রাজধানীর রামপুরা এলাকার চিহ্নিত চাঁদাবাজি ও পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী মো. আল-আমিন ওরফে পিচ্চি আল-আমিনের আরও তিন সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। এর আগে আল-আমিনের দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এসআরবি জানিয়েছে, পিচ্চি আল-আমিনের গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠি জেলায়। তিনি ওই অঞ্চলের সমমনাদের ঢাকায় এনে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতো। গতকাল বিকালে কাওরান বাজারস্থ এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এমনটাই জানিয়েছেন এসআরবি-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন।
লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আমরা আল- আমিনের মোট পাঁচ সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছি। তাদের চারজনের বাড়িই ঝালকাঠি জেলায় এবং একজনের বাড়ি বরগুনাতে। আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখলাম, আল-আমিন তার সমমনা বা সে যাদেরকে সঠিক মনে করেছে তাদের ঢাকায় এনে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করাতো। আমরা ২০১১ সাল থেকে প্রতিটি সরকারের আমলে তার নামে মামলা পেয়েছি।
এসআরবি’র আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গত ১লা অক্টোবর দুপুর দেড়টায় রামপুরা থানাধীন টিভি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিচ্চি আল-আমিন ও তার ২ সহযোগী কামাল উদ্দিন এবং খাইরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি বিদেশি রিভলবার এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত পিচ্চি আল-আমিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে একইদিন সন্ধ্যা ৬টার সময় রাজধানীর রামপুরা থানাধীন কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তার অপর ২ জন সহযোগী মো. সোহাগ হাওলাদার ওরফে মামুন এবং মো. রিফাত ইসলামকে ২টি দেশীয় অস্ত্র (লোহার তৈরি ছুরি) সহ গ্রেপ্তার করা হয়। আল-আমিনকে জিজ্ঞাসাবাদ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, তার অন্যতম ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কাওছার খানের কাছে আরও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে।
ওই তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় কাওছারের অবস্থান শনাক্ত করে ৩রা অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রামপুরা থানাধীন কুঞ্জবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে খিলগাঁও থানাধীন ভূঁইয়াপাড়া জনৈক শফিকের টিনশেড ঘরের ভেতর থেকে একইদিন রাত সাড়ে ৮টায় ১টি বিদেশি রিভলবার, ১টি বিদেশি পিস্তল এবং ১টি ম্যাগাজিনসহ ৯ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, এই পিচ্চি আল-আমিন সন্ত্রাসী ইয়াছিন খান পলাশ ওরফে কাইল্লা পলাশ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তার নামে রাজধানীর খিলগাঁও, রামপুরা, হাতিরঝিল ও গুলশান থানায় বিস্ফোরকদ্রব্য আইন, হত্যা ও অস্ত্র মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তবে গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামিদের নামে থানায় কোনো মামলা পাওয়া যায়নি। এদিকে মোহাম্মদপুরে চার্চ থেকে ঘণ্টা চুরির ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছে এসআরবি। তবে ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এসআরবি’র পক্ষ থেকে বলা হয়, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এসআরবি-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান বলেন, আমরা এ বিষয়ে যারা জড়িত তাদের ধরার জন্য অভিযান পরিচালনা করছি।
