ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জাহাজে আগুন, ২৩ নাবিককে বাঁচাল রাশিয়া

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় জাহাজে আগুন, ২৩ নাবিককে বাঁচাল রাশিয়া

ফন্ট সাইজ:

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় কৃষ্ণসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে ভয়াবহ আগুন লেগেছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ওই জাহাজে ২৩ জন ভারতীয় নাবিক ও ক্রু সদস্য ছিলেন। তাদের নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী। রুশ অগ্নিনির্বাপক দলের সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন। তিনি আরো বলেন এই ঘটনায় নৌড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এতে কৃষ্ণসাগরে তেল ছড়িয়ে পড়েছে। রাশিয়ার জনপ্রিয় রিসোর্ট সিটি সোচির কাছে এই ঘটনা ঘটে।

পাঁচ লাখ মানুষের শহর সোচির কাছে সমুদ্রের বুক থেকে উজ্জ্বল আগুনের লেলিহান শিখা ও আকাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে ওঠা ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ার দৃশ্য সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সোচির এই ঘটনার মাত্র একদিন আগে রোমানিয়া উপকূলে আরেকটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার পর আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটি ডুবে যায়। এতে একজন নিহত ও একজন নিখোঁজ হন। ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই কৃষ্ণসাগরে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা জোরদার করেছে দুই দেশ। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রোমানিয়া উপকূলের কাছে ইউক্রেনীয় খাদ্যশস্যবাহী জাহাজে দফায় দফায় হামলা চালাচ্ছে রাশিয়া। অন্যদিকে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউক্রেনীয় শহরগুলোতে মস্কোর নির্বিচার রাতের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই তারা রাশিয়ার তেল অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালাচ্ছে।

এর আগেও দক্ষিণ রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে কিয়েভের ড্রোন হামলায় সমুদ্রে তেল ছড়িয়ে পড়েছিল, সৈকত বন্ধ করতে হয়েছিল এবং আশপাশের অঞ্চলে বিষাক্ত কালো বৃষ্টির সৃষ্টি হয়েছিল। এদিকে সম্প্রতি দুই দেশই তাদের হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নতুন কৌশল হিসেবে দিনের আলোতেই ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে এবং প্রধান প্রধান সেতুগুলোতে ড্রোন বর্ষণ শুরু করেছে রুশ বাহিনী, যার ফলে কিয়েভজুড়ে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কৃষ্ণসাগর ঘিরে বাণিজ্যিক ও জ্বালানিবাহী জাহাজে পাল্টাপাল্টি এই আক্রমণ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য নতুন করে বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।