বিদায়টা এর চেয়ে সুন্দর আর কী হতে পারত! জাতীয় দলের জার্সিতে লিওনেল মেসির সঙ্গে শেষবার মাঠে নামলেন নিকোলাস ওতামেন্দি। আর শেষ ম্যাচেই গোল করে লিখলেন নিজের বিদায়ের গল্প। সেই গোলের কারিগর আবার আর কেউ নন—দীর্ঘদিনের সতীর্থ, বন্ধু ও আর্জেন্টিনার আরেক কিংবদন্তি মেসি। মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক ভলিতে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন ওতামেন্দি। শেষ পর্যন্ত বেনিনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।
গোলের পরের দৃশ্যটা যেন ছিল একটি সিনেমার শেষ দৃশ্য। গোল করেই কর্নার পতাকার দিকে ছুটে গেলেন ওতামেন্দি। পেছন থেকে ছুটে এলেন মেসি। মুহূর্তেই বন্ধুর বাহুডোরে বন্দি ওতামেন্দি। চোখেমুখে আনন্দ, আবেগ আর বিদায়ের ভার। জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচ, শেষ গোল—আর সেই গোলের সহায়তাকারী মেসি। এর চেয়ে আবেগঘন সমাপ্তি আর কী-ই বা হতে পারে!
ম্যাচ শেষে নিজের শেষ গোলের কথা বলতে গিয়ে আবেগ সামলাতে পারেননি ওতামেন্দি। বললেন, ‘অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি। এই ম্যাচটি ছিল বাড়তি পাওয়া। আমি আগেই বিদায় জানিয়েছিলাম। কিন্তু ১০ নম্বরের ডাকে এখানে এসে তার বিদায় উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি। এটি তার জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।’
এরপর নিজের ১৭ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকান ওতামেন্দি। মেসির সঙ্গে শেষবারের মতো মাঠ ভাগ করে নেওয়ার মুহূর্তটাকে মনে রাখবেন সারাজীবন। বলেন, ‘জাতীয় দলের সঙ্গে আমার ১৭ বছর কেটেছে এবং তার সঙ্গে এই মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারাটা দারুণ ছিল। শেষ ম্যাচে জাতীয় দলের হয়ে শেষ গোল করা এমন কিছু, যা আমি সারাজীবন সঙ্গে নিয়ে চলব।’
গোলের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ উপভোগ করার সুযোগ পাননি ওতামেন্দি। মাত্র চার মিনিট পরই তাকে তুলে নেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। মাঠ ছাড়ার সময় গ্যালারি থেকে ভেসে আসে করতালির ঢেউ। সতীর্থরা এগিয়ে আসেন, সমর্থকরা দাঁড়িয়ে সম্মান জানান তাদের এক প্রিয় যোদ্ধাকে। আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো গ্যালারির ভালোবাসা গ্রহণ করেন ওতামেন্দি। বিদায়ের সেই মুহূর্তে জাতীয় দলের ব্যাজে চুমু দিয়ে বুঝিয়ে দেন—এই জার্সির সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু ফুটবলের নয়, হৃদয়েরও।
বিদায়ের আগে মেসির প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভুললেন না ওতামেন্দি। বন্ধুকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘সবচেয়ে সাধারণ ও বিনয়ী মানুষদের একজন হওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। তোমার ফুটবল প্রতিভা দেখানোর জন্য এবং আর্জেন্টিনার পতাকাকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে তুলে ধরার জন্যও ধন্যবাদ।’
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ ছিল না। এটি ছিল দুই বন্ধুর একটি যুগের শেষ অধ্যায়ের মতো। একদিকে মেসির বিদায়ের আবেগ, অন্যদিকে ওতামেন্দির শেষ ম্যাচ। আর সেই বিদায়ের রাতেই মেসির পাস থেকে ওতামেন্দির গোল—দুজনের গল্পকে যেন একই ফ্রেমে বন্দি করে রাখল।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে ১৭ বছরের পথচলায় ১৪০ ম্যাচ খেলেছেন ওতামেন্দি। গোল করেছেন ১০টি। তবে সংখ্যার চেয়েও বড় তার অর্জনের তালিকা। ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা, ২০২২ বিশ্বকাপ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা—চারটি বড় শিরোপা উঠেছে তার হাতে।
