দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। তাও যেন তেন পদের কোনো সেনা কর্মকর্তা নন। পেন্টাগন জানিয়েছে, যার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে তিনি মার্কিন সাবেক মেজর নিদাল হাসান। তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। ২০০৯ সালে ফোর্ট হুডে নিরস্ত্র ১৩ মার্কিন সেনাকে গুলি করে হত্যা করেন নিদাল হাসান। এ ঘটনায় আরও ৩২ জন আহত হন।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এই পদ্ধতিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সুপারিশ করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তাতে অনুমোদন দিয়েছেন। মার্কিন সেনাবাহিনীর সেক্রেটারি মঙ্গলবার জানিয়েছেন, আগামী ৩রা ডিসেম্বর টেক্সাসের ফোর্ট হুডে হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এটি হবে মার্কিন সামরিক বাহিনীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে প্রথম মৃত্যুদণ্ড। এক্সে দেয়া এক পোস্টে পার্নেল লিখেছেন, হাসানের জন্য অবশেষে বিচারের দিন এসে গেছে।
ভার্জিনিয়ার বাসিন্দা ও মার্কিন সেনাবাহিনীর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিদাল হাসান ২০০৯ সালে টেক্সাসের ওই ঘাঁটিতে ১৩ সেনাকে হত্যা করেন। পরে আদালতে তিনি স্বীকার করেন যে, তিনিই হামলাকারী ছিলেন এবং যেকোনো ভুলের জন্য ক্ষমা চান। ২০১৩ সালে সামরিক আদালতে বিচার চলাকালে হাসান বলেন, আফগানিস্তানে মুসলিম ও তালেবানদের রক্ষা করার জন্যই তিনি ওই হামলা চালান। ২০০৯ সালের ৫ই নভেম্বরের ওই হত্যাকাণ্ড ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সামরিক ঘাঁটিতে যুদ্ধের বাইরে সংঘটিত সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা।
সেনা মোতায়েনের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকা নেয়ার জন্য অপেক্ষারত সদস্যদের ভিড়ে থাকা একটি চিকিৎসা ভবনে হামলাটি চালানো হয়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিদের তালিকায় হাসানসহ চারজন রয়েছেন। সামরিক আইন অনুযায়ী, কোনো সামরিক মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদন প্রয়োজন। এর আগে আপিলের মাধ্যমে মামলাটি পর্যালোচনা এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বৈধতা নিয়ে চূড়ান্ত রায়ও প্রয়োজন হয়। ১৯৮৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব আপিলস ফর দ্য আর্মড ফোর্সেস সামরিক মৃত্যুদণ্ডকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে। তবে পরের বছর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এটি পুনর্বহাল করা হয়।
