শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ নভেম্বর

শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ গঠনের শুনানি ১ নভেম্বর

ফন্ট সাইজ:

২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ঘিরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১ নভেম্বর ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বুধবার আসামিপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আজ শাপলা চত্বরের ঘটনার মামলার চার্জ গঠনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ যেসব নথিপত্র ও কাগজপত্রের ওপর ভিত্তি করে মামলা পরিচালনা করতে চায়, তার অনেক কাগজপত্র এখনও পর্যন্ত আসামিপক্ষকে সরবরাহ করেনি। তিনি বলেন, চার্জ গঠনের ক্ষেত্রে যে বিষয়গুলো আসামিপক্ষ থেকে আদালতের সামনে উত্থাপন করা প্রয়োজন, কাগজপত্র না পাওয়ার কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি। যার কারণে আমরা ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় চেয়েছি।
আদালতের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে আইনজীবী বলেন, আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আগামী ১লা নভেম্বর শুনানির পরবর্তী দিন নির্ধারণ করেছেন। একইসঙ্গে এর মধ্যে আসামিপক্ষকে মামলার সমস্ত কাগজপত্র ও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করার জন্য রাষ্ট্রপক্ষকে (প্রসিকিউশন পক্ষ) নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
শাপলা চত্বরে ৬১ জন নিহত হওয়া এবং এটিকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী বলেন, ২০২৪ সালের পরবর্তী সময়ে যেসব মামলা দায়ের হয়েছে, তার মধ্যে এটিই প্রথম মামলা যেখানে গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণহত্যার অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এই ট্রাইব্যুনালে আদৌ গণহত্যার অভিযোগে চার্জ গঠন করা যায় কি না বা এই মামলা ট্রাইব্যুনালে চলতে পারে কি না—সে বিষয়ে আগামী ১ নভেম্বর শুনানিতে আসামিপক্ষের যুক্তি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হবে। মুনসুরুল হক আরও জানান, আসামিপক্ষের ডিফেন্সের বিস্তারিত কৌশল এখনই প্রকাশ করার সময় আসেনি, চার্জ গঠনের শুনানির দিনই এ বিষয়ে তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যাবে।
এদিন সকালে এ মামলায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ গ্রেপ্তার ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। এ মামলায় মোট আসামি ৪১ জন।
ট্রাইব্যুনালে হাজির করা অপর আসামিরা হলেন—তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, তৎকালীন খাদ্যমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রুপা। মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩০ জন আসামি পলাতক রয়েছেন।