বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের উদ্যোগে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এ সভায় শিক্ষক সমাজের মর্যাদা রক্ষা, বেতন-বৈষম্য দূরীকরণ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মানোন্নয়নে সরকারের কাছে ১০ দফা দাবি তুলে ধরা হয়।
আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশন ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যাপক নূর নবী মানিকের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর, কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগীয় সভাপতি ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি এবং বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সিনেট সদস্য অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম।
এ ছাড়া কারিগরি শিক্ষক পরিষদের সৈয়দ আবদুল আজিজ, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের আব্দুছ ছবুর মাতুব্বর এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. আব্দুল মান্নান বক্তব্য দেন। সভার শুরুতে কুরআন তিলাওয়াত ও স্বাগত বক্তব্যের পর ইসলামি সংগীত পরিবেশন করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মজিবুর রহমান এমপি বলেন, ১৯৬৬ সালের প্রস্তাবনার আলোকে ১৯৯৪ সাল থেকে ইউনেস্কো শিক্ষক সনদের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে শিক্ষক দিবস পালনের সূচনা হয়। শিক্ষক সমাজের মর্যাদা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের ন্যায্য অধিকার পূরণ করা আবশ্যক। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আজ দেশের সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা উভয় ক্ষেত্রেই অবহেলা দৃশ্যমান।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন, ইন্টারনেটের অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম।
অধ্যাপক মজিবুর রহমান শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এবং শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রফেসর ড. ইলিয়াস মোল্লা এমপি বলেন, শিক্ষকরা হলেন জাতির কারিগর। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা সত্ত্বেও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবিগুলো বাস্তবায়িত হয়নি। দেশের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর একটি নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হলেও বাস্তবে শিক্ষকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। তিনি অবিলম্বে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ, স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ঘোষণা এবং মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক নূর নবী মানিক শিক্ষক সমাজের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে শিক্ষকদের পক্ষে ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেন। দাবিগুলো হলো— শিক্ষকদের পেশাগত সুরক্ষা ও আইনি মর্যাদা নিশ্চিত করা, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণের সুযোগ বহাল রাখা, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন-বৈষম্য ও বঞ্চনা দূর করা, শিক্ষকদের অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা দ্রুত প্রদানের ব্যবস্থা করা, নন-এমপিও শিক্ষকদের অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করা, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধ করা এবং পদবঞ্চিতদের দ্রুত নিয়োগ দেয়া, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য ৯ম পে স্কেল বাস্তবায়ন করা, শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক হয়রানি সম্পূর্ণ বন্ধ করা, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং সাধারণ শিক্ষার সমকক্ষ মর্যাদা প্রদান করা এবং সব স্তরে শিক্ষার জাতীয়করণ করা।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়ে শিক্ষা ও শিক্ষক সমাজের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দেশ গঠনে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।
