জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দুই দিনের সরকারি সফরে মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে বলে খবর দিয়েছে অনলাইন ডন। তারা বলেছে, উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের আমন্ত্রণে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পাকিস্তান সফর করছেন জাতিসংঘের মহাসচিব। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক পোস্টে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, মহাসচিবকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব রাষ্ট্রদূত নাবিল মুনির।
জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে গুতেরেসের ১০ বছরের মেয়াদ আগামী ৩১শে ডিসেম্বর শেষ হওয়ার কথা। সফরকালে তিনি পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ, উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ও চিফ অব আর্মি স্টাফ ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে সোমবার জানায় মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া গুতেরেস জাতিসংঘের ভারত ও পাকিস্তান সামরিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ (ইউএনএমওজিআইপি)-এর সদর দপ্তর পরিদর্শন করবেন। তিনি জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিএমএ)-এর সদর দপ্তরেও একটি ব্রিফিংয়ে অংশ নেবেন।
সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, গুতেরেসের সফরকালে বহুপাক্ষিক বিষয় এবং আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা জোরদারে পাকিস্তানের প্রচেষ্টা, পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থায় দেশটির অগ্রগতি তুলে ধরা হবে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই সফর জাতিসংঘের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করবে।
গত মাসে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে জাতিসংঘে পাকিস্তানের ভূমিকা ও দেশটির জোরালো অবস্থানের প্রশংসা করেন গুতেরেস। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় পাকিস্তানের অবদানেরও প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে পাকিস্তানের ভূমিকা ও ত্যাগের কথাও উল্লেখ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব। জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গুতেরেস প্রথম পাকিস্তান সফর করেন ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০১৬ সালে তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচিত হওয়ার প্রায় তিন বছর পর ওই সফর করেন।
এদিকে, গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার দৌড়ে থাকা ছয় প্রার্থীর মধ্যে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে দু’জন পাকিস্তান সফর করে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। জুলাই ও সেপ্টেম্বরে পৃথক বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব পদপ্রার্থী মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা এবং রাষ্ট্রদূত ওলারা ওতুনু জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রচেষ্টায় পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন।
