বেনিনের বিপক্ষে গোল, সঙ্গে অ্যাসিস্ট—বিদায়টা যেন নিজের স্টাইলেই রাঙালেন লিওনেল মেসি। তবে আর্জেন্টিনার জার্সিতে শেষবারের মতো মাঠ ছাড়ার রাতে আনন্দের সঙ্গে মিশে থাকল গভীর বিষাদও। বিদায়ী ভাষণে বারবার ফিরে এল বাবার স্মৃতি। কিংবদন্তির কণ্ঠে ঝরল তাকে পাশে না পাওয়ার আক্ষেপ।
ম্যাচ শেষে বিদায়ী ভাষণে মেসি বলেন, ‘আজ রাতে যার কথা সবার আগে মনে পড়ছে, তিনি আমার বাবা।’
এরপর নিজের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সবাইকে ধন্যবাদ জানান আর্জেন্টাইন মহাতারকা। বলেন, দেশের হয়ে খেলতে গিয়ে কখনো নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করেননি তিনি। লড়াইও থামাননি কখনো।
আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার অনুভূতি জানাতে গিয়ে মেসি বলেন, ‘সবাইকে কেবল ধন্যবাদই জানাতে পারি। ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই জার্সিতে খেলতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের। আমরা কখনোই লড়াই থামাইনি, কখনো নিজেদের সবটুকু উজাড় করে দিতে কার্পণ্য করিনি।’
এরপরই আবেগঘন সেই উপলব্ধি—‘আর্জেন্টিনার হয়ে খেলাটাই পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর অনুভূতি।’
মেসির এই বিদায়ের রাতে বাবাকে মনে পড়াটা ছিল স্বাভাবিকই। গত ৮ আগস্ট ৬৮ বছর বয়সে মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি। রোজারিওর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে ছেলের পাশে থাকা হোর্হে মেসির অনুপস্থিতি তাই মেসির বিদায়ী রাতেও গভীরভাবে অনুভূত হয়েছে।
মাঠে নিজের চিরচেনা ছন্দে গোল-অ্যাসিস্টে দলকে আনন্দ দেওয়ার পর মাইক্রোফোন হাতে আবেগপ্রবণ মেসি যেন জানিয়ে দিলেন—আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার গল্প শেষ হলেও এই জার্সির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতি, মানুষ আর ভালোবাসা কখনো শেষ হওয়ার নয়।
