ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হলো এক আবেগঘন অধ্যায়ের সমাপ্তির। বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে আর্জেন্টিনার জার্সিকে চিরতরে বিদায় জানালেন লিওনেল মেসি। বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে ৩-০ গোলের জয়ে আলবিসেলেস্তাদের হয়ে নিজের শেষ ম্যাচটি খেললেন এই মহাতারকা। ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে এক গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করে নিজের সোনালী অধ্যায়ের পর্দা নামালেন ৩৯ বছর বয়সী এই জাদুকর। মেসির এই বিদায়বেলায় সবচেয়ে বেশি আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন কোচ লিওনেল স্কালোনি।
সংবাদ সম্মেলনে কথা বলতে গিয়ে নিজের কান্না আটকাতে পারেননি মেসির এক সময়ের সতীর্থ স্কালোনি। তার কণ্ঠে বারবার উঠে এসেছে মেসির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা এবং তাকে হারানোর অপূরণীয় শূন্যতার কথা। মেসিকে কোচিং করাতে পারাটা জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি উল্লেখ করে স্কালোনি বলেন, ‘এটি আমার জন্য একটি স্বপ্ন সত্যি হওয়ার মতো। আমি কখনো ভাবিনি যে আমি ইতিহাসের সেরা ফুটবলারের কোচ হব। তার পাশে থাকার সুযোগ পাওয়ার জন্য আমরা তার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ।’
মেসির খেলার মাঠে সেই অনন্য প্রতিভার কথা স্মরণ করে আর্জেন্টিনা কোচ বলেন, ‘সে এক অনন্য ফুটবলার এবং আমার মনে হয় না তার পরে মাঠে আর কেউ তার মতো হতে পারবে। আমার পুরো জীবনে আমি কারও মধ্যে এমন কিছু দেখিনি। সে যে আলো ছড়ায়, তা আমি অন্য কারও মধ্যে দেখিনি। তাকে ছাড়া দল অন্যান্য বিকল্প খুঁজবে, কিন্তু সেই অনুভূতি আর কখনো ফিরে পাবে না।’
কোচ ও অধিনায়কের এই ঐতিহাসিক জুটি উপহার দিয়েছে কোপা আমেরিকা (২০২১ ও ২০২৪), ফিনালিসিমা এবং ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের মতো সোনালী সাফল্য। মেসিকে ছাড়া ভবিষ্যৎ গড়ার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে স্কালোনি বলেন, ‘আমরা তরুণ খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করছি, এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে মাঠে তাকে পাশে পাওয়ার অনুভূতিটাই ছিল অতুলনীয়। যে খেলোয়াড় নিজের প্রতিভায় যেকোনো ম্যাচ মুহূর্তেই বদলে দিতে পারত, তাকে আপনি আর পাবেন না।’
২০ বছর ধরে আর্জেন্টিনার জার্সিতে ২০৭টি ম্যাচ খেলে ১২৬ গোল এবং ৬৬টি অ্যাসিস্টের অনন্য রেকর্ড গড়েছেন মেসি। তার এই বর্ণাঢ্য বিদায়ে শুধু আর্জেন্টিনা নয়, স্তব্ধ পুরো বিশ্ব ফুটবল। স্কালোনির ভাষায়, মেসি কেবল একজন খেলোয়াড়ই নন, তিনি ফুটবলের এক অবিস্মরণীয় অনুভূতির নাম।
