সরকার বদলায়, শিক্ষকদের দলাদলি থেকে যায়

সহযোগীদের খবর

সরকার বদলায়, শিক্ষকদের দলাদলি থেকে যায়

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘সরকার বদলায়, শিক্ষকদের দলাদলি থেকে যায়’—এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গত দুই বছরে সরকার বদলের সঙ্গে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য বদল হয়েছে মোটাদাগে দুই থেকে তিনবার। এর মধ্যে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ‘রাজনৈতিক তৎপরতার’ অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় রাজনীতির ছায়া আগের মতোই স্পষ্ট।

এখন নতুন মাত্রা যোগ করেছে শিক্ষকদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাংশের আচরণ। এসব ঘটনা কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ থাকেনি; শিক্ষার নিচের স্তর অর্থাৎ স্কুল-কলেজেও তা ছড়িয়েছে।

বরাবরই প্রবণতা হলো, সরকার বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। আবার শিক্ষকদের একাংশের মধ্যেও থাকে দলঘেঁষা সুবিধাবাদী তৎপরতা। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও শিক্ষাবিদেরা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দলীয় রাজনীতির কবলে চলে যাওয়ার সেই পুরোনো দিনগুলোই আবার ফিরে আসছে। এর সঙ্গে ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের অবনতির প্রভাব পড়ছে শিক্ষার পরিবেশেও। আর এসবের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পড়াশোনা।

এ বাস্তবতায় আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হচ্ছে। শিক্ষকদের পেশার সুরক্ষা, মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও ভবিষ্যৎ গঠনকে প্রতিপাদ্য করে এবার বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদ্‌যাপিত হচ্ছে। এবার ১০০ জন শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার।

শিক্ষকদের মর্যাদা, অধিকার ও পেশাগত স্বাধীনতার কথা স্মরণ করার দিনে তাই বড় প্রশ্ন—শিক্ষক রাজনীতি কি অধিকার ও পেশাগত স্বার্থ রক্ষার জায়গায় থাকবে, নাকি তা পদপদবি ও ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার হয়ে থাকবে?

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, প্রথমত, সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজের পছন্দের লোক বসাতে চায়। দ্বিতীয়ত, অল্পসংখ্যক শিক্ষক পদপদবির জন্য সরকারের আনুকূল্য চাইতে থাকেন। এভাবেই দলবাজির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মূলত আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্য হতেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে আওয়ামী লীগ আমলে নিয়োগ পাওয়া সব উপাচার্য মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করেন। তখন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী শিক্ষকেরা উপাচার্যের চেয়ারে বসেন।

এখন বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগ পাওয়া উপাচার্যদের সরিয়ে ৬১টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁদের প্রায় সবাই বিএনপিপন্থী শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিভিন্ন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদেও একই ধরনের বেশ কিছু চিত্র দেখা গেছে। অর্থাৎ, পুরোনো ধারাবাহিকতাই চলছে। সাধারণ শিক্ষকদের বড় অংশ এসব চান না বলে আলোচনা রয়েছে। কিন্তু মুষ্টিমেয় শিক্ষকের অতিমাত্রায় রাজনীতির প্রভাব পড়ছে পুরো শিক্ষাঙ্গনে।

শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও সংগঠন করার অধিকার সবার রয়েছে। সমস্যা হয় তখন, যখন রাজনৈতিক পরিচয় পেশাগত যোগ্যতার জায়গা দখল করে নেয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, প্রশাসনিক দায়িত্ব কিংবা গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় পরিচয় যোগ্যতার চেয়ে বড় হয়ে উঠলে এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রতিষ্ঠানে।

শিক্ষকদের হেনস্তার নতুন মাত্রা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া, তদন্ত, তালিকা তৈরি, বরখাস্ত, দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া, পদত্যাগে বাধ্য করা কিংবা হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে। কোথাও অপরাধ, অসদাচরণ বা প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে সামনে এসেছে রাজনৈতিক পরিচয়, দলীয় সম্পৃক্ততা কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ। কিছু ঘটনায় শিক্ষকদের নিজেদের দ্বন্দ্ব, দলাদলি ও পদপদবি দখলের প্রতিযোগিতার বিষয়ও উঠে এসেছে।

গত ডিসেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক শিক্ষককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হয়। গত জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার দায়িত্ব পালন করতে আসা এক শিক্ষককে শারীরিক হেনস্তার পর টেনেহিঁচড়ে প্রক্টর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ রকম ঘটনা আরও আছে। শিক্ষকেরা বলছেন, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা হতে পারে। কিন্তু শারীরিকভাবে হেনস্তা করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিন্ডিকেট সভায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী প্রথম আলোকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কারণে জিনাত হুদাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে অধ্যাপক জিনাত হুদা প্রথম আলোকে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা ছয়টি অভিযোগের একটিও তারা প্রমাণ করতে পারেনি। শিক্ষক সমিতির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া ও তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার জন্যই এটি করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্তত ৩২ জন শিক্ষককে একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখাসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৬০ জনের বেশি শিক্ষক বিভাগীয় সিদ্ধান্তে বা নিজ উদ্যোগে একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত ছিলেন।

এদিকে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের ২৩১ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠেছে। ‘গোপন তৎপরতায় লিপ্ত’ থাকার অভিযোগে গত ১৩ আগস্ট তিন সদস্যের কমিটি করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলকে সক্রিয় করার লক্ষ্যে ২২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষকের ‘গোপন তৎপরতায়’ যুক্ত থাকার কথা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২ জন শিক্ষকের নাম থাকার কথা বলা হয়। তাঁদের মধ্যে ৫৮ জনের নাম শনাক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ১৫ বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়েছিল কি না, তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত ও তদন্ত নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ‘বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক’।

আ.লীগ আমলেও দলবাজি

তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কিছু শিক্ষকের অতিমাত্রায় দলবাজির বিষয়টি নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় বিভাগ বা ইনস্টিটিউট খুলে শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে পদের অপব্যবহার এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছিল। তখন অভিযোগ উঠেছিল, যোগ্যতার চেয়ে অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপাচার্য নিয়োগেও দলীয় ব্যক্তিরাই প্রাধান্য পেতেন। আবার এসব উপাচার্যের কারও কারও বিরুদ্ধে দলীয়করণের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে স্বজনপ্রীতি করার অভিযোগ উঠেছিল। যেমন: খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক একজন উপাচার্য অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিজের ছেলে, মেয়ে, শ্যালক-শ্যালিকার ছেলে ও ভাতিজাকে নিয়োগ দেন। সব মিলিয়ে উপাচার্য নিজের পরিবারের সদস্য-আত্মীয়দের মধ্যে নয়জনকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি তাঁর স্ত্রীকেও অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যদিও পারেননি।

অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্র

রাজশাহী, জগন্নাথ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিসহ আরও কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে একই ধরনের অভিযোগে তদন্ত কমিটি হয়েছে। বিষয়টি উচ্চ আদালতেও গড়িয়েছে।

২২টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শতাধিক শিক্ষকের বিরুদ্ধে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং, অনুসন্ধান বা তদন্ত কমিটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। ২১ সেপ্টেম্বর একটি রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে এ রুল দেওয়া হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন অভিযোগ ও ঘটনায় ৩৮ জন শিক্ষক-কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুই শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত, তিন শিক্ষকসহ ১৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং ১১ শিক্ষককে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে আওয়ামীপন্থী ছয় ডিনকেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে প্রায় ৩০০ শিক্ষকের তালিকা উপাচার্যের কাছে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গত দুই বছরে শিক্ষকদের ঘিরে অন্তত ছয়টি ঘটনায় উত্তেজনা, বিক্ষোভ, হেনস্তা, তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় জড়িত ও মদদ দেওয়ার অভিযোগে ১৯ জন আওয়ামীপন্থী শিক্ষকের বিরুদ্ধে তদন্ত হয়। এর ভিত্তিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ শাস্তি নিয়ে শিক্ষার্থীদের আপত্তি থাকায় তা এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় আছে।

মবের শিকার শিক্ষক

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বেসরকারি স্কুল-কলেজেও সরকার পরিবর্তনের পর ‘মব’ করে শিক্ষকদের হেনস্তা ও জোর করে পদত্যাগ করানোর বহু ঘটনা ঘটেছে। তবে কত শিক্ষক এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন, তার তথ্য সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নেই।

জোরপূর্বক পদত্যাগ, অপসারণ, বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক ছুটি, কর্মস্থলে অবাঞ্ছিত ইত্যাদি ঘটনার শিকার শিক্ষকদের নিয়ে একটি সংগঠন গড়ে তোলা হয়েছে। ‘পদবঞ্চিত প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও শিক্ষক জোট’ নামে এ সংগঠনের আহ্বায়ক আনোয়ারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, তিনি ধামরাইয়ের সূয়াপুর নান্নার স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। জুলাই অভ্যুত্থানের পর তাঁকে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়।

আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, তাঁদের সংগঠনে এমন ভুক্তভোগী শিক্ষকের সংখ্যা ৩০০। তবে তাঁরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে খোঁজ নিয়ে জেনেছেন, প্রায় ৯৫০ জন শিক্ষকের এমপিও বন্ধ আছে। আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বেতন বন্ধ আছে প্রায় সাড়ে চার হাজার শিক্ষকের।

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ কেকা রায় চৌধুরী ও সহকারী অধ্যাপক ফারহানা খানম ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট মবের শিকার হয়ে পদত্যাগ করেন। পরে তাঁরা আদালতের আশ্রয় নেন। এখনো বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি।

ঢাকা সিটি কলেজের অধ্যক্ষ বেদারউদ্দিন আহমেদকেও জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। ২০২৫ সালের মার্চে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন প্রতিবেদনে বলা হয়, তাঁর পদত্যাগ সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সঠিক হয়নি। বর্তমান অধ্যক্ষ কাজী নেয়ামুল হকের নিয়োগ বৈধ না হওয়ায় বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। এখনো কোনো ব্যবস্থা হয়নি। বেদারউদ্দিন আহমেদ আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে এই কলেজের শিক্ষক কায়কোবাদ সরকারসহ আরও ছয়জন শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় তাঁদের পুনর্বহালের নির্দেশ দিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ তা মানছে না বলে ওই শিক্ষকদের একজন প্রথম আলোকে জানিয়েছেন।

শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, আওয়ামী লীগ, অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপি—সব সরকারের আমলেই কমবেশি শিক্ষকদের দলবাজির ঘটনা ঘটছে। এতে যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব বণ্টনের সংস্কৃতি গড়ে ওঠে না; রাজনৈতিক সমীকরণ শিক্ষকতার ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে। তবে শিক্ষকদের ‘দলবাজির’ সমালোচনা করতে গিয়ে অপরাধের জবাবদিহি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষক হামলা, সহিংসতা, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, দায়িত্বে গুরুতর অবহেলা কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধিভঙ্গের সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত ও শাস্তি হওয়া উচিত। বিচার হতে হবে প্রমাণের ভিত্তিতে, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে। কিন্তু দলবাজি বন্ধ হতে হবে।

দলীয় রাজনীতিতে এমপিওভুক্ত শিক্ষকেরা

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতির একটি বড় অংশ হলো শিক্ষক-কর্মচারীদের দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে ওঠা। পাঠদানের চেয়ে রাজনীতিতে বেশি সক্রিয় থাকার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে সরাসরি দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত, যার প্রভাব পড়ে শিক্ষা কার্যক্রমে।

তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের (সরকার থেকে বেতন-ভাতাপ্রাপ্ত) রাজনীতি বন্ধ করতে আচরণবিধি করার চিন্তা আছে সরকারের।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক প্রথম আলোকে বলেন, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি বন্ধ হওয়া উচিত।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আরেকটি সমস্যা হলো, দেশের অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে দীর্ঘদিন ধরে দলীয় ছায়া কাজ করছে। স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আত্মীয়স্বজন, ঘনিষ্ঠজন, অনুসারী বা দলীয় নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন পদে বসছেন। আর্থিকভাবে লাভের সুযোগ আছে—এমন কাজেই বেশি আগ্রহী থাকার অভিযোগ রয়েছে এসব কমিটির বিরুদ্ধে।

এত দিন সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারত পরিচালনা কমিটি। এখন তা এনটিআরসিএর মাধ্যমে হয়। স্কুল-কলেজের অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগও এনটিআরসিএর মাধ্যমে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

বাংলাদেশ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি ও প্রবীণ শিক্ষকনেতা মোহাম্মদ মাজহারুল হান্নান প্রথম আলোকে বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের শতভাগই সরকারের কাছ থেকে পান। কম হলেও কিছু ভাতাও পান। তাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজন নেই।

এসব অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের সহজ উপায় হলো যথার্থ ব্যক্তিকে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। কিন্তু বর্তমানে এখানেই বড় ঘাটতি রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও কম। ফলে অনেক শিক্ষক অর্থনৈতিক লাভের আশায় কোচিং, প্রাইভেটসহ নানা কাজে ছুটছেন।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মনে করেন, দলবাজি অবশ্যই বন্ধ হওয়া উচিত। দলবাজির জন্য শুধু শিক্ষকদের দায়ী করলে হবে না, বরং সরকারের দায় বেশি। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন চাওয়ার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বিশ্ববিদ্যালয়কে স্বাধীন রাখা। নির্বাচনের মাধ্যমে ডিন, সিনেট, সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন পর্যায়ে নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, যাতে গণতান্ত্রিক চর্চা থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে সেই গণতান্ত্রিক মডেল আর নেই।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘অনির্বাচিতদের কবজায় যাচ্ছে হাজার ইউপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অন্তত এক হাজার ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান ও সদস্যদের মেয়াদ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে যাচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে পদ হারাবেন বর্তমান জনপ্রতিনিধিরা। তাদের স্থলে প্রশাসক নিয়োগ দিচ্ছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। ফেব্রুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অন্তত ১৪৪ জন প্রশাসক ইতোমধ্যে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের কেউ সরকারি কর্মকর্তা আবার কেউ সরকারদলীয় নেতাকর্মী। যদিও স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন অনুযায়ী, সর্বশেষ নির্বাচন থেকে পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে আরেকটি ভোট হওয়ার কথা। কিন্তু তা না হওয়ায় দেশের তৃণমূল মানুষের নাগরিক সেবা দেওয়া এসব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যাচ্ছে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের হাতে। তবে সরকার ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে বলা হচ্ছে, আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে সব ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ইসি সূত্র আরও জানিয়েছে, চলতি বছরে তিন হাজারের বেশি ইউপি নির্বাচনের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হচ্ছে। এর মধ্যে শুধু নভেম্বর মাসে এক হাজার ৮৫০টির বেশি ও ডিসেম্বরে প্রায় সাড়ে আটশ ইউপির ভোটের সময়সীমা শেষ হবে। তবে সরকারের অনাগ্রহের কারণে চলতি বছরে এসব ইউপিতে নির্বাচন আয়োজন করবে না কমিশন। জানুয়ারিতে দুই থেকে তিন ধাপে কমবেশি দুই হাজার ইউপিতে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বাকি ইউপির নির্বাচন রোজা, ঈদ, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দিনক্ষণ ঠিক করবে ইসি। ওই নির্বাচনে জয়ী হওয়া নতুন জনপ্রতিনিধিরা দায়িত্ব নেওয়ার আগ পর্যন্ত দায়িত্বে থাকবেন প্রশাসকরা।

দেশের অন্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও পৌরসভাগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন প্রশাসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত সময়ে ভোট না হওয়া এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে অনির্বাচিত ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া গণতন্ত্র চর্চার পরিপন্থি। এতে নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় অগ্রাধিকার কমে যাচ্ছে।

এসব বিষয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান ও এ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আইনে কোনো নির্বাচন কখন করতে হবে সেই সময়সীমা উল্লেখ করে দেওয়া আছে। যদি ওই সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন করতে না পারা যায়, তাহলে যথাসম্ভব শিগগিরই নির্বাচন করতে হবে। আমরা অনেক বাস্তব কারণে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে ভোট করতে পারিনি সত্যি। তবে যথাসম্ভব দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা করছি। জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন শুরু করতে যাচ্ছি। অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনের সময় সম্পর্কে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর একসঙ্গে সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করতে হয়েছে। আগে কখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে আমরা পর্যায়ক্রমে সব নির্বাচন যত তাড়াতাড়ি পারি আয়োজন করব।

স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান প্রশাসক দিয়ে পরিচালনা সাংবিধানিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মনে করেন সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক। যুগান্তরকে তিনি বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট করে বলা আছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান চালাবেন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। বর্তমানে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের অনেক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে আছেন অনির্বাচিত প্রশাসকরা। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া কিছুটা গ্রহণযোগ্য ছিল। কিন্তু মাসের পর মাস প্রশাসক দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান পরিচালনা সাংবিধানিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত। তিনি বলেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব দেওয়া উচিত।

জানা গেছে, বর্তমানে দেশে চার হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সম্প্রতি ইসিতে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সচিবদের সামনে উপস্থাপন করা ইসির তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২১ ও ২০২২ সালে সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২১ সালের ২১ জুন ২০৪টি, ২০ সেপ্টেম্বর ১৬০টি, ১১ নভেম্বর ৮৪৮টি, ২৮ নভেম্বর ১০০৭টি ও ২৩ ডিসেম্বর ৮৪০টি ইউপিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। পরের বছর ২০২২ সালের ৫ জানুয়ারি ৭০৭টি, ৩১ জানুয়ারি ২১৯টি ও ৭ ফেব্রুয়ারি ১৩৮টিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই হিসাবে ওই সময়ে প্রথম চার ধাপে অনুষ্ঠিত ৩ হাজার ৫৯টি ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা ডিসেম্বরে শেষ হচ্ছে।

ইউপি নির্বাচনের সময়সীমা ও প্রশাসক নিয়োগের বিষটি ইউনিয়ন পরিষদ আইনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। আইনের ধারা ২৯ অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের তারিখ থেকে পরবর্তী পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার নিয়ম রয়েছে। অর্থাৎ ২০২১ সালের নভেম্বরে যেসব ইউনিয়ন পরিষদে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, সেগুলোতে চলতি বছরের জুন থেকে নভেম্বরের মধ্যে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসাবে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন হাজারের বেশি ইউপিতে নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই সময়ের মধ্যে নির্বাচন না করায় আইনের এ ধারার প্রয়োগ হচ্ছে না। যদিও ইসি ১২ নভেম্বর থেকে ধাপে ধাপে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সরকারের আপত্তিতে তা থেকে সরে এসে জানুয়ারি থেকে নির্বাচন শুরুর পরিকল্পনা করছে। নভেম্বরেই পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, কুড়িগ্রাম, বাগেরহাট, খুলনা, বরিশাল, বরগুনা, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সুনামগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ বেশির ভাগ জেলার এক বা একাধিক উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করার আইনি সময়সীমা শেষ হবে।

এছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সিটি করপোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও পৌরসভার জনপ্রতিনিধিদের অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার। ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং ওই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর কাউন্সিলরদের অপসারণ করা হয়। একই বছরের ১৯ আগস্ট তিন শতাধিক পৌরসভার মেয়র, সব উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সব জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়। আইন অনুযায়ী, এসব প্রতিষ্ঠানের পরিষদ বাতিলের পর ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট করার কথা। কিন্তু জাতীয় সংসদের আগে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। এ কারণে ওই সময় এসব নির্বাচন হয়নি। ইসি সূত্র জানিয়েছে, কমিশন এই মুহূর্তে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়েই বেশি ভাবছে। অন্যান্য নির্বাচনের বিষয়ে কমিশনের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হলেও সম্ভাব্য কোনো দিনক্ষণ নির্ধারণ হয়নি।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন না করা আইনের ব্যত্যয় বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি যুগান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কোন নির্বাচন কখন হবে তা স্ব-স্ব আইনে উল্লেখ আছে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নির্বাচন আয়োজন না করা আইনের লঙ্ঘন। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে সংসদ-সদস্যদের প্রভাব বন্ধ করতে হবে। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন আয়োজনসহ অন্যান্য কার্যক্রম স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হাতে দিতে হবে।

কালের কণ্ঠ

‘নিখোঁজ ৩৯ শিশুর খোঁজে পরিবারের করুণ কাহিনী’—এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ‘ছয় মাস ধরে আমার শিশু ছেলেটি নিখোঁজ। সেই থেকে কখনো গুলিস্তান, কখনো কমলাপুর রেলস্টেশন আবার কখনো সিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুরে খোঁজ করেছি।

সন্তানের ছবি নিয়ে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে আকুতি জানিয়েছি। থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছি। কিন্তু কোথাও বুকের মানিকের সন্ধান পাইনি।’

চোখের পানি ফেলতে ফেলতে গতকাল রবিবার কালের কণ্ঠকে কথাগুলো বলছিলেন নিখোঁজ শিশু আরাফাত হোসেন রিয়াদের (১৩) বাবা আনোয়ার হোসেন।

তিনি বলেন, ‘গত ২৮ মার্চ রাজধানীর দক্ষিণখান সৈয়দ নগর এলাকা থেকে আমার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে। মাঝেমধ্যে অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ছেলের সন্ধান দেওয়ার কথা বলে টাকা চায়। কয়েকজনকে কিছু টাকা দিয়েছিও। পুলিশকেও তাদের নম্বর দিয়েছি। কিন্তু তারা শুধু আশ্বাস দেয়, ছেলেকে আর ফিরিয়ে দেয় না।’

তিনি বলেন, ‘ছেলে বেঁচে আছে, নাকি কেউ মেরে ফেলেছে তাও জানি না।’ আনোয়ার হোসেন একটু থেমে তারপর আবার বলেন, ‘ছেলের খোঁজ পেতে দক্ষিণ খান থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছি। জিডির দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ খান থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনের সঙ্গে অনেকবার দেখা করেছি। এখনো পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি।’

জানতে চাইলে এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিশু আরাফাত হোসেন রিয়াদকে উদ্ধার করতে তদন্ত চলছে। তবে এখনো তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।’

২০২৪ সাল থেকে চলতি বছরের বর্তমান পর্যন্ত রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন থানায় নিখোঁজের পর অন্তত ৩৯ শিশুর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। এই নিখোঁজ শিশুদের ফিরে পেতে পরিবারগুলো জানিয়েছে তাদের নীরব যাতনার কথা।

যেখান থেকে এই শিশুরা নিখোঁজ হয়েছে সংশ্লিষ্ট সেসব থানায় জিডি করা হয়েছে জানিয়ে অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, নিখোঁজ সন্তানদের ফিরে পেতে দীর্ঘদিন ধরে থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন তাঁরা। কিন্তু পুলিশ প্রত্যাশিত সাড়া দিচ্ছে না। সহযোগিতা চাইতে গেলে অসহযোগিতামূলক আচরণ করে।

নিখোঁজ শিশুদের সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় কাজ করছে ‘মুন এলার্ট’ নামের একটি সংস্থা। সংস্থাটির সমন্বয়ক মারুফ হায়াত কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেশে প্রতিদিন শিশু নিখোঁজের অনেক অভিযোগ পাচ্ছি আমরা। গত এক সপ্তাহে শিশু নিখোঁজের ১২৬টি অভিযোগ পেয়েছি। এর মধ্যে ২৮ নিখোঁজ শিশুর বিষয়ে অভিযোগ গুরুতর।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা থেকে নিখোঁজের ২০ ঘণ্টা পর ১৩ বছরের শিশু অপ্রতিমের লাশ উদ্ধার করা হয়। এরপর জামালপুর জেলা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর সাত বছরের শিশু মারিয়াম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা থেকে নিখোঁজের দুই দিন পর শিশু মিম ও পাবনা জেলা থেকে নিখোঁজের সাত দিন পর ১০ বছরের শিশু কামরুন্নাহার কলির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ অবস্থায় এখনো নিখোঁজ যেসব শিশুর সন্ধান পাওয়া যায়নি তাদের পরিবার চরম আতঙ্কে রয়েছে।’

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত সাত মাসে দেশে ১৫ হাজার ৭১৭টি শিশু নিখোঁজ হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ হাজার ৬৭৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছে দুই হাজার ৩৮ জন।

পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যে আরো জানা যায়, চলতি বছর জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত শূন্য থেকে ৯ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় ৪৭৪টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়েছে। এর মধ্যে ৪০৬ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি ৬৮ জন শিশু এখনো উদ্ধার হয়নি। অন্যদিকে ১০ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশু নিখোঁজের ঘটনায় জিডি করা হয়েছে ১৫ হাজার ২৪৩টি। এর মধ্যে ১৩ হাজার ২৭৩ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো উদ্ধার হয়নি এক হাজার ৯৭০ জন।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘খুন-ধর্ষণ বেশি ওয়ারীতে চুরি গুলশান-উত্তরায়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানার ধলপুরে বাদল সরদার রোডের শেষ মাথায় একটি রিকশার গ্যারেজ। সেখানে গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন দুই বন্ধু। হঠাৎ তিনটি মোটরসাইকেলে সাত দুর্বৃত্ত এসে তাদের ঘিরে ফেলে। পরে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করা হয় ইমরান হোসেনকে। গুলিতে আহত হন তাঁর বন্ধু সাদ্দাম হোসেন।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট সকালে বাসা থেকে যাত্রাবাড়ীতে মাছের আড়তে যাওয়ার পথে আড়তের পেছনেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। তাঁকে কুপিয়ে ২৮ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোনসেট ছিনিয়ে নেয় ছিনতাইকারীরা।

অপরাধ দুটি সংঘটিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগে। শুধু এ দুটি ঘটনাই নয়। এই এলাকায় খুন ও ধর্ষণের ঘটনা রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। ছিনতাই, শিশু ও নারী নির্যাতনের ঘটনাও বেশি এই বিভাগে। খুন এবং নারী-শিশু ধর্ষণের মতো অপরাধে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে মিরপুর বিভাগ।

ঢাকায় পুলিশের আটটি বিভাগের মধ্যে চুরির ঘটনা বেশি গুলশানে। এর পর রয়েছে উত্তরা ও মতিঝিল বিভাগ। চলতি বছরের প্রথম আট মাসের (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) মামলার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।

ওয়ারী বিভাগ ছয়টি থানা নিয়ে গঠিত, এর মধ্যে অন্যতম যাত্রাবাড়ী। ওয়ারী বিভাগে অন্য পাঁচ থানা হলো- ডেমরা, ওয়ারী, শ্যামপুর, গেণ্ডারিয়া ও কদমতলী। এ ছাড়া মিরপুর বিভাগের মধ্যে পড়েছে গাবতলী এলাকা। এটি দারুস সালাম থানার আওতাধীন। এ ছাড়া এই বিভাগের অন্য থানাগুলো হলো- কাফরুল, মিরপুর, পল্লবী, ভাসানটেক, শাহ আলী ও রূপনগর।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ওয়ারী ও মিরপুর বিভাগের এলাকা ঘনবসতিপূর্ণ। এখানে অনেক ভাসমান অপরাধীর বাস। তারা অপরাধ সংঘটিত করে দ্রুত আত্মগোপনে চলে যেতে পারে।

ইত্তেফাক

‘বড়পুকুরিয়ার কয়লা উন্মুক্ত খননের চিন্তা সরকারের’—এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশীয় কয়লার ব্যবহার বাড়াতে বড়পুকুরিয়া খনির উত্তর ও দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা করছে সরকার। প্রাথমিকভাবে গৃহীত পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সমীক্ষা ও প্রস্তুতির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএমসিএল) হিসাবে, দুই অংশ থেকে প্রায় ১৭ কোটি টন কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা রয়েছে। বছরে প্রায় ৬০ লাখ টন উত্তোলন করা গেলে ২৮ থেকে ৩০ বছর কয়লা উত্পাদন চালানো সম্ভব হতে পারে।

পেট্রোবাংলা এবং বিসিএমসিএল সূত্র জানায়, জ্বালানি সংকট এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানির চ্যালেঞ্জ ও আর্থিক ঘাটতি দেশীয় কয়লা বড় আকারে উত্তোলনের চিন্তা করছে সরকার। বর্তমান ভূগর্ভস্থ পদ্ধতির পাশাপাশি এখন খনিটির উত্তর ও দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত পদ্ধতিতেও বড় পরিসরে কয়লা উত্তোলনের চিন্তা সে সূত্র ধরেই। তবে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগে বিস্তাারিত কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের মতামত গ্রহণ প্রয়োজন। এজন্য নীতিগত অনুমোদন ও দিকনির্দেশনা চেয়ে গত ২ জুলাই জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগে পত্র দিয়েছিল পেট্রোবাংলা। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও খনি উন্নয়নে প্রায় সাত-আট বছর সময় লাগতে পারে। জমি অধিগ্রহণ, ১৮ থেকে ২০ হাজার মানুষের পুনর্বাসন, পানি ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশগত প্রভাব মোকাবিলা—এ পরিকল্পনার বড় চ্যালেঞ্জ।

গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় খনির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা এক উপস্থাপনার মাধ্যমে তুলে ধরে বিসিএমসিএল। সেখানে গত ১৩ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উন্মুক্ত পদ্ধতিতে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানানো হয়। বিদ্যমান ও নতুন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুেকন্দ্রগুলোর জন্য আমদানি কমিয়ে দেশীয় কয়লা ব্যবহারের চিন্তা থেকেই এ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রায় দুই যুগ ধরে উত্তোলন পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক ও সিদ্ধান্তহীনতায় দেশের কয়লা সম্পদের বড় অংশ অব্যবহূত রয়েছে। পাঁচটি কয়লাখনির মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া থেকে কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। এ কয়লা সেখানকার বিদ্যুকেন্দ্রে ব্যবহূত হলেও কেন্দ্রটি প্রায়ই বন্ধ থাকছে। এ অবস্থায় বর্তমান ভূগর্ভস্থ পদ্ধতির পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণ অংশে উন্মুক্ত খননের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।

বিসিএমসিএলের তথ্য অনুযায়ী, খনির উত্তরাংশের আয়তন ২ দশমিক ৮১ এবং দক্ষিণাংশের আয়তন ২ দশমিক ২২ বর্গকিলোমিটার। দুই অংশ মিলিয়ে সম্ভাব্য উন্মুক্ত খনন এলাকার আয়তন ৫ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার। উত্তরাংশে মজুত ১৩ কোটি ৫০ লাখ এবং দক্ষিণাংশে ৫ কোটি ৪০ লাখ টন কয়লা। মোট ১৮ কোটি ৯০ লাখ টন মজুদের ৯০ শতাংশ উত্তোলন করা যাবে ধরে উত্তোলনযোগ্য কয়লার পরিমাণ ধরা হয়েছে ১৭ কোটি টন।

কোম্পানির উপস্থাপনায় বলা হয়েছে, দুই অংশে কয়লার স্তর প্রায় ১১৮ থেকে ২৫৬ মিটার গভীরতায় রয়েছে। ভূগর্ভস্থ পদ্ধতিতে মোট মজুদের মাত্র ১০-১২ শতাংশ উত্তোলন সম্ভব হতে পারে। উন্মুক্ত পদ্ধতিতে প্রায় ৯০ শতাংশ কয়লা উত্তোলনের সম্ভাবনা উল্লেখ করা হয়েছে।

উত্তরাংশে কয়লার তুলনায় ওপরের মাটি অপসারণের অনুপাত ৩ দশমিক ৩:১ এবং দক্ষিণাংশে ৬ দশমিক ৩:১। কোম্পানির মতে, এ অনুপাত তুলনামূলক কম হওয়ায় উত্পাদন ব্যয় কম হতে পারে। দুর্ঘটনা ও খননঝুঁকিও তুলনামূলক কম। আর দেশীয় ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভরতা ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমবে। পাশাপাশি কাওলিন, ক্লে ও সিলিকা স্যান্ড পাওয়া যেতে পারে, যা সিরামিক, মৃিশল্প ও কাচশিল্পে ব্যবহারযোগ্য।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘স্থিতির মধ্যেও স্থবির উন্নয়ন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ নেই। রাজপথে নেই হরতাল, অবরোধ কিংবা আন্দোলনের তাণ্ডব। স্বাভাবিক ছন্দে চলছে কর্মদিবস। কিন্তু রাজনীতির এই স্থিতিশীলতার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচিতে। নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাস পার হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চাকা যেন ঘুরতেই চাইছে না।

জুলাই-আগস্ট-অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার নেমে এসেছে মাত্র ১.৮৫ শতাংশে। ব্যয় হয়েছে ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। গত পাঁচ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এটি সর্বনিম্ন। শুধু তা-ই নয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ তিন অর্থবছরের তুলনায়ও বর্তমান বাস্তবায়ন হার প্রায় অর্ধেক বা তারও কম।

অর্থাৎ রাজনৈতিক অস্থিরতা নেই, রাজপথে কর্মসূচি নেই, প্রশাসনের সামনে বড় ধরনের আন্দোলন নেই- তারপরও উন্নয়ন ব্যয়ের গতি বাড়েনি। প্রশ্ন উঠছে- রাজনৈতিক বাধা না থাকলেও উন্নয়ন আটকে আছে কোথায়?

পাঁচ বছরের তুলনায় তলানিতে: পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপির আকার ৩ লাখ ৮ হাজার ৯২৪ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। এর বিপরীতে জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৫ হাজার ৭০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

তুলনাটি আরো স্পষ্ট। ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল ৩.৮৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩.৮৪ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে দাঁড়ায় ২.৫৭ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময়ে বাস্তবায়নের হার ছিল ২.৩৯ শতাংশ।

আর চলতি অর্থবছরে তা নেমে এসেছে ১.৮৫ শতাংশে। অর্থাৎ মাত্র দুই বছরের ব্যবধানে অর্থবছরের শুরুতে এডিপি বাস্তবায়নের হার প্রায় এক-চতুর্থাংশ কমেছে।

শুধু আগস্টের হিসাবেও চিত্রটি হতাশাজনক। ওই মাসে ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৫৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা, যা এডিপির মাত্র ১.১৬ শতাংশ। গত বছরের আগস্টে ব্যয় হয়েছিল ৪ হাজার ৭০ কোটি ১৮ লাখ টাকা বা ১.৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে আগস্টের ব্যয় কমেছে ৪৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

শুধু টাকা খরচ নয়, এর অর্থ কী?

এডিপি বাস্তবায়নের হার কমে যাওয়াকে কেবল সরকারি হিসাবের একটি সংখ্যা হিসেবে দেখলে সমস্যাটির গভীরতা বোঝা যাবে না। উন্নয়ন বাজেটের টাকা খরচ মানে শুধু সরকারের ব্যয় নয়; এর সাথে যুক্ত থাকে নির্মাণকাজ, ঠিকাদারি, শ্রমের চাহিদা, সিমেন্ট-রড-পাথরসহ নির্মাণসামগ্রীর বাজার, পরিবহন, স্থানীয় ব্যবসা ও কর্মসংস্থান।

ফলে বছরের শুরুতে উন্নয়ন ব্যয়ের গতি কমে গেলে তার প্রভাব অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে এমন সময়ে, যখন বেসরকারি বিনিয়োগও দুর্বল এবং অর্থনীতিতে চাহিদার চাপ রয়েছে, তখন সরকারি উন্নয়ন ব্যয় অর্থনৈতিক কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হতে পারে। সেই জায়গাতেই যদি সরকারি ব্যয় থমকে যায়, তাহলে প্রবৃদ্ধির ওপর চাপ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক।

বৈদেশিক অর্থায়নে সবচেয়ে বড় ধীরগতি

এডিপির ১ হাজার ১৭২টি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ৯৮৬টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২৩টি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, ১০৯টি কারিগরি সহায়তা, ৯টি উন্নয়ন সহায়তা ব্লক এবং ৪৫টি নিজস্ব অর্থায়নের প্রকল্প। অর্থায়নের উৎসের দিকে তাকালে ধীরগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ স্পষ্ট হয়। জিওবি বা সরকারি তহবিল থেকে জুলাই-আগস্টে ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৪৯ কোটি টাকা, যা সংশ্লিষ্ট বরাদ্দের ২.১৩ শতাংশ। কিন্তু প্রকল্প ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তা থেকে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা, অর্থাৎ বরাদ্দের মাত্র ১.২২ শতাংশ।

সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ব্যয় হয়েছে ৩২৩ কোটি টাকা বা ৩.৬২ শতাংশ। অর্থাৎ এডিপির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে বৈদেশিক সহায়তা ব্যবহারে।

এর পেছনে দাতা সংস্থার শর্ত, অর্থছাড়ের প্রক্রিয়া, প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন, নতুন সরকারের অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দীর্ঘসূত্রতা- সবকিছুই ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বণিক বার্তা

‘বৈশ্বিক সংকট বা আকস্মিক ধাক্কা সামাল দিতে জরুরি মজুদ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বাংলাদেশে’—এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে গতকাল এলপি গ্যাসের দাম ১২ কেজির দাম ২৫২ টাকা বেড়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পণ্য চাল ও গম। বর্তমানে এ দুই খাদ্যশস্যের সরকারি মজুদ রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। এ মজুদ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আপৎকালীন পরিস্থিতি মোকাবেলার পাশাপাশি বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকারকে বড় সহায়তা দেয়। কিন্তু বৈশ্বিক সংকট কিংবা আকস্মিক ধাক্কা সামাল দিতে দেশের জ্বালানি খাতে জরুরি মজুদ এবং দরকারি অবকাঠামো গড়ে তোলা যায়নি। বিশেষত আমদানিনির্ভর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ক্ষেত্রে এ ধরনের মজুদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা। জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় ‘বাফার’ সুবিধা না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও ভোক্তাকে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি পণ্য যেকোনো দেশের কৌশলগত মজুদ। অনেক জ্বালানি পণ্যের জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববাজারের ওপর নির্ভরশীল। ফলে দেশে মজুদ অবকাঠামো অত্যন্ত জরুরি। অতীতের বিভিন্ন সরকার এলএনজি ও এলপিজি স্টোরেজ সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা বললেও আদতে তা করতে পারেনি। যে কারণে বিশ্ববাজারের চলমান সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে দেশের বাজারে পণ্যের দাম বাড়িয়ে। এলএনজি ও এলপিজির ক্ষেত্রে দেড়-দুই মাসের মজুদ থাকলে সরবরাহ সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির মতো পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসার সুযোগ ছিল।

দেশে জ্বালানি খাতে বড় ধরনের সংকট এখন এলপিজিতে। সরকারি আমদানি তথ্যে চাহিদা অনুযায়ী আমদানি করা হলেও বাজারে পণ্যটি তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকটের জন্য অপারেটর থেকে রিটেইলার বিভিন্ন অভিযোগের কথা জানালেও এমন সংকটের পেছনে সরকারি মজুদ ব্যবস্থা না থাকাকেই বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করছেন বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীরা।

দেশে এক লাখ টন এলপিজি স্টোরেজ সক্ষমতা গড়ে তোলার কথা বলা হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) দীর্ঘদিন ধরে এ অবকাঠামো গড়ে তোলার কথা বললেও আদতে তা করা যায়নি। এমনকি সংস্থাটি এ ধরনের মজুদ সক্ষমতা গড়ে তোলার জন্য দেশের বেশ কয়েকটি এলাকায় জমি বরাদ্দ পেলেও বাস্তবে কোনো কাজ শুরু হয়নি।

দেশে এ ধরনের সক্ষমতা গড়ে তোলা গেলে সংকট পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় মজুদ থেকে বেসরকারি অপারেটরদের সরবরাহ করা গেলে বাজারে এলপিজির সংকট স্বাভাবিক নিয়মে কেটে যেত। বেসরকারি আমদানিকারক ও সরবরাহকারীদের পক্ষে বাজারের ৯৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণের সুযোগ থাকত না।

দেশে গতকাল এলপি গ্যাসের দাম ১২ কেজির দাম ২৫২ টাকা বেড়েছে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন জানিয়েছে, বিশ্ববাজারে পণ্যটির দাম ও জাহাজ ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় এ দাম সমন্বয় করা হয়েছে। তবে বন্ধ হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে কিংবা বাব আল মানদেব প্রণালিতে অচালাবস্থা কতদিন চলবে, কিংবা আদৌ এ সংকট দূর না হলে দাম বাড়িয়ে কতদিন বাজার স্বাভাবিক রাখা যাবে তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সংসদীয় কমিটির বৈঠক: ২২ ব্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসান আড়াই লাখ কোটি টাকা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ২২টি ব্যাংক লোকসানে রয়েছে। এগুলোর মোট লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা। তারল্যসংকট সামাল দিতে চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১২টি ব্যাংককে জরুরি সহায়তা হিসেবে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের (ব‌্যাংক) বর্তমান অবস্থা নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দেওয়া প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনে গতকাল রোববার এই সংসদীয় কমিটির বৈঠক হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠান (ব্যাংক) খাতের বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন কমিটির সদস্যরা। একই সঙ্গে পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের পরিচালন মুনাফার পরিমাণ ৭৮৯ কোটি টাকা হলেও নিট ক্ষতি ৮ হাজার ৪১৭ কোটি টাকা। ব্যাংক খাতের সম্পদ ও মূলধনের বিপরীতে আয়ও নেতিবাচক অবস্থায় রয়েছে। মার্চ, ২০২৬ ভিত্তিতে ব্যাংক খাতের সম্পদের ওপর উপার্জন হার ঋণাত্মক ১.০৩ শতাংশ এবং মূলধনের ওপর উপার্জন হার (ROE) ঋণাত্মক ৪৪.২২ শতাংশ নির্ণীত হয়েছে।

লোকসানে থাকা ২২টি ব্যাংকের মধ্যে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চারটি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—জনতা, অগ্রণী, রূপালী ও বেসিক ব্যাংক। দুটি বিশেষায়িত ব্যাংক হলো—বিকেবি ও রাকাব। ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক হলো—এবি ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স, এক্সিম, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, আইসিবি ইসলামিক, আইএফআইসি, ইসলামী, মেঘনা, ন্যাশনাল, গ্লোবাল ইসলামী, পদ্মা, সীমান্ত, সোশ্যাল ইসলামী, দি প্রিমিয়ার ও ইউনিয়ন এবং একটি বিদেশি ব্যাংক—ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান। এই ২২ ব‌্যাংকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা।

ব্যাংকগুলোর লোকসানের কারণও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ‘উচ্চ শ্রেণিকৃত ঋণ, প্রয়োজনীয় প্রভিশনিং, মূলধন ঘাটতি এবং দুর্বল সম্পদমান ব্যাংকগুলোর উপার্জন ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফলে পরিচালন পর্যায়ে মুনাফা অর্জিত হলেও প্রভিশন, অন্যান্য ব্যয় ও সম্ভাব্য ঋণজনিত ক্ষতি সমন্বয়ের পর অনেক ব্যাংকে নিট ক্ষতি হচ্ছে।

১২ ব্যাংককে ৮৪ হাজার ৯৪৬ কোটি টাকা সহায়তা

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ল্যান্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে ১২টি ব্যাংককে জরুরি তারল্য সহায়তা বা ডিমান্ড লোন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৪ হাজার ৯৪৫ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এর মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংককে ১৫ হাজার ৮১০ কোটি ৩২ লাখ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংককে ১০ হাজার ৮৪২ কোটি ৭৯ লাখ, এক্সিম ব্যাংককে ১২ হাজার ১০ কোটি ২৫ লাখ, ন্যাশনাল ব্যাংককে ১০ হাজার ৫৬৮ কোটি ৩৫ লাখ, ইউনিয়ন ব্যাংককে ৫ হাজার ৪২১ কোটি ১৬ লাখ এবং গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংককে ৩ হাজার ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট শেষে ব্যাংক ব্যবস্থার মোট তরল সম্পদ—নগদ ও সরকারি সিকিউরিটিজসহ; দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫ লাখ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের আগস্ট শেষে এর পরিমাণ ছিল ৩ দশমিক ১ লাখ কোটি টাকা। তবে ব্যাংক ব্যবস্থার এই তরল সম্পদের বণ্টন সুষম নয়। অধিকাংশ প্রচলিত ধারার ব্যাংকে পর্যাপ্ত তরল সম্পদ থাকলেও কিছু প্রচলিত ধারার ব্যাংক এবং অধিকাংশ ইসলামী ধারার ব্যাংকে তারল্য ঘাটতি রয়েছে। এ তরল সম্পদের সিংহভাগ সরকারি সিকিউরিটিজ—ট্রেজারি বিল ও বন্ডে; বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে।

দেশ রূপান্তর

‘প্রশ্নের মুখে শিক্ষকতা’—এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, শিক্ষকদের বলা হয় মানুষ গড়ার কারিগর। অর্থসম্পদে পিছিয়ে থাকলেও একসময় সামাজিক মর্যাদায় তারা ছিলেন সবার ওপরে। বাবা-মায়ের পর শিক্ষকের অবস্থানএমন ধারণাই ছিল সমাজে। আর্থিকভাবে গ্রামের সবচেয়ে অসচ্ছল মানুষটিও শিক্ষক পরিচয়ে পেতেন আলাদা সম্মান। শিক্ষকের সামনে শিক্ষার্থী তো বটেই, অভিভাবকরা এবং সমাজের অন্য মানুষরাও মাথানত করতেন। এখন বদলে গেছে সে চিত্র। শিক্ষকতার সঙ্গে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা যেমন রয়ে গেছে, তেমনি শিক্ষকদের একটি অংশ জড়িয়ে পড়েছেন কোচিংয়ে, দলীয় রাজনীতিতে, নিয়োগ-বাণিজ্যে ও নানা অনিয়মে। শিক্ষকতার পেশাগত মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

আজ ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছরে শিক্ষক দিবসের প্রতিপাদ্য ‘স্ট্যান্ডিং উইথ টিচার্স : সিক্সটি ইয়ার্স অব প্রোটেকটিং দ্য প্রফেশন, অ্যাডভান্সিং ইটস স্ট্যাটাস, শেপিং আওয়ার ফিউচার্স’। দিবসটি উপলক্ষে আজ দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ দেওয়া হবে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সম্মাননা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষকদের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ তুলে দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শিক্ষাবিদদের অভিমত, শিক্ষকতার মর্যাদা কমার দায় কেবল রাষ্ট্রের বা সমাজের নয়; শিক্ষকদের একাংশের কর্মকা-ও এর জন্য দায়ী। রাজনৈতিক পরিচয়কে পেশাগত জীবনে ব্যবহার, দলীয় বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এবং শিক্ষাকে বাণিজ্যিক কর্মকান্ডে পরিণত করার প্রবণতা শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্কের ঐতিহ্যগত জায়গাটিকে দুর্বল করেছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের পর এ পরিস্থিতি প্রকটতর হয়ে ওঠে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন, অপমান-হেনস্তা এবং জোর করে পদত্যাগ করানোর ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্টের পর ৩১ আগস্ট পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১৫০ জন শিক্ষককে জোর করে পদত্যাগ করানো হয়। কোথাও শিক্ষকদের ঘেরাও করে পদত্যাগপত্রে সই করানো হয়েছে, কোথাও তাদের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে শিক্ষকদের বাড়িতেও পদত্যাগের দাবি নিয়ে যাওয়া হয়েছে এমন ঘটনাও আছে।

সরকার পতনের পর দেশের প্রায় সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদত্যাগ করেন বা চাপের মুখে সরে যেতে বাধ্য হন। এরপর শিক্ষক ও প্রশাসকদের নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠে, পদত্যাগের দাবি ওঠে ও তাদের রাজনৈতিক পরিচয়কে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। এ কারণে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকরা তদন্ত, অব্যাহতি বা সাময়িক বরখাস্তের মুখে পড়েন।

শুধু তাই নয়, অন্তর্র্বর্তীকালে নিয়োগপ্রাপ্ত প্রায় সব উপাচার্যকে কারণ না দেখিয়েই পরিবর্তন করে বিএনপি সরকার। চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম নিয়োগ পাওয়ার পর এগারো দিন ধরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে অবস্থান করছেন। ক্যাম্পাসে আন্দোলনের কারণে এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে উপাচার্যের চেয়ারে বসতে পারেননি তিনি। জানা গেছে, সার্কিট হাউজ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন নতুন উপাচার্য।

সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করেছেন চুয়েট শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সর্বাত্মক কর্মবিরতি পালন করছেন। কার্যত অচল চুয়েট।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) স্থাপত্য বিভাগে শিক্ষক-সংকট নিরসন ও ১৬ জন শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে প্রায় আট ঘণ্টা অবরুদ্ধ ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান। পরে গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবরের হস্তক্ষেপ ও আশ্বাসের পর রাত ৯টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। আন্দোলন চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও বাদানুবাদ হয় শিক্ষার্থীদের; এক নারী শিক্ষার্থী উপাচার্যের কোটের টাই ধরে টানও দিয়েছিলেন।

শিক্ষকতার মর্যাদাসংকটের পেছনের গল্প আরও পুরনো। শিক্ষকতার সঙ্গে কোচিং ও প্রাইভেট টিউশনের সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ২০১২ সালে শিক্ষকদের কোচিংবাণিজ্য বন্ধে নীতিমালা করা হলেও এক যুগের বেশি সময় পরও তা বাস্তবায়িত হয়নি। ২০১৭ সালে দুর্নীতি দমন কমিশনের এক তদন্তেও কোচিংবাণিজ্যের বিষয়টি উঠে এসেছিল। ঢাকার ২৪টি সরকারি স্কুলের ৫২২ শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে টাকার বিনিময়ে বদলি এড়িয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ পেয়েছিল দুদক, তাতে কোচিং ব্যবসার কথাও ছিল।

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষার অবমূল্যায়নের সঙ্গে শিক্ষকের সামাজিক মর্যাদাও কমেছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তার অভাবে অনেক শিক্ষক প্রাইভেট টিউশন ও কোচিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন, যা শিক্ষকতার সামাজিক অবস্থানকে প্রভাবিত করছে।’ তিনি বলেন, ‘শিক্ষকদের রাজনৈতিক আনুগত্যকে নিয়োগ ও পেশাগত জীবনের সঙ্গে যুক্ত করার প্রবণতা শিক্ষকসমাজকে বিভক্ত করেছে।’

বাংলাদেশে শিক্ষকতার মর্যাদা নিয়ে গবেষণাতেও একই ধরনের সংকটের কথা বলা হয়েছে। ২০১৭ সালের একটি গবেষণায় বলা হয়, শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে কম সামাজিক মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বীকৃতি পাচ্ছেন এবং শিক্ষকতার প্রেরণার জায়গাতেও পরিবর্তন এসেছে। এতে শিক্ষা খাতে রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্বল জবাবদিহির বিষয়টিও আলোচিত হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘অটোরিকশায় রক্তাক্ত মহাসড়ক’। খবরে বলা হয়, নিরাপদ সড়কের আশাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দেশের ২২ মহাসড়ককে রীতিমতো রক্তাক্ত করে চলেছে অবৈধ অটোরিকশা। যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য বলছে, এসব অবৈধ যানবাহনের কারণে মাত্র ছয় মাসে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৭৩৩ জন। গত সেপ্টেম্বরে ৪৪২ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছে ৪২৩ জন। তার আগে আগস্ট মাসে ৪২৮ জন, জুলাই মাসে ৪১৬ জন, জুন মাসে ৪৩৮ জন, মে মাসে ৬২২ জন, এপ্রিল মাসে ৪০৪ জন নিহত হয়েছে। দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, চালকদের অদক্ষতা, লাইসেন্সবিহীন চলাচল এবং ট্রাফিক আইনের তোয়াক্কা না করার প্রবণতা মহাসড়ককে করে তুলেছে রক্তাক্ত ও চরম ঝুঁকিপূর্ণ। আইনের কঠোর প্রয়োগ ও দৃশ্যমান অকার্যকারিতার সুযোগে হাইওয়েগুলোতে চলছে এই অবৈধ বাহনগুলোর অপ্রতিরোধ্য রাজত্ব, যা গোটা যোগাযোগব্যবস্থাকেই চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে ঠেলে দিয়েছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ৪৪২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪২৩ জন নিহত হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ৬৭৪ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৭৩ জন নারী ও ৬১ জন শিশু।

খোঁজ নিয়ে ধারণা পাওয়া গেছে, মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছাড়াও বেড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ যন্ত্রচালিত নছিমন ও করিমনের চলাচল। ব্যাটারিচালিত রিকশার দাম কম ও ভাড়া বেশি হওয়ায় অনেকে এটিকে নতুন ব্যবসা হিসেবে নিয়েছেন। এতে সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে দেশের মূল্যবান সম্পদ বিদ্যুৎও। এ ছাড়া মহাসড়কে তিন চাকার ব্যাটারিচালিত রিকশা-অটোরিকশা চলাচলের কারণে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোটবড় দুর্ঘটনা। এতে প্রাণহানিসহ আহতের ঘটনা ঘটছে। অনেকে পঙ্গুত্ববরণ করে অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছে। দেশে জেলা শহরের মধ্যবর্তী মহাসড়কসহ শহরের ভিতর ও গ্রামের রাস্তায় অবাধে অটোরিকশা চলাচল করছে। বিভিন্ন সূত্রমতে, তিন চাকার যানবাহনের গতি কম থাকে, মহাসড়কে হুটহাট ব্রেক করে যাত্রী তুলতে থাকে। ফলে ঘটে দুর্ঘটনা। অভিযোগ রয়েছে, ছোটবড় গতিশীল গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলের চালকের সামনে চলমান অবস্থায় হঠাৎই অটোরিকশা দৃশ্যমান হয়, তখন আর নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেন না গাড়ির চালকেরা। তখন মুহূর্তেই ঘটে যায় দুর্ঘটনা। তা ছাড়া বেশির ভাগ অটোচালকের রাস্তার সিগন্যাল কিংবা গাড়ি চালনার নিয়মকানুন সম্পর্কে সঠিক ধারণা নেই। রাস্তায় হুটহাট ব্রেক করাসহ ইন্ডিকেটর ব্যবহার না করে হঠাৎ যেদিক-সেদিকে অটো ঘুরিয়ে থাকেন তাঁরা। এতে করে ঘটে যায় অঘটন।

গতকাল রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পাঠানো এক বিবৃতি থেকে জানা গেছে, ১৫৪টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, সেপ্টেম্বরের দুর্ঘটনার মধ্যে ১৭৮টি বা ৪০ দশমিক ২৭ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে ঘটেছে। জাতীয় মহাসড়কে ১৪৫টি, গ্রামীণ সড়কে ৫৬টি এবং শহরের সড়কে ৬৩টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ১৬৮টি দুর্ঘটনা বা ৩৮ শতাংশ ঘটেছে যানবাহনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে। ১০৯টি বা ২৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ দুর্ঘটনায় পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৯৮টি বা ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ৬১টি বা ১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ যানবাহনের পেছনে আঘাত এবং ছয়টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে। যানবাহনভিত্তিক নিহতের হিসাবে মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ১৩৯ জন, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৮৮ জন, বাসের যাত্রী ২৬ জন, মাইক্রোবাস-প্রাইভেট কার-অ্যাম্বুলেন্স-জিপের যাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-ট্রলির আরোহী ১৯ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৮ জন এবং বাইসাইকেল আরোহী ছয়জন নিহত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির এক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশে চলাচলকারী ৬০ লাখ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার কারণে সংগঠিত সড়ক দুর্ঘটনায় দেশের প্রতিটি উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন গড়ে তিন থেকে পাঁচজন জন ভর্তি হচ্ছে। প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে ১৫ থেকে ১৭ জন, প্রতিটি বিভাগীয় হাসপাতালে আহত রোগী ভর্তি হচ্ছে ২০ জন।

এ প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ছোট যানবাহন। তাই, হতাহতের সংখ্যা এক বা দুইজন হারে হয় বলে গণমাধ্যমের কাছে এগুলো অতটা গুরুত্ব পায় না। সারা দেশে সংগঠিত ঘটনার মাত্র ১০ শতাংশ সংবাদমাধ্যমে স্থান পায়। দেশের সরকারি-বেসরকারি ৪ হাজার হাসপাতালে প্রতি বছর গড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগী ভর্তি হচ্ছে। যারা ভর্তি হয় না, তাদের রেকর্ড থাকে না। তিনি বলেন, সরকারকে কঠোর হতে হবে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে শক্ত অবস্থানে থাকতে হবে। টাকা দিয়ে ম্যানেজ হওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকতে হবে। মহাসড়কে অটোরিকশা, নছিমন, করিমন চলাচল একেবারে বন্ধ করতে হবে।