণ করা হলেও অনিশ্চয়তা কাটেনি। ক্রিকইনফোর তথ্য অনুযায়ী, ৫টির মধ্যে মাত্র ৩টি ফ্র্যাঞ্চাইজির মালিক খুঁজে পেয়েছেন আয়োজকরা, বাকি ২টি বিক্রির প্রক্রিয়া থমকে আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সূত্র ক্রিকইনফোকে এই লীগের ভবিষ্যৎকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

এদিকে ক্রিকেটারদের ওপর দায় না চাপিয়ে ইসিবি ও আইসিসির দ্বিচারিতার কড়া সমালোচনা করেছেন সাবেক ইংলিশ ব্যাটার মার্ক বুচার। তিনি বলেন, ‘পূর্ণ সদস্য হিসেবে আফগানিস্তানের নারীদের কোনো দল নেই, যা আইসিসির মূল শর্তেরই চরম লঙ্ঘন। আইসিসি বা ইসিবি নিজেরাই যদি দ্বিমুখী নীতি বজায় রাখে, তবে ক্রিকেটারদের নৈতিকতার পাঠ শেখানো কঠিন। হয় আপনি খেলোয়াড়দের যাওয়ার অনুমতি দেবেন, না হয় স্পষ্ট করে মানা করবেন।’